480
ঢাকাশুক্রবার , ১৫ মে ২০২৬
  1. অনুসন্ধানী ও বিশেষ প্রতিবেদন
  2. অপরাধ-আইন ও আদালত
  3. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প
  4. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প-ব্যাংক-বীমা-নন ব্যাংক
  5. আইটি, টেলিকম ও ই-কমার্স
  6. আবাসন-ভূমি-রাজউক-রিহ্যাব
  7. উদ্যোক্তা-জীবনী
  8. করপোরেট ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
  9. কৃষি, খাদ্য ও পরিবেশ
  10. গণমাধ্যম
  11. গৃহায়ন ও গণপূর্ত
  12. জনশক্তি ও পর্যটন
  13. জনসংযোগ-পদোন্নতি ও সম্মাননা
  14. জাতীয়
  15. দুর্ঘটনা-শোক-দুর্যোগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাশ্রয়ী মূল্যে সেরা মান আর বিক্রয়োত্তর সেবাই আমাদের সাফল্যের চাবিকাঠি: নুরুল আফছার

https://www.uddoktabangladesh.com/wp-content/uploads/2024/03/aaaaaa.jpg
জোনায়েদ মানসুর, ঢাকা
মে ১৫, ২০২৬ ২:২০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ইলেকট্রনিক পণ্যের বাজারে ইলেক্ট্রো মার্ট আজ একটি পরিচিত নাম। সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন পণ্য ও বিক্রয়োত্তর সেবায় গ্রাহকের আস্থা অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ১৯৮০ সালে স্বল্প পুঁজি নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি এখন দেশের ইলেকট্রনিক খাতের অন্যতম শীর্ষ স্থানীয় প্রতিষ্ঠান। কীভাবে এগিয়েছে ইলেক্ট্রো মার্ট, কী ছিল তাদের সাফল্যের মূলমন্ত্র, বর্তমান বাজারের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—এসব নিয়েই কথা বলছেন ইলেক্ট্রো মার্ট গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নুরুল আফছার। সাক্ষাৎকারটি পাঠকের জন্য উপস্থাপন করা হলো।

প্রশ্ন: ইলেক্ট্রো মার্টের যাত্রা শুরু কীভাবে? শুরুতে কী কী প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল?

উত্তর: বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক পণ্যের চাহিদা শুরু হয় ১৯৭০-৭৫ সালের পর থেকে। আমাদের প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয় আমাদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুন নেওয়াজ সেলিমের হাত ধরে ১৯৮০ সালে। তিনি স্বল্প পুঁজি নিয়ে সিঙ্গাপুর, হংকংসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ইলেকট্রনিক পণ্য সোর্সিং করে চট্টগ্রামের ছোট একটি অফিসে হোলসেলে বিক্রি শুরু করেন। পরে আমরা তিন সহোদর ব্যবসায় যুক্ত হই। গ্রামের বাড়ি ফেনী হওয়ায় চট্টগ্রামের কাছাকাছি থাকায় এটি সহযোগিতা করেছে। বড় ভাই হংকংয়ের এক বন্ধুর মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করেন। সে সময় ইলেকট্রনিক পণ্যের চাহিদা বাড়তে থাকায় খাতটি সম্ভাবনাময় ছিল। প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল পুঁজির স্বল্পতা এবং ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া খুব সহজ ছিল না। তবে আমরা সবসময় আর্থিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিয়েছি এবং ব্যাংকের টাকা সময়মতো ফেরত দিয়েছি—এখনো আমাদের কোনো ব্যাংক ঋণ খেলাপি হওয়ার ইতিহাস নেই।

প্রশ্ন: গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে ইলেক্ট্রো মার্টের প্রধান কৌশল কী ছিল?

উত্তর: প্রথম থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিই, গ্রাহকদের মানসম্পন্ন পণ্য প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে দেব। ১৯৯৮ সালের দিকে আমরা চীন থেকে সোর্সিং শুরু করি। প্রথমে আমদানি করি কনকা ব্র্যান্ড। তখন চীনা পণ্যের মান নিয়ে মানুষের মনে অনীহা ছিল, যা দূর করতে আমরা পাঁচ বছরের গ্যারান্টি ও রিপ্লেসমেন্টের সুবিধা দিই। সে সময় বাজারে তেমন ওয়ারেন্টি বা বিক্রয়োত্তর সেবা ছিল না। ১৯৯৮ সালে বাজারে সাধারণ টিভির দাম যেখানে প্রায় ৩০ হাজার টাকা, আমরা সেখানে মাত্র ১২ হাজার টাকায় কনকা টিভি সরবরাহ করি। ২০০২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের সময় মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে আমাদের পণ্য কিনেছে। আমাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি কেবল ‘সাশ্রয়ী মূল্য’ নয়, বরং ‘প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে সেরা মান’ নিশ্চিত করা।

প্রশ্ন: বর্তমানে ইলেক্ট্রো মার্টের বাজারের অবস্থান কেমন?

উত্তর: বর্তমানে দেশে ইলেকট্রনিক পণ্যের বাজার প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এসির বাজারে আমরা শীর্ষস্থানে আছি। আর অন্যান্য পণ্যে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছি। আমরা গ্রী, কনকা এবং আমাদের নিজস্ব ব্র্যান্ড হাইকো নিয়ে কাজ করছি। ২০০৩-০৪ সাল থেকে এসকেডি ফ্যাক্টরির মাধ্যমে উৎপাদন শুরু করি। ২০১৯ সালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় কনকার সঙ্গে প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে যৌথ উদ্যোগে রেফ্রিজারেটর কারখানা স্থাপন করি। ২০০০ সালে গ্রীর সঙ্গেও যৌথ উদ্যোগে এসকেডি এয়ারকন্ডিশনার ফ্যাক্টরি স্থাপন করি।

প্রশ্ন: বিক্রয়োত্তর সেবায় ইলেক্ট্রো মার্টের কার্যক্রম কেমন?

