480
ঢাকাবুধবার , ১৯ আগস্ট ২০২৬
  1. অনুসন্ধানী ও বিশেষ প্রতিবেদন
  2. অপরাধ-আইন ও আদালত
  3. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প
  4. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প-ব্যাংক-বীমা-নন ব্যাংক
  5. আইটি, টেলিকম ও ই-কমার্স
  6. আবাসন-ভূমি-রাজউক-রিহ্যাব
  7. উদ্যোক্তা-জীবনী
  8. করপোরেট ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
  9. কৃষি, খাদ্য ও পরিবেশ
  10. গণমাধ্যম
  11. গৃহায়ন ও গণপূর্ত
  12. জনশক্তি ও পর্যটন
  13. জনসংযোগ-পদোন্নতি ও সম্মাননা
  14. জাতীয়
  15. দুর্ঘটনা-শোক-দুর্যোগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এফওসি সুবিধায় ফাল্গুন গ্রুপসহ ১৪ প্রতিষ্ঠানের জালিয়াতি

https://www.uddoktabangladesh.com/wp-content/uploads/2024/03/aaaaaa.jpg
বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকা:
আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১:২৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বিশেষ প্রতিবেদক: রপ্তানি খাতকে সহায়তা দিতে চালু করা শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির ফ্রি অব কস্ট বা এফওসি সুবিধা এখন জালিয়াতি ও রাজস্ব ফাঁকির কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রামে এফওসি সুবিধায় কাঁচামাল আমদানি করা প্রায় ৪০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্তত ১৪টির বিরুদ্ধে জাল নথি ব্যবহার এবং শুল্কমুক্ত কাঁচামাল স্থানীয় বাজারে বিক্রির অভিযোগ পেয়েছে কাস্টমস।

নথি পর্যালোচনায় উঠে এসেছে ভয়ংকর চিত্র। নগরীর স্যানটেক্স নিটওয়্যার্স লিমিটেড গত দুই বছরে চারটি ভুয়া প্রত্যয়নপত্র ব্যবহার করে প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যের ৩৩২ টন কাপড় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স বাতিল এবং ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযোগ পুরোপুরি স্বীকার না করলেও আইনের ব্যত্যয় ঘটলে শাস্তি মাথা পেতে নেয়া হবে বলে জানান স্যানটেক্স নিটওয়্যার্সের কমার্শিয়াল ম্যানেজার আবদুল করিম।

আরেক প্রতিষ্ঠান ফোকাস অ্যাপারেলস বিডি লিমিটেডের বিরুদ্ধে অভিযোগ আরও স্পষ্ট। আল ইউসরা টেক্সটাইল লিমিটেডের নামে একটি ভুয়া সাবকন্ট্রাক্ট চুক্তিপত্র ব্যবহার করে প্রায় ১৯ টন আমদানিকৃত কাপড় কারখানা থেকে বের করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। গত ২১ জুলাই সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে কাস্টমস কর্মকর্তারা এসব অনিয়মের প্রমাণ পান। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

অনুসন্ধানে সিইপিজেডভিত্তিক ফাল্গুন গ্রুপের প্রতিষ্ঠান জেএমএস গার্মেন্টস নিয়েও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বিপুল ঋণের বোঝায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা কারখানাটিতে সম্প্রতি তদন্ত চালায় কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। তদন্তে নথিপত্রের সঙ্গে মজুতের ব্যাপক অসঙ্গতি পাওয়া যায়। নথি অনুযায়ী, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামালের মধ্যে গুদামে পাওয়া যায়নি প্রায় ৯ হাজার টন ফেব্রিক্স, ৫ হাজার টনের বেশি এক্সেসরিজ এবং ৬৭ টন প্যাকেজিং সামগ্রী। অভিযোগ উঠেছে, এসব কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

অনিয়মের অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। প্রতিষ্ঠানটি রপ্তানি আয়ের ১১৮ কোটি টাকা দেশে ফেরত না আনায় এক্সিম ব্যাংক ওই অর্থ বাধ্যতামূলক ঋণে রূপান্তর করেছে। এর আগে ২০২০ সালেও শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল, যা বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। একই গ্রুপের আরেক প্রতিষ্ঠান মডিসড গার্মেন্টসের বিরুদ্ধেও শুল্ক ও কর ফাঁকির অভিযোগ তুলেছে বন্ড কমিশনারেট। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

চট্টগ্রাম কাস্টমস ও বন্ড কমিশনারেটের সহকারী কমিশনার সুদীপ্ত মন্ডল গৌরব জানিয়েছেন, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ফাল্গুন গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের কারণে সরকারের প্রায় ৭২২ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ব্যাখ্যাও তলব করা হবে। বর্তমানে চট্টগ্রামে ৪০ থেকে ৪২টি প্রতিষ্ঠান এফওসি সুবিধায় কাঁচামাল আমদানি করছে। এর মধ্যে অন্তত ১১টির বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে কাস্টমস। এফওসি সুবিধার অপব্যবহার ঠেকাতে স্টক যাচাই, তদারকির মাধ্যমে কাপড় কাটা এবং উৎপাদন পর্যবেক্ষণসহ ১০টি নতুন কমপ্লায়েন্স শর্ত আরোপ করা হয়েছে।