উদ্যোক্তা বাংলাদেশ ডেস্ক: বাংলাদেশ নির্বাচনী আইনে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন প্রার্থী যদি তার আসনের মোট বৈধ ভোটের অন্তত সাড়ে ১২ শতাংশ না পান। তাহলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। অর্থাৎ ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১৬ এবং ইসির বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত), ৭ জানুয়ারি ২০২৬ অনুযায়ী সংগৃহীত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা কমপক্ষে সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট না পেলে প্রার্থী জামানত ফেরত পাওয়ার যোগ্য হন না। এ বিধান বর্তমানেও বলবৎ রয়েছে। নির্বাচনী আইন অনুসারে যা জামানত বাজেয়াপ্তের হিসাব নির্ধারণ করে শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে, জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে সদ্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কিছুতে প্রয়োজনীয় ভোট না পেয়ে ৮ জেলায় ৭২ প্রার্থী জামানত হারালেন।শুক্রবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আমাদের জেলা-উপজেলা থেকে প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো তথ্য।
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) : গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ৮ প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারালেন ৫ জন। যেসব প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে তারা হলেন-স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তফা মহসিন সরদার, পরমানন্দ দাস (বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল), কাওছর আজম হান্নু (আমজনতার দল), ছালমা আক্তার (স্বতন্ত্র), রমজান আলী (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ)।উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিধি অনুযায়ী মোট সংগৃহীত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট পেলে প্রার্থীরা জামানত ফেরত পাবেন। গাইবান্ধা-১ আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৭০৪টি। সে অনুযায়ী প্রত্যক প্রার্থীকে ১৯ হাজার ৭৩৭ ভোট পেতে হবে। এ আসনে ৫ প্রার্থী নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটের চেয়ে কম পেয়েছেন। সে কারণে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।এ আসনে ১ লাখ ৩৯ হাজার ২১৬ ভোট পেয়ে বেসকোরিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. মাজেদুর রহমান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৬৭৫ ভোট। ভোট পড়েছে ৫৯.৩২ ভাগ। উপজেলায় মোট ভোট সংখ্যা ৪ লাখ ১৯ হাজার ১১১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭ হাজার ৫৭৩ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ১১ হাজার ৫৩৫ জন এবং হিজড়া ভোটার ৩ জন।
চট্টগ্রামে : চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীসহ ৬ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো সংসদীয় আসনে সংগৃহীত বৈধ ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশ (১২.৫%) ভোট অর্জনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।নির্বাচনে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া অপর প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পার্টি, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী।এ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ এনামুল হক ১ লাখ ১৩ হাজার ৮৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। এ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ ফরিদুল আলম ২০ হাজার ৮৫২ ভোট ও ইসলামী ফ্রন্টের মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ পেয়ারু পেয়েছেন ২৮ হাজার ৭৭৭ ভোট। এছাড়া জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ফরিদ আহমদ চৌধুরী ৭২৫ ভোট, এলডিপির ছাতা প্রতীকের প্রার্থী এয়াকুব আলী ১০২ ভোট, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের আপেল প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আবু তাহের হেলালী ৯২৩ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী এস এম বেলাল নুর আজিজি পেয়েছেন ৮৭৯ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতীকের সাখাওয়াত হোসেন পেয়েছেন ২৩৫ ভোট।নির্বাচনী হিসাব অনুযায়ী, এ আসনে সংগৃহীত বৈধ ভোটের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮৬ হাজার ৬৬৩। এ হিসাবে সাড়ে ১২ শতাংশ ভোটের সীমা অতিক্রম করতে পেরেছেন কেবল ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ পেয়ারু। ফলে তাঁর জামানত অক্ষুণ্ন থাকলেও জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ অপর প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের ছয়টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৩৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৭ জন জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী তাঁর নির্বাচনী এলাকায় সংগৃহীত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা কমপক্ষে সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট অর্জন করতে না পারলে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ-১ আসনে জামানত হারিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের মোছা. মল্লিকা খাতুন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুস সবুর, জাতীয় পার্টির মো. জহিরুল ইসলাম এবং নাগরিক ঐক্যের মো. নাজমুস সাকিব।