480
ঢাকাশনিবার , ৭ মার্চ ২০২৬
  1. অনুসন্ধানী ও বিশেষ প্রতিবেদন
  2. অপরাধ-আইন ও আদালত
  3. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প
  4. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প-ব্যাংক-বীমা-নন ব্যাংক
  5. আইটি, টেলিকম ও ই-কমার্স
  6. আবাসন-ভূমি-রাজউক-রিহ্যাব
  7. উদ্যোক্তা-জীবনী
  8. করপোরেট ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
  9. কৃষি, খাদ্য ও পরিবেশ
  10. গণমাধ্যম
  11. গৃহায়ন ও গণপূর্ত
  12. জনশক্তি ও পর্যটন
  13. জনসংযোগ-পদোন্নতি ও সম্মাননা
  14. জাতীয়
  15. দুর্ঘটনা-শোক-দুর্যোগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অস্তিত্ব সংকটে প্রাইম ফাইন্যান্স

https://www.uddoktabangladesh.com/wp-content/uploads/2024/03/aaaaaa.jpg
উদ্যোক্তা বাংলাদেশ ডেস্ক:
মার্চ ৭, ২০২৬ ৩:৫২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নগদ অর্থের শূন্যতা, নেতিবাচক সঞ্চিতি, ব্যবসা চালানোর সক্ষমতা নিয়েই শঙ্কা

একসময়ের পরিচিত নাম প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে জর্জরিত। কোম্পানিটির ২০২৩ অর্থবছরের আর্থিক হিসাব নিরীক্ষায় কোম্পানিটির ব্যবসা চালানোর সক্ষমতা নিয়েই গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিরীক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে চলা আর্থিক দুর্বলতা, নগদ অর্থের সংকট ও ক্রমবর্ধমান দায় কোম্পানিটিকে এমন সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে ফেলেছে যে, এর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিতের গহ্বরে।

২০২৫ সালের বার্ষিক আর্থিক হিসাব প্রকাশের সময় চললেও গত ২১ জানুয়ারি হিমশিম খেয়ে ২০২৩ সালের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রাইম ফাইন্যান্স কর্তৃপক্ষ। সেই প্রতিবেদনেই বেরিয়ে আসে কোম্পানিটির শোচনীয় অবস্থার চিত্র। নিরীক্ষকের প্রতিবেদন বলছে, কোম্পানিটি বর্তমানে তীব্র নগদ অর্থ সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, কোম্পানিটির সংরক্ষিত মুনাফা (রিটেইন আর্নিংস) ২০১৫ সাল থেকেই ঋণাত্মক (নেতিবাচক) রয়েছে। অর্থাৎ, গত এক দশক ধরেই কোম্পানিটি মুনাফা থেকে সঞ্চয় করতে পারেনি, বরং জমে থাকা মুনাফাও ক্ষয়ে গেছে।

প্রদত্ত ঋণই খেলাপি, বাড়ছে প্রভিশন চাপে দিশেহারা: প্রাইম ফাইন্যান্সের আর্থিক কাঠামোতে আরেকটি বড় ফাটল ধরিয়েছে তার নিজেরই অধীনস্থ ও সহযোগী কোম্পানিগুলোকে দেওয়া ঋণ। এই ঋণের একটি বড় অংশই এখন খেলাপি হয়ে গেছে, যা কোম্পানির আয়ের পথ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। খেলাপি ঋণের কারণে কোম্পানিটিকে বিপুল পরিমাণ সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণ করতে হবে। ২০২৩ অর্থবছরে এই সঞ্চিতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

এত বিপুল পরিমাণ সঞ্চিতি একবারে রাখার বোঝা কোম্পানির পক্ষে বহন করা সম্ভব নয় বুঝেই বাংলাদেশ ব্যাংক কোম্পানিটিকে কিছুটা শর্ত শিথিল করে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রাইম ফাইন্যান্সকে এই বিপুল অঙ্কের সঞ্চিতি আগামী ৮ বছরের জন্য সমান হাতে ভাগ করে রাখার সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারবে কোম্পানিটি?

চলমান লোকসান, বাড়ছে অনিশ্চয়তা: নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, প্রাইম ফাইন্যান্স আগের দুটি অর্থবছরের মতো ২০২৩ সালেও ব্যাপক লোকসান করেছে। শুধু সামগ্রিক ব্যবসায় নয়, কোম্পানিটি পরিচালন পর্যায়েও (অপারেশনাল লস) লোকসানে রয়েছে। অর্থাৎ, তাদের মূল ব্যবসা থেকে আয় করে খরচ চালানোর ক্ষমতাই এখন নেই।

এ অবস্থায় ভবিষ্যতে এই বিপুল পরিমাণ সঞ্চিতি গঠনের মতো পর্যাপ্ত মুনাফা করা কোম্পানিটির পক্ষে সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নিরীক্ষক। তাদের মতে, বর্তমান শোচনীয় অবস্থা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে প্রভিশন গঠন করতে গিয়েই কোম্পানিটির পুঁজি আরও ক্ষয়ে যাবে, যা তাকে দেউলিয়া হওয়ার পথে নিয়ে যেতে পারে। চলমান এই দুরাবস্থার কারণেই প্রাইম ফাইন্যান্সের ব্যবসা চালানোর সক্ষমতা (গোয়িং কনসার্ন) নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পুঁজিবাজারে অবস্থান ও শেয়ার মালিকানা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এই কোম্পানিটির মোট পরিশোধিত মূলধন ২৭২ কোটি ৯১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। সে হিসাবে মোট শেয়ারের সংখ্যা ২৭ কোটি ২৯ লাখ ১৬ হাজার ৪৮৩টি। ২০০৫ সালে পুঁজিবাজারে আসা কোম্পানিটি এখন ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে, যা তার অস্বাস্থ্যকর আর্থিক অবস্থারই প্রতিফলন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত কোম্পানির উদ্যোক্তাদের হাতে রয়েছে ৫৯.১৪ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৭.১৩ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩৩.৭৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ: আর্থিক খাত বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রাইম ফাইন্যান্সের এই দুরবস্থা শুধু একটি কোম্পানির সমস্যা নয়, বরং এটি সামগ্রিক আর্থিক খাতের দুর্বলতারই একটি উদাহরণ। গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিতই অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান। প্রাইম ফাইন্যান্সের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক সঞ্চিতি এবং নিজেদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানকেই ঋণ দিয়ে তা খেলাপি হওয়ার ঘটনা কোম্পানিটির পরিচালন দুর্বলতাকেই চিহ্নিত করে। এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের শর্ত শিথিল করা সত্ত্বেও কোম্পানিটি টিকে থাকতে পারবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা, যারা এই কোম্পানির প্রায় ৩৪ শতাংশ শেয়ারের মালিক, তাদের বিনিয়োগ এখন চরম ঝুঁকির মুখে।