480
ঢাকাসোমবার , ২৭ অক্টোবর ২০২৫
  1. অনুসন্ধানী ও বিশেষ প্রতিবেদন
  2. অপরাধ-আইন ও আদালত
  3. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প
  4. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প-ব্যাংক-বীমা-নন ব্যাংক
  5. আইটি, টেলিকম ও ই-কমার্স
  6. আবাসন-ভূমি-রাজউক-রিহ্যাব
  7. উদ্যোক্তা-জীবনী
  8. করপোরেট ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
  9. কৃষি, খাদ্য ও পরিবেশ
  10. গণমাধ্যম
  11. গৃহায়ন ও গণপূর্ত
  12. জনশক্তি ও পর্যটন
  13. জনসংযোগ-পদোন্নতি ও সম্মাননা
  14. জাতীয়
  15. দুর্ঘটনা-শোক-দুর্যোগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘বৈশ্বিক নতুন অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষ মানব সম্পদ আবশ্যক’

https://www.uddoktabangladesh.com/wp-content/uploads/2024/03/aaaaaa.jpg
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
অক্টোবর ২৭, ২০২৫ ১০:৩৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পরিবর্তনশীল তথ্য-প্রযুক্তির বর্তমান সময়ের অর্থনৈতিক কার্যক্রম ক্রমশ পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা মোকাবেলায় বাংলাদেশকে দক্ষ মানব সম্পদ তৈরিতে অধিক হারে মনোনিবেশ করা জরুরি বলে মত প্রকাশ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে স্মার্ট মানব সম্পদ উন্নয়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনার বক্তারা। এছাড়াও দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিতকরণ, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বয় সাধনের পাশাপাশি শিক্ষা ও শিল্পখাতের সম্পর্ক উন্নয়নের উপর উক্ত সভায় জোরারোপ করা হয়।

আজ ২৭ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে ডিসিসিআই মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ গোলটেবিল আলোচনা সভায় জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ)’র নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব কেবল প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়, বরং উৎপাদন ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শ্রমবাজারে গভীর ও মৌলিক রূপান্তর এনেছে, বিশেষকরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আমাদের শিল্প ও সেবাখাতে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। তিনি জানান, ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের তথ্য মতে আগামী পাঁচ বছরে বর্তমান চাকরির বাজার প্রায় এক-চতুর্থাংশ বদলে যাবে এবং বাংলাদেশের এলডিসি পরবর্তী সময়ের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে স্মার্ট মানবসম্পদই হবে একমাত্র হাতিয়ার, তবে তাদেরকে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন যুগের কর্মসংস্থানে নিজেদের উপযুক্ত করে তুলতে হবে। বিদ্যমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশের শিক্ষ্যাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, কারিগরি শিক্ষার উপর অধিকহারে গুরুত্বারোপ এবং শিক্ষা ও শিল্পখাতের সমন্বয় বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই বলে মনে করেন ডিসিসিআই সভাপতি।

প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে এনএসডিএ’র নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী জানান, প্রশিক্ষণ প্রদানে নিয়োজিত সরকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা রয়েছে, সেই সাথে মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়নে সকল স্তরের সচেতনতার অভাবের বিষয়টিও পরিলক্ষিত হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার পর হতে এনএসডিএ নিজের আইনী কাঠামো, ভৌত ও প্রশাসনিক অবকাঠামোর উপর নজর দিলেও বর্তমানে দক্ষ মানব সম্পদ তৈরিতে প্রশিক্ষণের উপর বেশি মনোযোগী হয়েছে। নির্বাহী চেয়ারম্যান জানান, জাপানে ১ লক্ষ দক্ষ বাংলাদেশী প্রেরণের লক্ষ্যে সরকারি ও শিক্ষাখাতের সহায়তায় জাপানীজ ভাষা শেখানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও বিশেষকরে নারীদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ প্রদানের উপর তিনি জোরারোপ করেন।তিনি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সাথে মানব সম্পদের দক্ষতা উন্নয়নে বিষয়টি সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারিখাতের সমন্বয় বাড়ানোর প্রস্তাব করেন।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যের রিডিং বিশ^বিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ভিজেটিং অধ্যাপকড. এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ। তিনি বলেন, এটুআই ও ইউএনডিপি’র ২০১৯ সালের গবেষণায় দেখা যাচ্ছে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ২০৩০ সালের বাংলাদেশের তৈরি পোষাক, খাদ্য ও কৃষি, ফার্নিচার, পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে প্রায় ৫৩.৮ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে, এমতাবস্থায় দেশের কর্মরত মানবম্পদকে প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নের উপর অধিক হারে গুরুত্বারোপ করতে হবে। তিনি সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রমের যুগোপযোগীকরণের পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। এছাড়াও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়নে বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিতের উপর জোরারোপ করেন নিয়াজ আসাদুল্লাহ।

