নাসা গ্রুপ ১ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা টাকা
শ্রীপুর টাউনশিপ ১ হাজার ২৫ কোটি ৯২ লাখ
আসাদ ট্রেডিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ৭৩৩ কোটি ৩২ লাখ
গ্লোয়িং কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ৭২৩ কোটি ৭৯ লাখ
কুইক রিয়েল এস্টেট ৬৮৫ কোটি ৪২ লাখ
সানস্টার বিজনেস ৬৭৪ কোটি ৫৫ লাখ
ফারইস্ট বিজনেস ৬৭৪ কোটি ৪৯ লাখ
কসমস কমোডিটিজ ৬৭২ কোটি ২০ লাখ
ব্লুমুন ট্রেডিং ৬৬৬ কোটি ৩৯ লাখ
আলফা এন্টারপ্রাইজ ৬৫৫ কোটি ১৪ লাখ
অ্যাক্সিস বিজনেস ৬৪৪ কোটি ২৪ লাখ
এভারেস্ট এন্টারপ্রাইজ ৬০৫ কোটি ২৮ লাখ
স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনাল ৬০৪ কোটি ৭০ লাখ
ভিস্তা ইন্টারন্যাশনাল ৫২১ কোটি ৩ লাখ
অ্যাবসোলিউট কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ৫০৬ কোটি ৪১ লাখ
সার্ভ কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ৪৯৬ কোটি ৩ লাখ
অলট্রন ট্রেডিং ৪৯৫ কোটি ৬৯ লাখ
নর্থস্টোন কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ৪৭৬ কোটি ৬৩ লাখ
টিমবিল্ড কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ৪৫৪ কোটি ৬২ লাখ
সেন্ট্রাল ল্যান্ড অ্যান্ড বিল্ডিংস ৪৪২ কোটি ৫১ লাখ
সৃষ্টি রিয়েল এস্টেট ৪১৮ কোটি ২৭ লাখ
ক্রিস্টাল কনস্ট্রাকশন ৪১৫ কোটি ৮৩ লাখ
গ্লোবাল এলপিজি (৩৭১ কোটি ২৯ লাখ
এলহাম ফ্যাশন ৩৫৮ কোটি ৯৩ লাখ
রাজ হাউজিং ৩৫৮ কোটি ৩২ লাখ
ব্রাইটস্টার বিজনেস ৩০৫ কোটি ২৩ লাখ
সেন্ট্রাল হাইটস ঢাকা ১৬১ কোটি ৬১ লাখ
নিউ ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিজ ৩০ কোটি টাকা
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা : ভুয়া নাম ব্যবহার করে ২৮টি প্রতিষ্ঠান আইএফআইসি ব্যাংক থেকে মোট ১৩ হাজার ১৬৬ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে, যার মধ্যে ১২ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা ফান্ডেড (নগদ) এবং ১ হাজার ২০ কোটি টাকা নন-ফান্ডেড (এলসি ও ব্যাংক গ্যারান্টি) ঋণ; এসব বেনামি ঋণের পুরোটা বর্তমানে খেলাপি। গত ১৫ বছরে নেওয়া এই ঋণগুলোর বেশিরভাগই নির্মাণ, আবাসন, ট্রেডিং ও প্রকৌশল খাতে দেওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনার সঙ্গে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এসেছে আইএফআইসি ব্যাংকের বিশেষ অডিট রিপোর্টে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, একই ব্যাংক থেকে বিতর্কিত ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম মজুমদারের নাসা গ্রুপ ১ হাজার ৩৩৩ কোটি এবং জয়নুল হক সিকদারের সিকদার গ্রুপ ১ হাজার ৫৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যার পুরোটা বর্তমানে খেলাপি।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এ ধরনের বেনামি ঋণ পুরো আর্থিক খাতকে ঝুঁকিতে ফেলেছে এবং গ্রাহকের আস্থা কমিয়েছে। বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, এসব ঋণ দেশের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক, কারণ গত ১৫ বছরে ঋণখেলাপির নানা তথ্য সামনে এলেও এ ধরনের ঋণের তথ্য প্রকাশ পায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক নীতিনির্ধারকদের প্রভাবের কারণে এসব তথ্য গোপন ছিল এবং বাংলাদেশ ব্যাংকও নিয়মিত অডিট করেও এ অনিয়ম ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। তার মতে, গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, কোনো ব্যাংকে বেনামি ঋণ চিহ্নিত হওয়ার মানে হলো ওই ঋণ সৎ উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়নি। কারণ, সৎ উদ্দেশ্যে নেওয়া হলে তা আর বেনামি থাকার কথা নয়। তিনি বলেন, নিয়ম অনুসারে এ ধরনের ঋণের ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে জানানো হয়। অর্থাৎ কেন এই ঋণ তৈরি হলো, এর সঙ্গে কারা জড়িত-এ ব্যাপারে ব্যাংকের ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়। এক্ষেত্রে ব্যাংকের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে পরবর্তী সময়ে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যাপারে এ ধরনের কোনো পদক্ষেপের কথা ভাবছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট করে আমি কিছু বলতে পারছি না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্ট বলতে পারবে। তবে সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্ট এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি নয়।
