480
ঢাকামঙ্গলবার , ২৩ জুন ২০২৬
  1. অনুসন্ধানী ও বিশেষ প্রতিবেদন
  2. অপরাধ-আইন ও আদালত
  3. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প
  4. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প-ব্যাংক-বীমা-নন ব্যাংক
  5. আইটি, টেলিকম ও ই-কমার্স
  6. আবাসন-ভূমি-রাজউক-রিহ্যাব
  7. উদ্যোক্তা-জীবনী
  8. করপোরেট ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
  9. কৃষি, খাদ্য ও পরিবেশ
  10. গণমাধ্যম
  11. গৃহায়ন ও গণপূর্ত
  12. জনশক্তি ও পর্যটন
  13. জনসংযোগ-পদোন্নতি ও সম্মাননা
  14. জাতীয়
  15. দুর্ঘটনা-শোক-দুর্যোগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আইএমএফের ঋণে ১৫ শতাংশে ভ্যাট, টার্নওভার ট্যাক্সে শর্ত

https://www.uddoktabangladesh.com/wp-content/uploads/2024/03/aaaaaa.jpg
উদ্যোক্তা বাংলাদেশ ডেস্ক:
জুন ২৩, ২০২৬ ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশের নতুন ঋণ প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) রাজস্ব আদায় ও ব্যাংক খাতে সংস্কারের জন্য সময়সীমাবদ্ধ একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা চেয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, সংস্থাটি মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) একক হারে নির্ধারণ করে তা ১৫ শতাংশে রাখার পক্ষে। পাশাপাশি টার্নওভার ট্যাক্স চালুরও প্রস্তাব দিয়েছে আইএমএফ। এছাড়া ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমানো, দুর্বল ব্যাংক একীভূত করা এবং ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় সরকারের হস্তক্ষেপ কমানোর জন্যও স্পষ্ট পরিকল্পনা চাওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সরকার একক ভ্যাট হার চালুর পক্ষে থাকলেও তা ১০ থেকে ১২ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায়। আপাতত টার্নওভার ট্যাক্স আরোপের কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সরকারের মতে, রাজস্ব বিভাগের হিসাব পদ্ধতি আরও উন্নত হওয়ার পর এ ধরনের কর চালু করা যেতে পারে, কারণ কোনো প্রতিষ্ঠান লাভ না করলেও এই কর দিতে হয়। তাই সঠিক হিসাবের মাধ্যমে করদাতাকে প্রয়োজনে অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হলেই এটি কার্যকর করা উচিত। তিনি আরও বলেন, ব্যাংক খাত সংস্কারে সরকার আগ্রহী এবং এ লক্ষ্যে ব্যাংক রেজুলেশন অ্যাক্ট পাস করা হয়েছে। তবে নতুন আইনে একীভূত ব্যাংকের মালিকানা ফেরত সংক্রান্ত ১৮ক ধারাটি নিয়ে আইএমএফ আপত্তি জানিয়েছে। সংস্থাটিকে সন্তুষ্ট করতে সরকার ওই ধারা বাদ দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ডিসেম্বরে হতে পারে নতুন ঋণ চুক্তি: ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আইএমএফের সঙ্গে ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তি করে, যা পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাড়িয়ে ৫.৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করে। সাত কিস্তিতে ঋণ ছাড়ের কথা থাকলেও এর মধ্যে পাঁচ কিস্তিতে ৩.৭ বিলিয়ন ডলার ছাড় করেছে আইএমএফ। তবে নির্ধারিত শর্ত পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাকি কিস্তিগুলোর অর্থ ছাড় স্থগিত রাখা হয়। এ অবস্থায় বর্তমান বিএনপি সরকার আগের চুক্তি বাতিল করে নতুন করে ঋণ চুক্তির জন্য গত ১ জুন আইএমএফকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়। কর্মকর্তারা জানান, প্রস্তাবটি পর্যালোচনার জন্য সংস্থাটির একটি প্রতিনিধিদল আগামী জুলাইয়ের মাঝামাঝি বাংলাদেশে আসবে। এই মিশনের মূল্যায়নের ভিত্তিতে আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভায় চূড়ান্ত আলোচনা হবে। উভয় পক্ষ একমত হলে আগামী ডিসেম্বরেই নতুন চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এ বাংলাদেশের বর্তমান কোটা ১,০৬৬.৬ মিলিয়ন এসডিআর (স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস), যা সংস্থাটির নিজস্ব রিজার্ভ সম্পদ। আইএমএফের নিয়ম অনুযায়ী, একটি দেশ কোটার সর্বোচ্চ ৪৩৫ শতাংশ পর্যন্ত সাধারণ ঋণ পেতে পারে। সে হিসেবে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৪,৬৪০.৭১ মিলিয়ন এসডিআর বা বর্তমান বিনিময় হারে প্রায় ৬.১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। এর মধ্যে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় ২,৮৮৬.৫৭ মিলিয়ন এসডিআর ঋণ ব্যবহার করছে। ফলে বকেয়া ঋণ বাদ দিলে ভবিষ্যতে আরও প্রায় ১,৭৫৪.১৪ মিলিয়ন এসডিআর বা ২.৩২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কর্মকর্তারা আরও জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং অর্থনীতির সক্ষমতা বাড়াতে সরকার আইএমএফ থেকে অতিরিক্ত ১.৬৮ বিলিয়ন ডলার চাচ্ছে। সব মিলিয়ে নতুন কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

অর্থনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠি আইএমএফ ঋণ: ওই কর্মকর্তা জানান, আইএমএফের ঋণে টাকার অঙ্কটাই মূল বিষয় নয়; বরং এই কর্মসূচি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার মূল্যায়ন বা ‘কান্ট্রি রেটিং’ হিসেবে কাজ করে। এই রেটিংকে আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী সংস্থা ও উন্নয়ন অংশীদাররা তাদের ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। কোনো দেশ আইএমএফের ঋণ কর্মসূচিতে না থাকলে, তখন সংস্থাগুলো আইএমএফের আর্টিকেল-ফোর মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে সংশ্লিষ্ট দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে দ্রুত ও সহজে ধারণা পাওয়া যায়। এ কারণেই সরকার এই ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হতে আগ্রহী।

তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি ধরা হয়েছে। এই ঘাটতি এবং আগে নেওয়া ঋণ পরিশোধের জন্য বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। এরমধ্যে বাজেট সহায়তা হিসেবে ধরা হয়েছে ৪৩ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা। তিনি আরও বলেন, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২.৫ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ১ বিলিয়ন ডলার, জাইকা থেকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার, এআইআইবি থেকে ৬০০ মিলিয়ন ডলার এবং বিশ্বব্যাংক থেকে নেওয়া হয় ৬০০ মিলিয়ন ডলার। তবে বিশ্বব্যাংক ও এআইআইবি থেকে পাওয়া অর্থের বড় অংশ রি-পারপাজ লোন, অর্থাৎ অন্য প্রকল্পের ঋণ বাজেট সাপোর্ট অংশে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।