480
ঢাকাশনিবার , ১৮ জুলাই ২০২৬
  1. অনুসন্ধানী ও বিশেষ প্রতিবেদন
  2. অপরাধ-আইন ও আদালত
  3. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প
  4. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প-ব্যাংক-বীমা-নন ব্যাংক
  5. আইটি, টেলিকম ও ই-কমার্স
  6. আবাসন-ভূমি-রাজউক-রিহ্যাব
  7. উদ্যোক্তা-জীবনী
  8. করপোরেট ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
  9. কৃষি, খাদ্য ও পরিবেশ
  10. গণমাধ্যম
  11. গৃহায়ন ও গণপূর্ত
  12. জনশক্তি ও পর্যটন
  13. জনসংযোগ-পদোন্নতি ও সম্মাননা
  14. জাতীয়
  15. দুর্ঘটনা-শোক-দুর্যোগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ, তবুও চলছে উবার-পাঠাও

https://www.uddoktabangladesh.com/wp-content/uploads/2024/03/aaaaaa.jpg
অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক
জুলাই ১৮, ২০২৬ ২:১৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হলেও ‘অবৈধভাবে’ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে উবার ও পাঠাও। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) থেকে রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান হিসেবে পাওয়া তাদের এনলিস্টমেন্ট সনদের মেয়াদ গত বছরই শেষ হয়েছে। ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর পাঠাওয়ের এবং ৪ ডিসেম্বর উবারের সনদের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর ছয় মাস ধরে সরকারের নীতিমালা লঙ্ঘন করেই এ দুই প্রতিষ্ঠানের অধীনে যানবাহন চলাচল করছে। তবে বিআরটিএ জানিয়েছে, সনদ পুনর্নিবন্ধনের আবেদন বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারের এই কর্তৃপক্ষ এক বছরের জন্য এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট দিয়ে থাকে। প্রতিবছরই তা পুনর্নিবন্ধন করতে হয়। আর আবেদন করতে হবে মেয়াদ শেষের তিন মাস আগেই। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এতদিন ধরে নিবন্ধন ঝুলিয়ে রাখায় নিবন্ধন পাওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আবার নিবন্ধন ছাড়া উবার ও পাঠাওয়ের কার্যক্রম পরিচালনা চলমান থাকলেও আপত্তি তুলছে না সরকারের কোনো পক্ষ। বন্ধ করা হয়নি তাদের অ্যাপভিত্তিক সেবার কার্যক্রম।

বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর জন্য উবার ও পাঠাও নিবন্ধন নেয়। এরপর থেকে নিয়মিত পুনর্নিবন্ধনের মাধ্যমে তারা রাইড শেয়ারিং সেবা চালিয়ে আসছে। এ নিবন্ধন প্রক্রিয়া বিআরটিএর প্রকৌশল শাখা থেকে সম্পন্ন হয়। শাখাটির সহকারী পরিচালক নুরুল হোসেন জানান, পুনর্নিবন্ধনের আবেদন বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কিছু কাগজপত্রের ঘাটতি থাকায় সেগুলো পুনরায় চাওয়া হয়েছে, যার কারণে দেরি হয়েছে। তবে নিবন্ধন দেওয়ার প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে এবং দ্রুতই তা সম্পন্ন হবে।

যদিও নিবন্ধনের আবেদন কবে করেছে— জানতে চাইলে তিনি জবাব দেননি। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানগুলো রাইড শেয়ারিং কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আবেদন যেহেতু করেছে, তাই কার্যক্রম চালিয়ে যেতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আইন বলছে ভিন্ন কথা। ‘রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা, ২০১৭’ অনুযায়ী, এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের রাইড শেয়ারিং কার্যক্রম পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই।

নীতিমালা অনুযায়ী, রাইড শেয়ারিং সেবা পরিচালনার আগে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে বিআরটিএ থেকে এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট নিতে হবে। এই সার্টিফিকেট ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান রাইড শেয়ারিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। রাইড শেয়ারিংয়ে ব্যবহৃত প্রতিটি মোটরযানের জন্যও আলাদা এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ, শুধু প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হলেই হবে না; প্ল্যাটফর্মে যুক্ত প্রতিটি গাড়ি বা মোটরসাইকেলকেও বিআরটিএর এনলিস্টমেন্টের আওতায় আনতে হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, বিআরটিএর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের পরই এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়। নির্ধারিত মেয়াদ শেষে এ সনদ নবায়ন করা বাধ্যতামূলক। নবায়নের জন্য নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে বিআরটিএর অনলাইন পোর্টালে আবেদন করতে হয়, যা যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন দেওয়া হয়। এ বিষয়ে উবার ও পাঠাওয়ের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উবারের জনসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনাকারী বেঞ্চমার্ক পিআর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, রাইড শেয়ারিং ব্যবস্থা চালুর পর ঢাকায় মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেড়েছে হু-হু করে। বিআরটিএর নিবন্ধিত মোটরযানের নথির তথ্য বলছে, প্রথম ৪৮ বছর, অর্থাৎ ২০১৯ সাল পর্যন্ত ঢাকায় নিবন্ধিত মোটরসাইকেল ছিল ৭ লাখ ৪৬ হাজার ৭৮১টি। অথচ পরবর্তী মাত্র সাড়ে ছয় বছরে, অর্থাৎ ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত আরও ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৬১৩টি মোটরসাইকেল নিবন্ধিত হয়েছে।

অর্থাৎ, আগের পুরো সময়ের নিবন্ধনের প্রায় ৭৮ শতাংশের সমপরিমাণ মোটরসাইকেল যুক্ত হয়েছে মাত্র সাড়ে ছয় বছরে। বর্তমানে রাজধানীতে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের প্রায় ৪৪ শতাংশই ২০২০ সালের পর নিবন্ধিত। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, একটি রাইড শেয়ারিং কোম্পানি সর্বোচ্চ কতগুলো যানবাহন তালিকাভুক্ত করতে পারবে, তা বিআরটিএর নির্ধারণ করে দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, সড়কের সক্ষমতার তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যার কারণ হতে পারে।