ফুজিয়ানের কাগজে ২৪.৯০ বর্গমিটারের ব্যাক বোর্ড
২৩৬ টন কাঁচামাল অবৈধ অপসারণের অভিযোগ
অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক : রপ্তানি পণ্যের সঙ্গে ব্যবহৃত কাঁচামালের স্বাভাবিক সম্পর্ক থাকার কথা। কিন্তু পাবনার ঈশ্বরদী ইপিজেডে গার্মেন্টস এক্সেসরিজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফুজিয়ান এক্সপোর্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ক্ষেত্রে সেই হিসাবেই দেখা দিয়েছে বড় ধরনের অসঙ্গতি। প্রতিষ্ঠানের ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন (ইউডি), রপ্তানি-সংক্রান্ত নথি ও কাঁচামাল ব্যবহারের হিসাব পর্যালোচনা করে অস্বাভাবিক সাইজ, ওজন ও ব্যবহারের তথ্য পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন রাজশাহী ভ্যাট কমিশনারেটের তদন্ত কমিটি।
তদন্তে এমনও তথ্য পাওয়া গেছে, অন্য একই ধরনের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানে প্রতি পিস ব্যাক বোর্ডের গড় সাইজ যেখানে মাত্র শূন্য দশমিক ১০৭ বর্গমিটার, সেখানে ফুজিয়ানের বিভিন্ন নথিতে একই পণ্যের সাইজ দেখানো হয়েছে ১ দশমিক ১৮ থেকে সর্বোচ্চ ২৪ দশমিক ৯০ বর্গমিটার পর্যন্ত।
তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এসব সাইজ তৈরি পোশাকে বাস্তবে ব্যবহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের সন্দেহ, অস্বাভাবিক সাইজ ও কাঁচামাল ব্যবহারের হিসাব দেখিয়ে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল রপ্তানি পণ্যে ব্যবহার না করে অবৈধভাবে অপসারণ এবং খোলাবাজারে বিক্রির সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে ফুজিয়ান এক্সপোর্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে ২৬ কোটি ৬৩ লাখ ৫ হাজার ৭৫৬ টাকা শুল্ককর ফাঁকির দাবিতে কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করেছে রাজশাহী ভ্যাট কমিশনারেট। একই সঙ্গে নির্ধারিত হারের চেয়ে কম মূল্য সংযোজনের অভিযোগে আরও ১ কোটি ৫৯ লাখ ১১ হাজার ৩৬২ টাকা শুল্ককর ফাঁকির দাবি করা হয়েছে।
দুই অভিযোগ মিলিয়ে সম্ভাব্য শুল্ককর ফাঁকির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮ কোটি ২২ লাখ ১৭ হাজার ১১৮ টাকা। তবে প্রতিষ্ঠানটি অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, তারা সব কাঁচামাল রপ্তানিতে ব্যবহার করেছে এবং রপ্তানির অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পেয়েছে।
২৩৬ টন কাঁচামাল গেল কোথায় : রাজশাহী ভ্যাট কমিশনারেটের নিরীক্ষা ও তদন্ত-সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ফুজিয়ান এক্সপোর্ট ইন্ডাস্ট্রিজের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। তদন্তে হিসাব করা হয়েছে, ওই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি মোট ২ লাখ ৩৬ হাজার ৮৩৯ কেজি—অর্থাৎ প্রায় ২৩৬ মেট্রিক টন কাঁচামাল অবৈধভাবে অপসারণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এসব কাঁচামালের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৪ কোটি ৮ লাখ ৯৩ হাজার ৮০৫ টাকা। এর বিপরীতে প্রযোজ্য শুল্ককর দাঁড়িয়েছে ২৬ কোটি ৬৩ লাখ ৫ হাজার ৭৫৬ টাকা।
রাজস্ব কর্মকর্তাদের প্রশ্ন তাই সরাসরি—বন্ড সুবিধায় আমদানি করা বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল যদি সত্যিই রপ্তানি পণ্যে ব্যবহার হয়ে থাকে, তাহলে তার উৎপাদন ও ব্যবহারসংক্রান্ত যথাযথ হিসাব কোথায়?