সিরাজগঞ্জ-২ আসনে বাসদের প্রার্থী এস এম আব্দুল্লাহ আল মামুন, গণঅধিকার পরিষদের মো. মাহফুজুর রহমান, সিপিবির মো. আনোয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলনের মো. মহিবুল্লাহ এবং জনতার দলের মো. সোহেল রানা জামানত খুইয়েছেন। সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইলিয়াছ রেজা রবিন এবং জাতীয় পার্টির মো. ফজলুল হক জামানত হারিয়েছেন। সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের মো. আব্দুর রহমান, সিপিবির মো. আব্দুল হাকিম এবং জাতীয় পার্টির মো. হিল্টন প্রামানিকের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে জামানত হারিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. নুরুন্নবী, জাতীয় পার্টির মো. আকবর হোসেন, গণঅধিকার পরিষদের মো. ইউসুফ আলী এবং সিপিবির মো. মতিয়ার রহমান।জেলার মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে। এ আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীরা হলেন–এবি পার্টির আবু জাফর মোহাম্মদ আনোয়ার শাহাদাত, জাসদের ইলোরা খাতুন, ইসলামী আন্দোলনের মিসবাহ উদ্দিন, বাসদের মো. আনোয়ার হোসেন, আমজনতা দলের মো. আসাদুল হক, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইকবাল খান মজলিস, মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, জাতীয় পার্টির মো. মোক্তার হোসেন ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. মোশারফ হোসেন শহিদুল। এবারের নির্বাচনে প্রতিটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রার্থীদের ৫০ হাজার টাকা করে জামানত জমা দিতে হয়েছে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আমিনুর রহমান মিয়া বলেন, নির্বাচনী এলাকায় মোট প্রদত্ত ভোটের কমপক্ষে সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। নির্ধারিত হারের বেশি ভোট পেলে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের জমা দেওয়া জামানতের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে আলোচিত প্রার্থী নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না জামানত হারিয়েছেন। কেটলি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ভোট বিপর্যয়ের মুখে পড়েন তিনি। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৪২ হাজার ১৫৫। এর মধ্যে মোট বৈধ ভোট পড়েছে দুই লাখ ৪৩ হাজার ৮০২টি, যা মোট ভোটারের ৭২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে মোট বৈধ ভোটের কমপক্ষে এক-অষ্টমাংশ, অর্থাৎ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। সেই হিসাবে এই আসনে জামানত রক্ষা করতে মান্নার প্রয়োজন ছিল ৩০ হাজার ৪৭৬ ভোট। কিন্তু তিনি পেয়েছেন মাত্র তিন হাজার ৪২৬ ভোট। যা মোট বৈধ ভোটের প্রায় এক দশমিক ৪ শতাংশ।
হবিগঞ্জে : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ জেলায় ১৬ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। যারা প্রদত্ত ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশের বা আট ভাগের এক ভাগের কম পেয়েছেন তাদেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে হবিগঞ্জ-১ আসনে ২ জন; হবিগঞ্জ-২ আসনে ৩ জন; হবিগঞ্জ-৩ আসনে ৪ জন এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনে ৭ জন রয়েছে।হবিগঞ্জ-১ আসনে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ১৫ হাজার ১৭৭টি। এখান থেকে জাসদের কাজী তোফায়েল আহমেদ (মোটরগাড়ি) ৬৪৪ ও ইসলামিক ফ্রন্টের মোহাম্মদ বদরুর রেজা (চেয়ার) ৫ হাজার ২৭২ ভোট পাওয়ায় জামানত হারাচ্ছেন। হবিগঞ্জ-২ আসনে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৯৭৫। এর মধ্যে স্বতন্ত্র আফছার আহমদ (ফুটবল) ১ হাজার ৮৪৩; জাতীয় পার্টির আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরী (লাঙ্গল) ৯৪১ ও বাসদের লুকমান আহমদ তালুকদার (মই) ৪৪৮ ভোট পাওয়ায় জামানত হারাচ্ছেন।হবিগঞ্জ-৩ আসনে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ১৪ হাজার ৮৪৮টি। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের মহিব উদ্দিন আহমেদ সোহেল (হাতপাখা) ৫ হাজার ৪৪৩, জাতীয় পার্টির আব্দুল মুমিন চৌধুরী (লাঙ্গল) ১ হাজার ২৫৯, ইসলামিক ফ্রন্টের এসএম সরওয়ার (মোমবাতি) ১৪ হাজার ১৩৩ ও সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. শাহিনুর রহমান (ছড়ি) ১৩২ ভোট পাওয়ায় জামানত হারাচ্ছেন।এছাড়া হবিগঞ্জ-৪ আসনে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ১০ হাজার ৯৭টি। এ আসনে খেলাফত মজলিসের আহমদ আবদুল কাদের (দেওয়াল ঘড়ি) ২৬ হাজার ৪৪৬; বাসদের মো. মুজিবুর রহমান (মই) ৩২৯, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মু. রেজাউল মোস্তফা (আপেল) ৪৮৪, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. রাশেদুল ইসলাম খোকন (ছড়ি) ৪৮৪, মুসলিম লীগের শাহ মো. আল আমিন (হারিকেন) ৫৩৬, স্বতন্ত্র মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী (ঘোড়া) ৬৫২ ও এসএ সাজন (ফুটবল) ৬১৯ ভোট পাওয়ায় জামানত হারাচ্ছেন।