এছাড়াও অনুষ্ঠানের নির্ধারিত আলোচনায় বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের যুগ্ম-সচিব (আইসিটি ডিভশন) মোহাম্মদ সাইফুল হাসান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম, ইষ্ট ওয়েষ্ট বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামস রহমান, দি ইন্সটিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট একাউন্টস্ অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)-এর সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, ট্রান্সকম গ্রুপের কর্পোরেট মানব সম্পদ বিভাগের প্রধান এম সাব্বির আলী, বৃটিশ আমেরিকান টোবাকো-এর রিজিওন্যাল সিনিয়র ম্যানেজার খান মোহাম্মদ শফিকুল আলম, বুয়েটের কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসরুর আলী এবং ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাইসুল কবীর অংশগ্রহণ করেন।

রাইসুল কবীর জানান, কৃত্রিম বুদ্দিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত ও মানসম্মত কাজের চাহিদা বাড়ছে, এর কারণে কর্মসংস্থান সংকুচিত হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে ভবিষ্যতের চাহিদার নিরিখে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এখাতের মানব সম্পদের দক্ষতা উন্নয়নে মনোযোগী হতে হবে।অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসরুর আলী বলেন, গ্রাম ও শহরের বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষামান বড় ধরনের পাথর্ক্য রয়েছে, ফলে আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক স্তর থেকে বৈষম্য শিকার হচ্ছে, তাই শিক্ষার সকল স্তরে মান নিশ্চিত করা জরুরী।খান মোহাম্মদ শফিকুল আলম বলেন, দক্ষতা উন্নয়নে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষা কারিকুলামের যুগোপযোগীকরণে প্রয়োজনীয় সংষ্কার জরুরী। তথ্য-প্রযুক্তি ও অটোমেশনের ফলে কি ধরনের সুবিধা পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে উদ্যোক্তাদের আরো সচেতনতা বাড়ানো, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বয় বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নজরদারির জন্য একটি আলাদা জাতীয় কাউন্সিল স্থাপনের প্রস্তাব করেনএম সাব্বির আলী। আইসিএমএবি’র সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমেদ জানান, আমাদের শিক্ষার্থীদের মাত্র ২০শতাংশ তাদের দক্ষতা অনুযায়ী চাকুরী পেয়ে থাকে এবং প্রায় ২ মিলিয়ন শিক্ষার্থী বেকার রয়েছে, এ অবস্থা মোকাবেলায় কারিগরি শিক্ষার উপর জোরারোপ ও সমাজের সকল স্তরের মানসিকতা পরিবর্তনের উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। অধ্যাপক ড. শামস রহমান বলেন, শিল্পখাতের চাহিদার নিরিখে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দক্ষ মানব সম্পদ তৈরি করতে পারছেনা, তাই দক্ষ মানবম্পদ তৈরিতে শিক্ষা-শিল্পখাতের সমন্বিত কার্যক্রম জরুরী।হাই-টেক পার্ক গুলোতে একক ও যৌথ বিনিয়োগের জন্য দেশীয় ও বিদেশী উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানানমোহাম্মদ সাইফুল হাসান।

মুক্ত আলোচনায় ডিসিসিআই’র সাবেক সহ-সভাপতি এম আবু হোরায়রাহ্ বিদেশে দক্ষ মানবসম্পদ প্রেরণের উপর জোরারোপ করেন, যার মাধ্যমে আরো বেশি হারে রেমিট্যান্স আহারণ সম্ভব, সেই সাথে কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের উপর তিনি জোরারোপ করেন। এছাড়াও ডিসিসিআই’র পরিচালক মোহাম্মদ জমশের আলী, স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক মীর শাহরুক ইসলাম প্রমুখ মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

ডিসিসিআই’র ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সহ অন্যান্য স্টেকহোল্ডারবৃন্দ এ অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।