480
ঢাকাসোমবার , ৬ জুলাই ২০২৬
  1. অনুসন্ধানী ও বিশেষ প্রতিবেদন
  2. অপরাধ-আইন ও আদালত
  3. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প
  4. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প-ব্যাংক-বীমা-নন ব্যাংক
  5. আইটি, টেলিকম ও ই-কমার্স
  6. আবাসন-ভূমি-রাজউক-রিহ্যাব
  7. উদ্যোক্তা-জীবনী
  8. করপোরেট ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
  9. কৃষি, খাদ্য ও পরিবেশ
  10. গণমাধ্যম
  11. গৃহায়ন ও গণপূর্ত
  12. জনশক্তি ও পর্যটন
  13. জনসংযোগ-পদোন্নতি ও সম্মাননা
  14. জাতীয়
  15. দুর্ঘটনা-শোক-দুর্যোগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জিপিএইচ ইস্পাতের হাতে অবরুদ্ধ ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী

https://www.uddoktabangladesh.com/wp-content/uploads/2024/03/aaaaaa.jpg
সংবাদদাতা, সীতাকুণ্ড :
জুলাই ৬, ২০২৬ ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদদাতা, সীতাকুণ্ড : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতানা মন্দির ত্রিপুরাপাড়ায় নৃতাত্ত্বিক ঐতিহ্য বহনকারী একটি ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বসবাস। এখানে ৩১টি ত্রিপুরা পরিবারে দুই শতাধিক মানুষের বসতি রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে গ্রামে প্রবেশের একমাত্র সড়কে চেকপোস্ট স্থাপন করেছে জিপিএইচ ইস্পাত কারখানা, যার ফলে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, ত্রিপুরাপাড়ায় যাওয়ার সড়কের পাশ ঘেঁষে জিপিএইচ ইস্পাত কারখানার একটি ১০ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৌশলে সড়কের ওপরই তোলা হয়েছে কারখানার সীমানা দেয়াল, যা ব্যবহার করে সেখানে একটি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। চেকপোস্টে চারজন নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালন করছেন এবং ত্রিপুরাপাড়ায় যেতে চাইলে তারা পথচারীদের বাধা দেন। নিরাপত্তাকর্মীদের দাবি, এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী স্থানীয় বাসিন্দাদের টোকেন দেওয়া হয়েছে এবং সেই টোকেন দেখালে চেকপোস্ট পার হতে দেওয়া হয়। তবে ত্রিপুরাপাড়ার বাসিন্দাদের অভিযোগ, টোকেন থাকলেও বাইরের আত্মীয়-স্বজনদের আসা–যাওয়ায় নানা ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। তাদের ভাষায়, পুরো ত্রিপুরাপাড়াই যেন একপ্রকার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

কথাবার্তার একপর্যায়ে এই সাংবাদিক চেকপোস্ট পার হতে চাইলে সিকিউরিটি কর্মকর্তা বলেন, ‘অনুমতি দিলে আমার চাকরি থাকবে না।’ এ বিষয়ে গত রোববার সীতাকুণ্ড উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দুই সপ্তাহ আগে আমরা বিষয়টি শুনি। তখন উপজেলা প্রশাসনের লোক পাঠিয়ে ত্রিপুরাপাড়ার রাস্তা বন্ধের সত্যতা পাই এবং ত্রিপুরার সরদারদের সঙ্গে কথা বলি। ত্রিপুরার সরদারদের এ বিষয়ে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু তাঁরা এখনো কোনো অভিযোগ দেননি।’

এই বিষয়ে সুলতানা মন্দির ত্রিপুরাপাড়ার প্রবীণ বাসিন্দা বিকারাম ত্রিপুরা (৬০) বলেন, তাঁদের পাড়ায় ৩১ পরিবারের দুই শর বেশি মানুষের বসবাস। ২০১৯ সালে জিপিএইচ ইস্পাত কর্তৃপক্ষ কারখানা সম্প্রসারণের সময় ওই রাস্তা বন্ধ করে। বিকারাম ত্রিপুরা জানান, জিপিএইচ ইস্পাত কর্তৃপক্ষ এমনভাবে চলাচল সীমিত করেছে যে অন্যত্র থাকা আত্মীয়স্বজন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতেও হাজারো প্রশ্ন ও ভোগান্তিতে পড়েন। আদিবাসী ফোরাম সীতাকুণ্ড ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, জিপিএইচ ইস্পাত কর্তৃক রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শিশুদের খেলাধুলার কোনো জায়গা নেই। স্কুলে যেতে হলেও ঝুঁকি নিতে হয়; কারণ, চারপাশেই এখন স্ক্র্যাপ ইয়ার্ড। এ কারণে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জিপিএইচ ইস্পাতের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমাস শিমুল বলেন, সংশ্লিষ্ট জমি প্রতিষ্ঠানটি ক্রয় করেছে এবং ত্রিপুরাপাড়ার বাসিন্দাদের সেখানে থাকতে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি, বরং চলাচল নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে। চেকপোস্ট স্থাপনের বিষয়ে তিনি জানান, ওয় ভারী যন্ত্রপাতি ও লোহা থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদিকে ত্রিপুরাপাড়ার বাসিন্দাদের অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ এবং জিপিএইচ ইস্পাতের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত বলেন, ত্রিপুরা সম্প্রদায় দেশের সম্মানিত নাগরিক এবং তাদের চলাচলের পথ বন্ধ করার অধিকার কারও নেই। অভিযোগ পেলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।