480
ঢাকাশুক্রবার , ৮ মে ২০২৬
  1. অনুসন্ধানী ও বিশেষ প্রতিবেদন
  2. অপরাধ-আইন ও আদালত
  3. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প
  4. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প-ব্যাংক-বীমা-নন ব্যাংক
  5. আইটি, টেলিকম ও ই-কমার্স
  6. আবাসন-ভূমি-রাজউক-রিহ্যাব
  7. উদ্যোক্তা-জীবনী
  8. করপোরেট ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
  9. কৃষি, খাদ্য ও পরিবেশ
  10. গণমাধ্যম
  11. গৃহায়ন ও গণপূর্ত
  12. জনশক্তি ও পর্যটন
  13. জনসংযোগ-পদোন্নতি ও সম্মাননা
  14. জাতীয়
  15. দুর্ঘটনা-শোক-দুর্যোগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দেশীয় ঋণেই সরকারের ভরসা কমছে বৈদেশিক নির্ভরতা

https://www.uddoktabangladesh.com/wp-content/uploads/2024/03/aaaaaa.jpg
বিশেষ প্রতিনিধি :
মে ৮, ২০২৬ ৪:২২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বিশেষ প্রতিনিধি : দেশের সরকারি ঋণ কাঠামোয় বৈদেশিক ঋণের প্রতি আগ্রহ বাড়ার আলোচনা থাকলেও বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। এখনো সরকারের প্রধান ভরসা দেশীয় উৎস। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিক বুলেটিন অনুযায়ী, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট সরকারি ঋণের ৫৭ শতাংশই ছিল অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেওয়া, বিপরীতে বৈদেশিক ঋণের অংশ ছিল ৪৩ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারের এই অবস্থানের পেছনে একদিকে রয়েছে কৌশলগত সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ঋণপ্রবাহে ধীরগতির বাস্তবতা। উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পূর্ব অনুমোদিত ঋণ ছাড়ে শ্লথগতি দেখা যাচ্ছে, একই সঙ্গে নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতিও কমে এসেছে। ফলে সরকার বাধ্য হয়েই অভ্যন্তরীণ উৎসের দিকে বেশি ঝুঁকছে।
এ ছাড়া বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ডলারের ওপর বাড়তি চাপ এবং বিনিময় হার ঝুঁকি সরকারকে সতর্ক অবস্থানে রেখেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও ডলার সংকট মোকাবিলায় সরকার ঋণ ব্যবস্থাপনায় তুলনামূলক নিরাপদ কৌশল হিসেবে দেশীয় উৎসকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সংখ্যার হিসাবেও এই প্রবণতা স্পষ্ট। ২০২৪ সালের জুন শেষে, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগে, দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ ১০ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে, ডিসেম্বর শেষে সেই অঙ্ক বেড়ে ছাড়িয়ে যায় ২২ লাখ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এই সময়ে মোট নতুন ঋণ যুক্ত হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা।
ঋণ বৃদ্ধির বড় অংশই এসেছে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। ফলে ডিসেম্বর শেষে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকায়। একই সময়ে বৈদেশিক ঋণও বেড়েছে, তবে তুলনামূলক কম গতিতে। এ সময়ে বিদেশি ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা, যা ডিসেম্বর শেষে দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৫৯ হাজার কোটি টাকায়।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের চিত্র আরও তাৎপর্যপূর্ণ। জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকার মোট ৬২ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি। তবে এই বৃদ্ধির প্রায় পুরো চাপই বহন করেছে অভ্যন্তরীণ উৎস।
এ সময়ে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ কমেছে ৫৯ শতাংশ, নেমে এসেছে ১০ হাজার ১৩০ কোটি টাকায়। বিপরীতে অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়েছে ৭০ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ৫২ হাজার ২৯৮ কোটি টাকায়। এর বড় অংশ এসেছে সরকারি সিকিউরিটিজ বা ঋণপত্র বিক্রির মাধ্যমে। পাশাপাশি সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেও সরাসরি ১৯ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান ঋণ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ঋণের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে স্বল্পমেয়াদি চাপ কিছুটা কমে আসবে এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে বলে মনে করছে সরকার। তবে ঋণের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে সুদ পরিশোধের চাপও। চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে সরকারের মোট সুদ পরিশোধ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে শুধু অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ বাবদ ব্যয় হয়েছে ৬১ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। এই খাতে প্রবৃদ্ধি ২৫ শতাংশ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব ব্যয়ের ওপর চাপ বাড়াতে পারে। কারণ দেশীয় ঋণের সুদের হার সাধারণত বৈদেশিক ঋণের তুলনায় বেশি। ফলে সরকারের বাজেটের বড় অংশ সুদ পরিশোধে ব্যয় হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে, সরকারি ঋণগ্রহণ বাড়লে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। যদিও অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সে ধরনের বড় কোনো চাপ তৈরি হয়নি। তাদের মতে, ব্যাংকিং খাতে এখনো পর্যাপ্ত তারল্য রয়েছে, সরকারি সিকিউরিটিজে মুনাফার হার কমছে এবং বেসরকারি খাতে ঋণচাহিদাও তুলনামূলক দুর্বল। ফলে সরকারি ঋণগ্রহণ আপাতত বেসরকারি বিনিয়োগকে তেমনভাবে বাধাগ্রস্ত করছে না। সব মিলিয়ে, বৈদেশিক ঋণপ্রবাহে অনিশ্চয়তা ও ডলারের চাপের মধ্যে সরকার আপাতত অভ্যন্তরীণ উৎসকেই নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিচ্ছে। তবে ঋণের ক্রমবর্ধমান সুদ ব্যয় ভবিষ্যতে অর্থনীতির জন্য নতুন চাপ হয়ে উঠতে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।