রাজশাহী : রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সাত প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনই জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। দেখা যায়, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল পেয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৩৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মনজুর রহমান পেয়েছেন ৭২ হাজার ৫১২ ভোট।নির্বাচন কমিশনের শর্ত অনুযায়ী মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় পাঁচ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন—ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রেজাউল করিম (৬ হাজার ৩৮৫ ভোট), ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি ইসফা খায়রুল হক শিমুল (২ হাজার ৪৭৪ ভোট), মোটরসাইকেল প্রতীকের অ্যাডভোকেট রায়হান কায়সার (৪৩৮ ভোট), একতারা প্রতীকের বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী মো. আলতাফ হোসেন মোল্লা (৯২৯ ভোট) এবং হাতপাখা প্রতীকের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. রুহুল আমিন (৬১০ ভোট)।
ঢাকা-১২ আসন : ঢাকা-১২ আসনে বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলে আম জনতা দলের সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান প্রজাপতি প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৪৪ ভোট।প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, এই আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ২৬৮টি, যা মোট ভোটের ৩৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। এখানে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সাইফুল আলম ৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কোদাল প্রতীকে পেয়েছেন ৩০ হাজার ৯৬৩ ভোট। একই আসনে বাতিল ভোট হয়েছে ২ হাজার ৪৪৪টি; এ হিসেবে বাতিল ভোটের সংখ্যার চেয়েও কম ভোট পেয়েছেন মো. তারেক রহমান।নির্বাচন কমিশনের পরিপত্রে বলা আছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় মো. তারেক রহমানের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা জেলার চার আসনের ২০ প্রার্থীর মধ্যে ১১ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে আছেন জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চার জন করে নেতা। পাশাপাশি, বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- বাংলাদেশ জাসদ ও বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির (বিএমজিপি) একজন করে প্রার্থীকেও এই মন্দভাগ্য বরণ করতে হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা- ১ (তালা কলারোয়া) আসনে ভোট পড়েছে মোট তিন লাখ ৬৯ হাজার ৯৭। সাড়ে শতাংশের হিসাব মতে, ওই আসনে জামানত রক্ষার জন্য ন্যুনতম ৪৬ হাজার ১৩৭ ভোট পাওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল হবে। সেখানে এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জিয়াউর রহমান লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন মাত্র দুই হাযার ৫৪৪ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শেখ মো. রেজাউল করিম হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন দুই হাযার ৭১ ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মোহাম্মদ ইয়ারুল ইসলাম ডাব প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ৭১৫। তাদের সবারই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনে মোট ভোট পড়ে তিন লাখ ৭৯ হাজার ৮২৩। জামানত রক্ষার ন্যুনতম ৪৮ হাজার ৭২৮ ভোটের বিপরীতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আশরাফুজ্জামান চার হাজার ২৭৮, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি রবিউল ইসলাম এক হাজার ৯৭৬ ও বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদের প্রার্থী মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী পেয়েছেন ৩১৭ ভোট। একইভাবে ন্যুনতম ভোট না পেয়ে জামানত হারিয়েছেন সাতক্ষীরা-৩ (কালীগঞ্জ-আশাশুনি) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আলিপ হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. ওয়েজ কুরনী, বিএমজিপি প্রার্থী রুবেল হোসেন এবং সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে জাতীয় পার্টির মো. আব্দুর রশিদ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এস এম মোস্তফা আল মামুন। জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা জেলার চার আসনে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম, মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, হাফেজ মুহা. রবিউল বাশার ও মো. ইজ্জত উল্লাহ।





