বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং ব্যবসায়ের খরচ কমাতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ১৬ ধরণের ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম আয়কর কিংবা স্থানীয় পর্যায়ে উৎসে করের হার কমতে পারে। এছাড়া নতুন, তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য করছাড় ছাড় আসতে পারে। বড় আকারের করছাড় আসতে পারে মোবাইল ফোনসহ ইলেক্ট্রনিক খাতের বিনিয়োগকারী, রিনিউয়েবল এনর্জি, ইলেক্ট্রিক ভেহিক্যাল ইমপোর্ট ও স্থানীয় বিনিয়োগে। স্বাস্থ্য খাতের জন্যও আসছে বড় ছাড়।
বাজেট সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রপ্তানিকে উৎসাহিত করতে ক্যাশ ইসনেসটিভ এর উৎসে কর বিদ্যমান ১০ শতাংশ থেকে কমে ৫ শতাংশ হতে পারে। কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে এডভান্স ইনকাম ট্যাক্স ৫ শতাংশ থেকে ২ শতাংশ হতে পারে। স্থানীয় মোবাইল ফোন উৎপাদনে ২২ ধরণের উপকরনের এআইটি কমে ১ শতাংশ হতে পারে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ওয়েলসিড থেকে ভোজ্যতেল উৎপাদনকারীদের জন্য ১০ বছরের কর অব্যাহতি আসতে পারে। রিসাইকেল ইন্ডাস্ট্রিকে উৎসাহিত করতে এ খাতের কাঁচামাল সাপ্লাইয়ের ট্যাক্স ৩ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ হতে পারে। স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকারের ব্যবসায়ীদের করের আওতায় আসতে উৎসাহিত করতে গোল্ড ও অর্নামেন্টের এআইটিতে বিশাল ছাড় দেওয়া হতে পারে। এসব খাতের পন্যের আমদানিতে বিদ্যমান ট্যাক্স ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হতে পারে।
অপরদিকে, বিদ্যমান জ্বালানি সংকট ও অনিশ্চয়তায় ইলেক্ট্রিক ভেহিক্যাল ও ইলেক্ট্রিজ চার্জিং স্টেশন স্থাপনের যন্ত্রপাতি আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ এআইটি পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হতে পারে। এছাড়া ইলেক্ট্রিক ভেহিক্যাল রেজিস্ট্রেন ফি বর্তমানে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আছে, যা অর্ধেক কমানো হতে পারে। অন্যদিকে রিফাইনারির ফুয়েল সাপ্লাইয়ের সোর্স ট্যাক্স দেড় শতাংশ থেকে কমে ১ শতাংশ, মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবার ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ, প্যাকেজিং ম্যাটারিয়েল এর ট্যাক্স ৫ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ হতে পারে। অন্যদিকে ট্রান্সপোর্ট, ক্যারিং ও ভেহিক্যাল রেন্টাল সার্ভিসের সোর্স ট্যাক্স ৫ শতাংশ থেকে ২ শতাংশ হতে পারে।
অন্যদিকে শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে বড় ধরণের ছাড় দিতে যাচ্ছে সরকার। এক্ষেত্রে বিদ্যমান এআইটি ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ, স্থানীয় পর্যায়ে সাপ্লায়ের ক্ষেত্রেও একই হারে কমতে পারে। নন-রেসিড্যান্টদের কাছে মেশিনারে সাপ্লায়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সোর্স ট্যাক্স ১৫ শতাংশ থেকে অর্ধে কমতে পারে। নন-রেসিড্যান্টদের কে প্রদত্ত ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম এর সোর্স ট্যাক্সও অর্ধেক করা হতে পারে। একইভাবে অফশো’র সোর্স থেকে নেওয়া লোনের ইন্টারেস্ট পে করার ক্ষেত্রে সোর্স ট্যাক্স ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ করা হতে পারে। বর্তমানে ২০ শতাংশ থাকলেও বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এনবিআর অব্যাহতি দিয়ে রেখেছে।
অপরদিকে, রিনিউয়েবল এনার্জিতে বিনিয়োগে বড় ধরনের করছাড় দেওয়া হতে পারে আগামী বাজেটে। এ খাতে বিনিয়োগকারীদের আয় ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সম্পূর্ণ কর অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। সোলারের বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের জন্যও ট্যাক্স রিবেট থাকতে পারে। এছাড়া বিনিয়োগের বাধা অপসারনেরও বেশকিছু আইনি প্রতিবন্ধকতা তুলে দেওয়া হতে পারে এবারের ফাইন্যান্স বিলে। সহজে ট্যাক্স রিটার্ন সাবমিশনের জন্য মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বা অ্যাপ ব্যবস্থা চালু হতে পারে। সারা বছরব্যাপী রিটার্ন জমার সুযোগ আসবে, এবং যারা নির্ধিারিত সময়ের মধ্যে জমা দেবেন, তারা প্রদেয় করের ১০ শতাংশ বা ৫ হাজার টাকার মধ্যে যেটি কম ওই পরিমাণ করছাড় পাবেন।
বর্তমানে কোন কোম্পানি, যারা সোর্স ট্যাক্স কর্তন করার দায়িত্বে, তারা যদি তা কর্তন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে যে পরিমাণ অর্থ অর্থ জরিমানা হতো, তাহলে কোম্পানির পুরো ব্যয় ডিজঅ্যালাউ হতো এবং তা জরিমানা হিসেবে গণ্য হতো। নতুন প্রস্তাবে এটি অনেক কমানো হচ্ছে। কোম্পাানির বিভিন্ন ধরনের এলাউয়েবল খরচের পরিমাণ বাড়াতে হতে পারে, যার ফলে কোম্পানির কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস কমবে। রাজস্ব সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হতে পারে। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিকে সহজ ও দ্রুত করতে শর্ত সহজ করা হতে পারে। ব্যবসায়ীসহ করদাতাদের কাছে অতিরিক্ত কর্তিত করের অর্থ রিফান্ড ব্যবস্থা প্রথমবারের মত চালু হতে যাচ্ছে। থাকছে না মিনিমাম ট্যাক্স ব্যবস্থা। অর্থাৎ অতিরিক্ত কর্তিত করের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।





