নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: রাষ্ট্রায়ত্ত বৃহত্তম বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী ব্যাংক পিএলসি-এর প্রধান কার্যালয়ের সামনে এখন ব্যানার, পোস্টার ও রাজনৈতিক সাইনবোর্ডে ছাওয়া। রাজধানীর বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই ভবনের বাহ্যিক চিত্র এখন অনেকটাই একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ের মতো দেখাচ্ছে—যা ব্যাংকের নিরপেক্ষতা, ভাবমূর্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ব্যানারে ছাওয়া ব্যাংক ভবন: ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা ৩৫-৪২, ৪৪ মতিঝিল কমার্শিয়াল এরিয়া। অফিস ভবনের সামনের দেয়াল, গেট ও ফটকের পাশে ঝুলছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যানার-পোস্টার। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই দৃশ্য নতুন নয়—গত কয়েক মাস ধরেই ভবনটির সামনে এমন অবস্থা চলছে।
মতিঝিলের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ব্যাংকের সামনে আসলেই মনে হয় রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢুকছি। বাইরে যত ব্যানার-পোস্টার, বোঝাই যায় না এটা দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক নাকি কোনো রাজনৈতিক সংগঠন।”
নিরাপত্তা ও ভাবমূর্তির ঝুঁকি: বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের এই চিত্র কেবল নান্দনিক বা সৌন্দর্যগত সমস্যা নয়, এটি নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। অনুমোদনহীন ব্যানার ও পোস্টার ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত করতে পারে। একই সঙ্গে জনগণের চলাচলে বিঘ্ন এবং ভবনের নিরাপত্তা পরিকল্পনা কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটছে।
আইন ও প্রশাসনিক অবস্থান: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সম্প্রতি ‘নির্ধারিত স্থান ছাড়া পোস্টার বা ব্যানার স্থাপন নিষিদ্ধ’ করে নির্দেশনা দিয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনও রাজনৈতিক প্রচারণায় পোস্টার-ব্যানার ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবুও মতিঝিলের কেন্দ্রস্থলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সামনেই সেই নিয়ম অমান্য করে চলছে এসব কর্মকাণ্ড।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা : ব্যাংক সূত্র জানায়, ভবনের সামনে এসব ব্যানার সরাতে কর্তৃপক্ষ অনীহা দেখাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, “স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের চাপে আমরা কিছু করতে পারছি না। সরানোর চেষ্টা করলে সমস্যা হতে পারে।”
ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, “আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।” তবে তারা কোনো সময়সীমা বা নির্দিষ্ট পদক্ষেপ সম্পর্কে কিছু জানায়নি।
বিশেষজ্ঞ মতামত, নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ বলেন, “একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ভবনের সামনে রাজনৈতিক ব্যানার থাকা সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত। এটি শুধু নান্দনিক নয়, বরং গভর্ন্যান্স ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন তোলে।”
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ব্যাংক ভবনের জন্য আলাদা ডিজাইন ও স্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন, অনুমোদনহীন ব্যানার অপসারণে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন, এবং নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা ও তথ্য বোর্ড স্থাপন জরুরি।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এমন অনিয়ম শুধু একটি ভবনের সৌন্দর্য নষ্ট করছে না—বরং প্রকাশ করছে সুশাসনের ঘাটতি ও বহিরাগত প্রভাবের গভীরতা। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এটি কেবল সোনালী ব্যাংকের ভাবমূর্তি নয়, পুরো ব্যাংকিং খাতের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।





