ইউনিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর আলী এবং তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বোরাক রিয়েল এস্টেটের বিরুদ্ধে ১১৫ কোটি টাকার মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীর বনানী থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির গণমাধ্যম শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান।
জসীম উদ্দিন খান বলেন, মামলায় ঢাকার বনানীতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নিয়ন্ত্রিত সরকারি জমিতে ‘বনানী সুপার মার্কেট কাম হাউজিং’ প্রকল্পে অনিয়ম, প্রতারণা ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। অনুমোদনহীন ওই ভবনে হোটেল ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে আসামিরা অবৈধভাবে ১১৫ কোটি ৫৮ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা মানি লন্ডারিং করেছেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনুসন্ধানে জানা যায়, বনানী এলাকায় ১৪ তলা ভবন নির্মাণের চুক্তি থাকলেও বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেড চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে। তারা অনুমোদন ছাড়াই ২৮ তলা ভবন নির্মাণ করে। পরে সেখানে পাঁচ তারকা হোটেল ‘শেরাটন’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না করে এবং ডিএনসিসিকে প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে না দিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রভাব খাটিয়ে চুক্তি সংশোধন করানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি জানিয়েছে, তদন্তে দেখা গেছে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউক ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র নেওয়া হয়নি। নির্ধারিত সীমার বেশি উচ্চতার কারণে ভবনটি উড়োজাহাজ ওঠানামায় ঝুঁকি ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া অনুমোদনবিহীন ওই ভবনে হোটেল ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে আসামিরা অবৈধভাবে ১১৫ কোটি ৫৮ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা আয় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে এসব অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং করা হয়েছে—এমন প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত চলাকালে বেদখল সম্পদের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা হলে মানি লন্ডারিংয়ের অঙ্ক আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগ পরিচালনা করছে বলে জানায় সিআইডি। সংস্থাটি বলেছে, অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদ্ঘাটনসহ আসামিদের গ্রেফতার করার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে নূর আলীসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান থানায় মানি লন্ডারিং আইনে আরেকটি মামলা করে সিআইডি। এই মামলায় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠিয়ে সংঘবদ্ধ প্রতারণার মাধ্যমে ৪০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়।