আইএফআইসি ব্যাংকের মালিকানার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা এবং আলোচিত ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাংকটিতে নানা অনিয়ম চললেও তার প্রভাবের কারণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি বিশেষ অডিট করতেও বাংলাদেশ ব্যাংক উদ্যোগ নিতে পারেনি। নিয়মিত অডিটে অসঙ্গতি ধরা পড়লেও সেগুলো প্রতিবেদনভুক্ত করা হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তনের পর নতুন পরিচালনা পর্ষদ ব্যাংকটিতে বিশেষ নিরীক্ষার উদ্যোগ নেয় এবং নিরীক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় কাজ শেষে নিরী
ক্ষকরা প্রতিবেদন জমা দেন। পাশাপাশি ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর আইএফআইসি ব্যাংকের করপোরেট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে ই-মেইলে দুটি গোপন নথি বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়, যেখানে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত ঋণের অবস্থান তুলে ধরা হয়। নথি অনুযায়ী, ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ঋণ নিয়েছে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান শ্রীপুর টাউনশিপ, যার ঋণের স্থিতি ১,০২৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির নামে শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট বড় ধরনের কেলেঙ্কারির অভিযোগও রয়েছে।
বেনামি ঋণের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আসাদ ট্রেডিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, যার ঋণের পরিমাণ ৭৩৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এরপর রয়েছে গ্লোয়িং কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (৭২৩ কোটি ৭৯ লাখ), কুইক রিয়েল এস্টেট (৬৮৫ কোটি ৪২ লাখ), সানস্টার বিজনেস (৬৭৪ কোটি ৫৫ লাখ), ফারইস্ট বিজনেস (৬৭৪ কোটি ৪৯ লাখ), কসমস কমোডিটিজ (৬৭২ কোটি ২০ লাখ), ব্লুমুন ট্রেডিং (৬৬৬ কোটি ৩৯ লাখ), আলফা এন্টারপ্রাইজ (৬৫৫ কোটি ১৪ লাখ), অ্যাক্সিস বিজনেস (৬৪৪ কোটি ২৪ লাখ), এভারেস্ট এন্টারপ্রাইজ (৬০৫ কোটি ২৮ লাখ), স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনাল (৬০৪ কোটি ৭০ লাখ), ভিস্তা ইন্টারন্যাশনাল (৫২১ কোটি ৩ লাখ) এবং অ্যাবসোলিউট কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (৫০৬ কোটি ৪১ লাখ)। এছাড়া খেলাপি ঋণ রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে—সার্ভ কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (৪৯৬ কোটি ৩ লাখ), অলট্রন ট্রেডিং (৪৯৫ কোটি ৬৯ লাখ), নর্থস্টোন কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (৪৭৬ কোটি ৬৩ লাখ), টিমবিল্ড কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (৪৫৪ কোটি ৬২ লাখ), সেন্ট্রাল ল্যান্ড অ্যান্ড বিল্ডিংস (৪৪২ কোটি ৫১ লাখ), সৃষ্টি রিয়েল এস্টেট (৪১৮ কোটি ২৭ লাখ), ক্রিস্টাল কনস্ট্রাকশন (৪১৫ কোটি ৮৩ লাখ), গ্লোবাল এলপিজি (৩৭১ কোটি ২৯ লাখ), এলহাম ফ্যাশন (৩৫৮ কোটি ৯৩ লাখ), রাজ হাউজিং (৩৫৮ কোটি ৩২ লাখ), ব্রাইটস্টার বিজনেস (৩০৫ কোটি ২৩ লাখ), সেন্ট্রাল হাইটস ঢাকা (১৬১ কোটি ৬১ লাখ), নিউ ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিজ (৩০ কোটি) এবং এলহাম ইন্টারন্যাশনাল (৯ কোটি টাকা)। নথি পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, অধিকাংশ ঋণের ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনে বারবার নবায়ন, মেয়াদ বৃদ্ধি, পুনঃতফসিল এবং ঋণের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।
