480
ঢাকামঙ্গলবার , ১৯ মে ২০২৬
  1. অনুসন্ধানী ও বিশেষ প্রতিবেদন
  2. অপরাধ-আইন ও আদালত
  3. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প
  4. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প-ব্যাংক-বীমা-নন ব্যাংক
  5. আইটি, টেলিকম ও ই-কমার্স
  6. আবাসন-ভূমি-রাজউক-রিহ্যাব
  7. উদ্যোক্তা-জীবনী
  8. করপোরেট ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
  9. কৃষি, খাদ্য ও পরিবেশ
  10. গণমাধ্যম
  11. গৃহায়ন ও গণপূর্ত
  12. জনশক্তি ও পর্যটন
  13. জনসংযোগ-পদোন্নতি ও সম্মাননা
  14. জাতীয়
  15. দুর্ঘটনা-শোক-দুর্যোগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

 পরিচালকদের পদত্যাগে কোরাম সংকটে ফারইস্ট ফাইন্যান্স

https://www.uddoktabangladesh.com/wp-content/uploads/2024/03/aaaaaa.jpg
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
মে ১৯, ২০২৬ ২:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের কোম্পানি ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড নতুন করে প্রশাসনিক সংকটে পড়েছে। ধারাবাহিকভাবে চারজন পরিচালক পদত্যাগ করায় প্রতিষ্ঠানটিতে ভয়াবহ ‘কোরাম সংকট’ তৈরি হয়েছে। এর ফলে বোর্ড সভা আহ্বান, গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা বাস্তবায়ন বর্তমানে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জরুরি নির্দেশনা ও হস্তক্ষেপ চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগে চিঠি দিয়েছে ফারইস্ট ফাইন্যান্স কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে বিষয়টি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকেও (বিএসইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। চিঠিতে প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থাকে ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সাল থেকে ধারাবাহিক লোকসানে থাকা ফারইস্ট ফাইন্যান্স ২০১৮ সালে পুঁজিবাজারে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে যায়। সুশাসন ও আর্থিক শৃঙ্খলা ফেরাতে ২০২১ সালের ২৯ মার্চ বিএসইসি তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে নতুন বোর্ড গঠন করে।

পুনর্গঠিত ওই বোর্ডে সাবেক আমলা, পেশাজীবী ও স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে চার বছরের মাথায় সেই বোর্ডও কার্যত ভেঙে পড়েছে। গত বছরের ১০ ডিসেম্বর বিএসইসি মনোনীত চেয়ারম্যান ও সরকারের সাবেক সিনিয়র সচিব মো. আশরাফুল মকবুল পদত্যাগ করেন। পরদিন ১১ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন আরেক স্বতন্ত্র পরিচালক শেখ নাজমুল হক সৈকত।

সর্বশেষ গত ৪ মে আরও বড় ধাক্কা আসে প্রতিষ্ঠানটিতে। ওই দিনে পদত্যাগ করেন স্বতন্ত্র পরিচালক এহসানুল আজিজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন। তাদের পদত্যাগপত্র ৫ মে প্রতিষ্ঠানের হাতে পৌঁছায়। এই চারজন পরিচালকের পদত্যাগের পর ফারইস্ট ফাইন্যান্সের পরিচালনা পর্ষদে বর্তমানে মাত্র একজন পরিচালক অবশিষ্ট রয়েছেন।

কোম্পানির সংঘবিধি অনুযায়ী, বোর্ড সভার কোরাম পূরণে কমপক্ষে পাঁচজন পরিচালকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। ফলে প্রতিষ্ঠানটির বোর্ড সভা আয়োজন এখন পুরোপুরি অনিশ্চিত। একই সঙ্গে ঋণ পুনর্গঠন, আমানত সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন, নিরীক্ষা কার্যক্রম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা বাস্তবায়নে চরম জটিলতা তৈরি হয়েছে।

ফারইস্ট ফাইন্যান্স তাদের চিঠিতে বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিচালনা পর্ষদের কোরাম সংকট বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা না এলে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল আর্থিক ভিত্তি, খেলাপি ঋণের চাপ এবং ব্যবস্থাপনা সংকটের কারণে ফারইস্ট ফাইন্যান্স ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এখন পর্ষদ ভেঙে পড়ায় প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মুলত ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০১৩ সালে। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৬৫ কোটি ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সে হিসাবে কোম্পানিটির শেয়ার সংখ্যা ৬ কোটি ৫০ লাখ ২২ হাজার ৭৯৩টি। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে ৩৯.৭৫ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১২.৪১ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৪৭.৮৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।