উত্তর: গ্রাহক সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা সারা বাংলাদেশে বিক্রয়োত্তর সেবা পৌঁছে দিচ্ছি। সারা দেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার দক্ষ টেকনিশিয়ান নিয়োজিত আছেন। আমাদের নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে সব টেকনিশিয়ানকে নিয়মিত আধুনিক প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ইলেক্ট্রো মার্টের স্থায়ী কর্মী তিন হাজার এবং অস্থায়ী কর্মীসহ প্রায় সাড়ে সাত হাজার মানুষ এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত।

প্রশ্ন: নতুন প্রজন্ম কীভাবে ব্যবসায় যুক্ত হয়েছে?

উত্তর: আমাদের নতুন প্রজন্ম সক্রিয়ভাবে ব্যবসায় যুক্ত হয়েছে। তারা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিতে বেশি আগ্রহী। বিক্রয়োত্তর সেবাকে আরো উন্নত ও গ্রাহকবান্ধব করতে তারা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এছাড়া ব্যবসার প্রতিটি স্তরে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও অটোমেশন যুক্ত করে প্রতিষ্ঠানকে আরো সমৃদ্ধ করার ব্যাপারে তারা অত্যন্ত মনোযোগী।

প্রশ্ন: বর্তমান কর ও নীতি সহায়তা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

উত্তর: আমরা সরকারের কাছে অন্তত ৫-১০ বছর মেয়াদি একটি স্থিতিশীল নীতিমালা প্রত্যাশা করি। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে নীতিসহায়তা প্রতি বছর পরিবর্তন করতে হয়, যা বড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্তে বাধা সৃষ্টি করে। এছাড়া শুল্ক ও ভ্যাট কাঠামোর পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন। আগে উৎপাদন পর্যায়ে ইলেকট্রনিক খাত ভ্যাটমুক্ত ছিল। বর্তমানে উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং আরও ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর মিলিয়ে মোট ১৭ শতাংশ কর বন্দর পর্যায়েই পরিশোধ করতে হচ্ছে। আমরা চাই আগের মতো পণ্য বিক্রয় পর্যায়ে ভ্যাট প্রদান করতে পারি।

প্রশ্ন: ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ও রপ্তানি সম্ভাবনা সম্পর্কে কী ভাবছেন?

উত্তর: ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজে আমরা এখনো অনেক দূরে আছি। কম্প্রেসর ও মোটরের ক্ষেত্রে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। তবে ইলেকট্রনিক খাতে রপ্তানির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। যথাযথ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাংলাদেশ আগামীতে ‘এশিয়ার ইলেকট্রনিক হাব’ হতে পারে। তৈরি পোশাক খাতের মতো ‘বন্ডেড সুবিধা’ এবং কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানো গেলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়বে। বর্তমানে নানা বাধার কারণে আমরা রপ্তানিতে যেতে পারিনি।

প্রশ্ন: প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে ইলেক্ট্রো মার্ট কী কী করছে?

উত্তর: আমরা নতুন প্রযুক্তি নিয়ে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে চাই। যেমন—গ্রী এসিতে স্মার্ট ইনভার্টার প্রযুক্তি, যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে। এতে ইন্টিগ্রেটেড এআই চিপ ও জি-লার্নিং অ্যালগরিদম ব্যবহার হয়। এছাড়া কোল্ড প্লাজমা প্লাস টেকনোলজি ঘণ্টায় ৯৯.৯ শতাংশ ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া দূর করে। আমাদের ফ্রিজে গার্ডেন ফ্রেশ ও ভিটামিন ফ্রেশ প্রযুক্তিতে ১৭ দিন পর্যন্ত সবজি সতেজ থাকে। কনকা ফ্রিজে ডিজিটাল ডিসপ্লে ও ইনভার্টার টেকনোলজি রয়েছে। এছাড়া পরিবেশ রক্ষায় আমরা আর-৬০০ রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহার করি, যা ওজোন স্তরের ক্ষতি করে না।

প্রশ্ন: বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় করণীয় কী?

উত্তর: দুই বছর ধরে আমরা নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে, যুক্ত হয়েছে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ। তিন বছর ধরে ডলারের মূল্য অনেক বেশি। ব্যাংকে এলসি করতেও বাধা আছে। কাঁচামাল আমদানিতেও সমস্যা হচ্ছে। তবে চ্যালেঞ্জ নিয়েই আমাদের ব্যবসা। এসব মোকাবেলা করে সামনের দিকে এগোতে হবে।

প্রশ্ন: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

উত্তর: আমরা ইলেকট্রনিক খাতে একটি ইকোসিস্টেম দাঁড় করাতে চাই। নতুন নতুন প্রযুক্তি ও পণ্য নিয়ে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে চাই। দেশের মানুষের কর্মসংস্থানে কাজ করতে চাই। গবেষণা ও উন্নয়নে প্রতিনিয়ত বিনিয়োগ বাড়াচ্ছি। দেশীয় প্রকৌশলীরা আমাদের চীনা টিমের সঙ্গে একত্রে কাজ করছে। ইউরোপের প্রযুক্তি কীভাবে আমাদের পণ্যে যুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে কাজ চলছে। বিদ্যমান প্লান্টের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর জন্যও বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

(ইন্টারনেট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সাক্ষাৎকার তৈরি করা হয়েছে)