কয়েকটি ঋণ আবার নতুন অনুমোদনও পেয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের ঋণ ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ধারাবাহিকভাবে নবায়ন করা হয়েছে। এতে আরও দেখা যায়, এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় সব ঋণই করপোরেট শাখা থেকে বিতরণ করা হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের সভার নম্বর, অনুমোদনের তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নামও নথিতে উল্লেখ রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকৃত ঋণগ্রহীতার পরিচয় গোপন রেখে আত্মীয়স্বজন, কর্মচারী, ভুয়া কোম্পানি কিংবা সহযোগী প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নেওয়া হয়েছে। কাগজে-কলমে প্রতিষ্ঠান আলাদা হলেও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ ছিল একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতে। সূত্র বলছে, এই ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানির আইনের কয়েকটি ধারা লঙ্ঘন করেছে। এর মধ্যে ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় জামানত নেই, কাগজপত্র ভুয়া এবং নিজ ব্যাংক থেকে পরিচালকদের ঋণ নেওয়ার যে সীমা আছে, তাও মানা হয়নি। এছাড়াও সিঙ্গেল পার্টি এক্সপোজার লিমিট (একজন গ্রাহক ব্যাংকের মূলধনের কত শতাংশ ঋণ নিতে পারবে সেই সীমা) লঙ্ঘন করা হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকটি আর্থিকভাবে দুর্বল হয়েছে। ঋণ নিয়ে এই জালিয়াতির বিষয়ে আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যাখ্যা জানতে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মনসুর মোস্তফার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। এরপর কল করার কারণ এবং প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু উল্লেখ করে তাকে খুদে বার্তা পাঠানো হয়। খুদে বার্তা দেখলে বা সিন করলেও তিনি জবাব দেননি। রিপোর্ট প্রকাশের আগে শনিবারও তাকে একাধিকবার কল করা হয়। কিন্তু সাড়া মেলেনি।
ব্যাংকের নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১১ বছর আইএফআইসি ব্যাংকে কাজ করছেন মনসুর মোস্তফা। ২০২৪ সালের ১৩ মে তিনি এমডির দায়িত্ব পান। এর আগে তিনি একই ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও হেড অব ইন্টারন্যাশনাল ডিভিশন, চিফ ক্রেডিট অফিসার (প্রধান ঋণ কর্মকর্তা), চিফ রিস্ক অফিসার ও চিফ অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। নথিতে উল্লেখ আছে, তিনি ২০১৫ সালে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে আইএফআইসি ব্যাংকে যোগদান করেন। একই ব্যাংক থেকে বিতর্কিত ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম মজুমদারের মালিকানাধীন নাসা গ্রুপ নিয়েছে ১ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা। আবার জয়নুল হক সিকদারের মালিকানাধীন সিকদার গ্রুপ নিয়েছে ১ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। বর্তমানে এই ঋণের পুরোটাই খেলাপি। এ দুই গ্রুপেরই ব্যাংকের মালিকানা রয়েছে। এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংকের মালিক নাসা গ্রুপ এবং ন্যাশনাল ব্যাংকের মালিক সিকদার গ্রুপ। আবার ওই ব্যাংক থেকেও ঋণ নিয়েছেন সালমান এফ রহমান। অর্থাৎ মিলেমিশে ঋণ ভাগাভাগি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। একই সময়ে আইএফআইসি ব্যাংকের মোট বিতরণকৃত ঋণ ছিল ৪৪ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ২৮ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা, যা শতকরা হিসাবে ৬৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের বড় একটি অংশই সালমান এফ রহমানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেনামি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে। তার নিজের নামে নেওয়া বৈধ ঋণ যুক্ত করলে দেখা যায়, ব্যাংকটির মোট ঋণের উল্লেখযোগ্য অংশই তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ অবস্থায় ব্যাংকটি কার্যত একটি দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু এই ব্যাংক নয়—দেশের আরও অনেক ব্যাংকেই বেনামি ঋণের বিস্তার রয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল করপোরেট সুশাসন, ভুয়া প্রতিষ্ঠান, প্রক্সি পরিচালক এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সীমিত তদারকির সুযোগে গত দেড় দশকে হাজার হাজার কোটি টাকা বেনামে ঋণ নেওয়া হয়েছে, যার বড় অংশই বর্তমানে খেলাপি। ফলে আমানতকারীদের অর্থ এখন উল্লেখযোগ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে।