ব্যাক বোর্ডে ২৩৩ গুণের বেশি পার্থক্য : ব্যাক বোর্ড মূলত কাগজজাত একটি উপকরণ, যা তৈরি পোশাক ভাঁজ ও প্যাকেজিংয়ের সময় পোশাকের আকৃতি ঠিক রাখতে ব্যবহৃত হয়। সাধারণত রপ্তানিযোগ্য পোশাকের আকার ও প্যাকেজিংয়ের প্রয়োজন অনুযায়ী এর সাইজ নির্ধারিত হয়। তদন্ত কমিটি বিভিন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের ইউডি ও সংশ্লিষ্ট নথি তুলনা করে দেখেছে, একই ধরনের পণ্যে প্রতি পিস ব্যাক বোর্ডের গড় সাইজ প্রায় শূন্য দশমিক ১০৭ বর্গমিটার।
কিন্তু ফুজিয়ানের নথিতে পাওয়া গেছে—
১ দশমিক ১৮ বর্গমিটার
১ দশমিক ৪৫ বর্গমিটার
১ দশমিক ৬৭ বর্গমিটার
১ দশমিক ৮৯ বর্গমিটার
২ দশমিক ৫০ বর্গমিটার
২ দশমিক ৮৩ বর্গমিটার
৩ দশমিক ৩০ বর্গমিটার
৩ দশমিক ৪২ বর্গমিটার
৩ দশমিক ৯০ বর্গমিটার
৪ দশমিক ০৯ বর্গমিটার
৬ দশমিক ২৫ বর্গমিটার
৭ দশমিক ৯৪ বর্গমিটার
৯ দশমিক ২৭ বর্গমিটার
১১ দশমিক ৩৬ বর্গমিটার
১৩ দশমিক ০৩ বর্গমিটার
২১ দশমিক ২১ বর্গমিটার
সর্বোচ্চ ২৪ দশমিক ৯০ বর্গমিটার।
অন্য প্রতিষ্ঠানের গড় সাইজের সঙ্গে সর্বোচ্চ সাইজের তুলনা করলে পার্থক্য দাঁড়ায় প্রায় ২৩৩ গুণ।
তদন্ত কমিটির কাছে এটাই বড় প্রশ্নের কারণ হয়েছে। কারণ ২৪ দশমিক ৯০ বর্গমিটারের একটি ব্যাক বোর্ড তৈরি পোশাকের সাধারণ প্যাকেজিংয়ে বাস্তবে কীভাবে ব্যবহার করা সম্ভব—তার যৌক্তিক ব্যাখ্যা নথিতে পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তে শুধু পণ্যের সাইজ নয়, ইউডিতে উল্লেখ করা চাহিদা এবং বাস্তবে সরবরাহ দেখানো পণ্যের ধরনেও অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। কোনো কোনো ইউডিতে মাস্টার কার্টন, টুইল টেপ, ইলাস্টিক ব্যান্ড, টিস্যু পেপার, ফলস লেবেল, জ্যাকরণ প্যাচ কিংবা পলি ব্যাগের চাহিদা দেখানো হলেও সংশ্লিষ্ট সরবরাহের হিসাবে ব্যাক বোর্ড বা লেবেল পেপারের তথ্য পাওয়া গেছে। আবার কোনো ইউডিতে পণ্যের শুধু জিএসএম ও পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে; কিন্তু সেই হিসাব থেকে প্রতি পিসের সাইজ নির্ণয় করলে তা অস্বাভাবিক বড় হয়ে দাঁড়ায়।
তদন্ত কমিটির মতে, এই ধরনের অসামঞ্জস্য কেবল হিসাবের ভুল হিসেবে দেখার সুযোগ সীমিত। কারণ বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানি করা কাঁচামালের পরিমাণ ও ব্যবহার সরাসরি রপ্তানি পণ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
বন্ড সুবিধার মূল উদ্দেশ্য হলো—রপ্তানিমুখী শিল্পকে শুল্কমুক্ত বা শুল্ক সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া, যাতে ওই কাঁচামাল ব্যবহার করে রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদন করা যায়। অর্থাৎ সুবিধাটি বাজারে বিক্রির জন্য নয়; রপ্তানি উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
তদন্ত কমিটির অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুও এখানেই। তাদের পর্যবেক্ষণ হলো, রপ্তানিপণ্যে প্রকৃত ব্যবহারের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি কাঁচামাল ব্যবহারের হিসাব দেখানো হয়ে থাকতে পারে। এর মাধ্যমে বন্ড সুবিধায় আনা কাঁচামাল উৎপাদনে ব্যবহার না করেও কাগজে ব্যবহার দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
যদি অভিযোগটি প্রমাণিত হয়, তাহলে বিষয়টি শুধু ভ্যাট ফাঁকির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বন্ড সুবিধার শর্ত লঙ্ঘন করে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল অবৈধভাবে অপসারণের প্রশ্নও সামনে আসবে।
