বিশেষ প্রতিবেদক : এলজিইডিতে বদলি–পদায়ন নিয়ন্ত্রণ করে কথিত একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় রয়েছে—অভিযোগ উঠেছে সিন্ডিকেটটি সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন তথ্য পেলে কিছু সংবাদমাধ্যমে কুৎসা ছড়ায়, পরে মোটা অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করে দুর্নীতিবাজদের ‘প্রাইজ পোস্টিং’ পদে বসায়। মাঠপর্যায়ের সঠিক তদন্ত না করেই বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানো হচ্ছিল বলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
চাঞ্চল্যকর একটি ঘটনা ঘটেছে সাভার উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে। গত ৬ জুলাই ২০২৬ সাভারে বদলি করা হয়েন হিসাব সহকারী মোছা. শাহনাজ পারভীন—যাকে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বদলির আদেশ জারি হবার পর থেকেই ধামরাই কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
তদন্তে জানা যায়, শাহনাজ পারভীন ২০১২ সালে সাভার উপজেলায় হিসাব সহকারী হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় উন্নয়ন খাতের (১%) চলমান স্কিমসমূহের ভ্যাট ও আয়করের প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে গ্রহণ করে সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে ভুয়া কাগজ তৈরি করে আত্মসাৎ করেন। পরে সরকারি অডিট টিম ঘটনাটি ধরে অডিট রিপোর্টে জালিয়াতির তথ্য প্রতিবেদন করা হয় এবং তিনি সাময়িক বরখাস্ত হন। তবে এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের মধ্যস্থতায় এবং অনৈতিক সুবিধা আদানপ্রদানের মাধ্যমে সেই শাস্তিমূলক আদেশ তুলে নেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
শাহনাজ পারভীন আগেও এলজিইডি ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সাথে বিশেষ যোগাযোগ তৈরি করে সাভার ও ধামরাইয়ে পুনরায় বদলির চেষ্টা করেছেন। পূর্ববর্তী কর্মস্থলের কর্মকর্তারা জানান, তার সঙ্গে কাজ করে অনেকে ভীত; অফিসিয়াল বিষয় বা নিয়মকানুন নিয়ে বিরোধ হলে তিনি সহকর্মীদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন বা শ্লীলতাহানির মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর হুমকিও দিতেন বলে অভিযোগ আছে। গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় তার আচরণ নিয়ে প্রশাসন শাখায় মৌখিক অভিযোগও করা হয়; সেখানে তাকে সরিয়ে নিতে বা বদলী দিতে অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
তবে অভিযোগের সূচনায় জানা গেছে, পুরোনো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা প্রদান করে শাহনাজ পারভীন ৬ জুলাই ২০২৬-এ সাভার উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে বদলি আদেশ গ্রহণ করতে সক্ষম হন। এই ধরনের খোলামেলাভাবে চলা দুর্নীতি ও বদলি–পদায়ন কৌশল ব্যবহার করে এভাবেই প্রভাবশালী সিন্ডিকেট যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে সরকারের সংস্কার প্রচেষ্টা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাভার কার্যালয়ের সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এখন সুষ্ঠু ও স্বতন্ত্র তদন্ত এবং প্রকাশিত বদলি আদেশটি বাতিল করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা চান, এলজিইডির অভ্যন্তরে চলমান সিন্ডিকেটের কড়া তদারকি ও বিচারের মাধ্যমে প্রতিকার নিশ্চিৎ করা হোক, যাতে যোগ্য ও সৎ কর্মকর্তারা ভয়ে কাজ করতে না বাধ্য হন। উল্লেখ্য, বিষয়টি সম্পর্কে এলজিইডি দফতরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।





