480
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১১ জুন ২০২৬
  1. অনুসন্ধানী ও বিশেষ প্রতিবেদন
  2. অপরাধ-আইন ও আদালত
  3. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প
  4. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প-ব্যাংক-বীমা-নন ব্যাংক
  5. আইটি, টেলিকম ও ই-কমার্স
  6. আবাসন-ভূমি-রাজউক-রিহ্যাব
  7. উদ্যোক্তা-জীবনী
  8. করপোরেট ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
  9. কৃষি, খাদ্য ও পরিবেশ
  10. গণমাধ্যম
  11. গৃহায়ন ও গণপূর্ত
  12. জনশক্তি ও পর্যটন
  13. জনসংযোগ-পদোন্নতি ও সম্মাননা
  14. জাতীয়
  15. দুর্ঘটনা-শোক-দুর্যোগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য নিয়ে আজ জাতীয় বাজেট

https://www.uddoktabangladesh.com/wp-content/uploads/2024/03/aaaaaa.jpg
জোনায়েদ মানসুর
জুন ১১, ২০২৬ ২:০৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জোনায়েদ মানসুর: দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট বৃহস্পতিবার (১১জুন ২০২৬) জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এটি স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। বাজেটে অবকাঠামোর তুলনায় মানবসম্পদ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ ঋণ ও বৈদেশিক সহায়তা থেকে জোগান দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ঘাটতির বড় অংশ মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে প্রায় সোয়া লাখ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। একই সঙ্গে দেশীয় শিল্পের বিকাশ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে ২২৫ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ২ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠনের প্রস্তাব থাকতে পারে। পাশাপাশি স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য কর-সুবিধা ও প্রণোদনার ঘোষণাও আসতে পারে।সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে কিছু পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ নতুন কয়েকটি কর্মসূচি যুক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যমান কর্মসূচিগুলোর বরাদ্দ বাড়ানো হতে পারে। এ ছাড়া ২৫ লাখ নাগরিকের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণা আসতে পারে। যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ থেকে দূরে রাখতে এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবও থাকতে পারে। ব্যবসা পরিচালনা সহজ করতে ‘বাংলাবিজ’ নামে একটি সমন্বিত ডিজিটাল সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিভিন্ন সেবা আরও ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অনলাইনে কর রিটার্ন দাখিল, সরাসরি ব্যাংক হিসাবে কর ফেরত এবং করসংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও প্রস্তাবিত বাজেটে থাকতে পারে। নতুন বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা ধাপে ধাপে বাড়ানোর ঘোষণা আসতে পারে। পাশাপাশি জ্বালানি তেল ও ভোজ্যতেলের উৎসে কর কমানোসহ কিছু পণ্যে শুল্ক ও কর হ্রাসের প্রস্তাব থাকতে পারে। তবে উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের ওপর করের চাপ বাড়তে পারে। আগামী অর্থবছরে জিডিপির আকার ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আহরণের চ্যালেঞ্জ এবং বেসরকারি বিনিয়োগে ধীরগতির মধ্যে এসব লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে না। তাদের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিই আগামী অর্থবছরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।