ফুজিয়ানের বিরুদ্ধে তদন্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মূল্য সংযোজন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির মূল্য সংযোজনের হার পাওয়া গেছে ১১ দশমিক ৪০ শতাংশ। অথচ সংশ্লিষ্ট বিধিতে রপ্তানিমুখী কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত রয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত সীমার চেয়ে প্রতিষ্ঠানটির মূল্য সংযোজন প্রায় ৩ দশমিক ৬০ শতাংশ পয়েন্ট কম। প্রথম দেখায় এটি আলাদা একটি হিসাবগত সমস্যা মনে হলেও তদন্তের সঙ্গে অস্বাভাবিক কাঁচামাল ব্যবহারের হিসাবের সম্পর্ক রয়েছে। কারণ একটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত ও রপ্তানিকৃত পণ্যের মূল্যের বিপরীতে কাঁচামালের মূল্য বা ব্যবহার অস্বাভাবিকভাবে বেশি দেখানো হলে হিসাব অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সংযোজিত মূল্য কমে যেতে পারে। আর নিজস্ব সংযোজিত মূল্য কমলে মূল্য সংযোজনের হারও কমে যায়।
তদন্ত কমিটি সরাসরি রপ্তানিকারকের মাস্টার এলসি বা সেলস কন্ট্রাক্টের বিপরীতে গৃহীত ইউডিও যাচাই করেছে। সেখানে কিছু ইউডিতে এলসির তথ্য না থাকার কথা উঠে এসেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পণ্যের চাহিদা বা সংগ্রহের তথ্যও পাওয়া যায়নি। আবার ইউডিতে চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের বর্ণনা এবং সরবরাহ করা পণ্যের মধ্যে পার্থক্য পাওয়া গেছে। কিছু ইউডিতে এমন সাইজের পণ্যের চাহিদা দেখানো হয়েছে, যা ওই ইউডির বিপরীতে রপ্তানির জন্য নির্ধারিত তৈরি পোশাকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এতে তদন্তকারীদের কাছে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—যে পণ্য রপ্তানি করার জন্য কাঁচামাল আমদানি করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, সেই রপ্তানি পণ্যের সঙ্গে কাঁচামালের প্রকৃত ব্যবহার কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ?
তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এখানে মূল অভিযোগ সরাসরি ‘ভুয়া রপ্তানি’র নয়। বরং অভিযোগ হচ্ছে, রপ্তানি কার্যক্রম বাস্তবে থাকলেও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাঁচামালের ব্যবহার ও পরিমাণের হিসাব নিয়ে গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে। যদি কোনো কাঁচামাল রপ্তানি পণ্যে ব্যবহার না হয়ে থাকে, তাহলে বন্ড সুবিধায় আনা সেই কাঁচামাল কোথায় গেছে—সেটিই এখন মূল অনুসন্ধানের বিষয়।
ফুজিয়ান কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, তারা সব পণ্য রপ্তানি করেছে এবং রপ্তানির সব বিল ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের হিসাবে এসেছে। কিন্তু তদন্তের অভিযোগটি মূলত রপ্তানি আয় দেশে এসেছে কি না—এটি নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, রপ্তানি করা পণ্যের সঙ্গে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামালের ব্যবহার কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। একটি প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আয় ব্যাংকিং চ্যানেলে আসা এবং আমদানি করা প্রতিটি কাঁচামাল বৈধভাবে রপ্তানি পণ্যে ব্যবহার হওয়া—দুটি আলাদা বিষয়। তাই রপ্তানি বিল ও ব্যাংকিং লেনদেনের পাশাপাশি ইউডি, বিল অব এন্ট্রি, কাঁচামালের ইনভেন্টরি, উৎপাদন রেজিস্টার, ব্যবহার বিবরণী, ফিনিশড গুডসের উৎপাদন অনুপাত এবং রপ্তানি পণ্যের প্যাকেজিং চাহিদা—সবগুলো তথ্য একসঙ্গে মিলিয়ে দেখা জরুরি।