480
ঢাকারবিবার , ২১ জুন ২০২৬
  1. অনুসন্ধানী ও বিশেষ প্রতিবেদন
  2. অপরাধ-আইন ও আদালত
  3. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প
  4. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প-ব্যাংক-বীমা-নন ব্যাংক
  5. আইটি, টেলিকম ও ই-কমার্স
  6. আবাসন-ভূমি-রাজউক-রিহ্যাব
  7. উদ্যোক্তা-জীবনী
  8. করপোরেট ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
  9. কৃষি, খাদ্য ও পরিবেশ
  10. গণমাধ্যম
  11. গৃহায়ন ও গণপূর্ত
  12. জনশক্তি ও পর্যটন
  13. জনসংযোগ-পদোন্নতি ও সম্মাননা
  14. জাতীয়
  15. দুর্ঘটনা-শোক-দুর্যোগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৪৫৫ কোটি টাকার গ্যারান্টি দায়ে আটকে এলসি, ছাড় চেয়ে সরকারের দ্বারস্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংক

https://www.uddoktabangladesh.com/wp-content/uploads/2024/03/aaaaaa.jpg
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ঢাকা :
জুন ২১, ২০২৬ ৬:১১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ সংকটের মধ্যে এবার একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রায় ৪৫৫ কোটি টাকার একটি খেলাপি ঋণের করপোরেট গ্যারান্টর হওয়ায় বিধিনিষেধের মুখে থাকা আব্দুল মোনেম সুগার রিফাইনারি লিমিটেডকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ১০০ শতাংশ মার্জিনে ঋণপত্র (এলসি) খোলার অনুমতি দিতে সরকারের অনুমোদন চেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শোধনাগারটির উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখা এবং অপরিশোধিত চিনি আমদানি অব্যাহত রাখার স্বার্থেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী কোনো খেলাপি ঋণের জামিনদারও খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হন। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নতুন ঋণ সুবিধা কিংবা এলসি খোলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। আব্দুল মোনেম সুগার রিফাইনারি রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকে আব্দুল মোনেম লিমিটেডের একটি খেলাপি ঋণের করপোরেট গ্যারান্টর হওয়ায় এই বিধিনিষেধের আওতায় পড়েছে।

তবে আইন অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ ক্ষেত্রে এ ধরনের বিধিনিষেধ থেকে অব্যাহতি দিতে পারে। সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করেই গত ১৬ জুন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে মতামত চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, আইন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের মতামত চেয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন মিললে তবেই এ সুবিধা কার্যকর হবে; অন্যথায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫ সালের মার্চের তথ্য অনুযায়ী, অগ্রণী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ইউসিবি ও ডাচ-বাংলা ব্যাংকসহ ২৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আব্দুল মোনেম লিমিটেডের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৯৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু অগ্রণী ব্যাংকের পাওনাই প্রায় ৪৫৫ কোটি টাকা।

গত বছরের আগস্টে গ্রুপটি বিশেষ শর্তে এসব ঋণ পুনর্গঠনের আবেদন করে। পরে গত ৭ জুন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের কাছে শতভাগ মার্জিনে এলসি খোলার বিশেষ সুবিধা চেয়ে আবেদন জমা দেওয়া হয়।

শোধনাগার কর্তৃপক্ষের দাবি, অপরিশোধিত চিনি আমদানির জন্য বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক চুক্তি এখনো কার্যকর রয়েছে। প্রয়োজনীয় এলসি খুলতে না পারলে প্রতিদিন প্রায় ২৩ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ গুনতে হতে পারে। এছাড়া দেশে বর্তমানে মাত্র কয়েকটি চিনি শোধনাগার পূর্ণ সক্ষমতায় চালু রয়েছে। ফলে আমদানি কার্যক্রম ব্যাহত হলে দেশের বাজারে চিনির সরবরাহে ঘাটতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমানে শোধনাগারটি ক্রয় চুক্তির আওতায় আবুল খায়ের লিমিটেড পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত চিনি ‘স্টারশিপ সুগার’ ব্র্যান্ড নামে বাজারজাত করা হচ্ছে। তবে মালিকানা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি।

আব্দুল মোনেম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএসএম মঈনউদ্দিন মোনেম বলেন, শোধনাগারটির ক্রেতা হিসেবে আবুল খায়ের গ্রুপ কোম্পানিটির ব্যাংক ও বন্ডের দায় পরিশোধ করবে। তবে অগ্রণী ব্যাংকের সহযোগিতা না পাওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তার অভিযোগ, শোধনাগার বিক্রির বিষয়টি যথাসময়ে অবহিত না হওয়ায় ব্যাংক এখন সহযোগিতা করছে না। মালিকানা পরিবর্তনের কারণে ঋণ আদায় নিয়ে ব্যাংক উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দীর্ঘমেয়াদি সংকটে আব্দুল মোনেম গ্রুপ:গ্রুপটির সামগ্রিক ব্যবসায়িক অবস্থাও বর্তমানে চ্যালেঞ্জের মুখে। মঈনউদ্দিন মোনেমের ভাষ্য, গত প্রায় ১৮ মাসে কোনো ব্যাংক নতুন করে অর্থায়ন করেনি। নির্মাণ খাতের মন্দা এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের ধীরগতিও প্রতিষ্ঠানটির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।

১৯৫৬ সালে শিল্পপতি আব্দুল মোনেমের হাত ধরে যাত্রা শুরু করা এই শিল্পগোষ্ঠী নির্মাণ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কোমল পানীয়, ওষুধ ও জ্বালানি খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীতে পরিণত হয়। ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সুগার রিফাইনারিটি। তবে ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুর পর অতিরিক্ত ঋণ ব্যয়, টাকার অবমূল্যায়ন, উচ্চ সুদহার এবং সরকারি অবকাঠামো প্রকল্পের গতি কমে যাওয়ার প্রভাবে গ্রুপটির কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আর্থিক চাপে পড়ে।

এই ঘটনা দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনা ও শিল্প উৎপাদন রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে। একদিকে খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে, অন্যদিকে উৎপাদনমুখী শিল্প ও নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখাও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে আব্দুল মোনেম সুগার রিফাইনারি বিশেষ এই সুবিধা পাবে কি না।