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদিত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে কোন কাঁচামাল কত পরিমাণ ব্যবহার করা হয়েছে এবং কত কাঁচামাল ব্যবহার করে কত পরিমাণ ফিনিশড গুডস উৎপাদিত হয়েছে—তার যথাযথ হিসাব প্রতিষ্ঠানের কাছে পাওয়া যায়নি। এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ বন্ড সুবিধায় ভবিষ্যতে একটি প্রতিষ্ঠান কতটা কাঁচামাল আমদানি করতে পারবে, তা নির্ধারণে আগের উৎপাদন ও ব্যবহার তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদি আগের হিসাবেই কাঁচামালের ব্যবহার নিয়ে অসঙ্গতি থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানের আমদানি প্রাপ্যতা নির্ধারণও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
রাজশাহী ভ্যাট কমিশনারেটের নথি অনুযায়ী, ফুজিয়ানের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক কারণে অর্থনৈতিক দায়ের অভিযোগ উঠেছে। বন্ড সুবিধায় আমদানি করা প্রায় ২৩৬ টন কাঁচামাল অবৈধভাবে অপসারণের অভিযোগে ২৬ কোটি ৬৩ লাখ ৫ হাজার ৭৫৬ টাকা শুল্ককর। মূল্য সংযোজনের হার ১৫ শতাংশের নিচে থাকার অভিযোগে ১ কোটি ৫৯ লাখ ১১ হাজার ৩৬২ টাকা। দুইটি মিলিয়ে মোট অভিযোগ ২৮ কোটি ২২ লাখ ১৭ হাজার ১১৮ টাকা।
বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, কাঁচামাল অবৈধ অপসারণ এবং শুল্ককর ফাঁকির অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক কাজী এ এন এম সামসুল আলমের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বক্তব্য জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এম এ হানিফ ভূঁইয়া ফোনে কথা বলেন। তিনি নিরীক্ষার তথ্য ও শুল্ককর ফাঁকির অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তার ভাষ্য, “আমরা সব কাগজপত্র দিয়েছি যে, আমরা সব রপ্তানি করেছি এবং রপ্তানির সব বিল ব্যাংকের মাধ্যমে আমাদের অ্যাকাউন্টে এসেছে।” কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের কোনো অনিয়ম নেই। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কাস্টমস যেকোনো বিষয়ে কফিয়ত তলব করতে পারে এবং চূড়ান্ত জবাবের পর যে দাবিনামা হবে, সেটিই প্রকৃত দাবিনামা। তিনি বলেন, “আমাদের কোনো অনিয়ম নেই। প্রশ্ন উত্থাপন করতেই পারে, আমাদের কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে। কোনো দাবিনামা করেনি।”
ফুজিয়ান এক্সপোর্ট ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ এখনই নেই। কারণ প্রতিষ্ঠানটি অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব দেওয়ার সুযোগ তাদের রয়েছে। তবে নথিতে উঠে আসা অস্বাভাবিক সাইজ, কাঁচামালের পরিমাণ, ইউডি ও রপ্তানি নথির অসামঞ্জস্য এবং মূল্য সংযোজনের হার—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করলে ঘটনাটি সাধারণ হিসাবগত ভুল হিসেবে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগও কম।
বিশেষ করে প্রায় ২৩৬ মেট্রিক টন কাঁচামাল এবং ২৮ কোটি ২২ লাখ টাকার সম্ভাব্য শুল্ককর দায় জড়িত থাকায় বিষয়টির নিষ্পত্তিতে শুধু কাগজপত্র নয়, প্রয়োজন হলে কাঁচামালের প্রকৃত মজুত, উৎপাদন সক্ষমতা, উৎপাদন রেজিস্টার, গুদাম, রপ্তানি পণ্য এবং সংশ্লিষ্ট ক্রেতার নথি পর্যন্ত যাচাই করা প্রয়োজন।






