480
ঢাকারবিবার , ১৭ মে ২০২৬
  1. অনুসন্ধানী ও বিশেষ প্রতিবেদন
  2. অপরাধ-আইন ও আদালত
  3. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প
  4. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প-ব্যাংক-বীমা-নন ব্যাংক
  5. আইটি, টেলিকম ও ই-কমার্স
  6. আবাসন-ভূমি-রাজউক-রিহ্যাব
  7. উদ্যোক্তা-জীবনী
  8. করপোরেট ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
  9. কৃষি, খাদ্য ও পরিবেশ
  10. গণমাধ্যম
  11. গৃহায়ন ও গণপূর্ত
  12. জনশক্তি ও পর্যটন
  13. জনসংযোগ-পদোন্নতি ও সম্মাননা
  14. জাতীয়
  15. দুর্ঘটনা-শোক-দুর্যোগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের অনিয়ম আড়াল: নিরীক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার সুপারিশ

https://www.uddoktabangladesh.com/wp-content/uploads/2024/03/aaaaaa.jpg
উদ্যোক্তা বাংলাদেশ
মে ১৭, ২০২৬ ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা খাতের প্রতিষ্ঠান ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের পাঁচ বছরের আর্থিক প্রতিবেদনে গুরুতর অনিয়ম ও তথ্য গোপনের অভিযোগে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দেশের করপোরেট নিরীক্ষা ব্যবস্থা। কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদনে এসব অসঙ্গতি যথাযথভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান এম. জে. আবেদিন অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের এনগেজমেন্ট পার্টনার কামরুল আবেদিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলকে (এফআরসি) অনুরোধ জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডেল্টা লাইফের ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত আর্থিক বছরের ওপর পরিচালিত বিশেষ নিরীক্ষায় একাধিক গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে। কিন্তু সে সময়কার নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এসব অনিয়ম যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। কোম্পানিটির নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে ম্যাব অ্যান্ড জে পার্টনার্স চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস। অভিযোগ রয়েছে, নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান আর্থিক প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতিগুলো শনাক্ত করলেও সেগুলো নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে সঠিকভাবে প্রকাশ করেনি।

বিশেষ নিরীক্ষায় উঠে এসেছে, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স অনিষ্পন্ন বিমা দাবির বিপরীতে প্রয়োজনীয় সঞ্চিতি না রেখে মুনাফা ও শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করেছে। কোম্পানিটি ১২৪ কোটি ২ লাখ টাকার অনিষ্পন্ন দাবির বিপরীতে যথাযথ প্রভিশন সংরক্ষণ করেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক অবস্থার তুলনায় মুনাফা বেশি দেখানো হয়েছে বলে মনে করছে কমিশন।

এছাড়া ৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০টি গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে কোম্পানির নিজস্ব ক্রয়নীতিও অনুসরণ করা হয়নি বলে বিশেষ নিরীক্ষায় উঠে এসেছে। একই সঙ্গে ২৫৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকার অ্যাকচ্যুয়ারিয়াল মূল্যায়নের উদ্বৃত্ত স্থিতিপত্রের ইক্যুইটি অংশে দেখানো হয়নি। আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন তথ্য গোপন কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক অবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, কোম্পানির মোট ইস্যুকৃত শেয়ারের ২২ দশমিক ৭৭ শতাংশ একই পরিবারের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সেই তথ্য নিরীক্ষা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে বিএসইসি বলছে, পর্যাপ্ত নিরীক্ষা প্রমাণ ছাড়াই কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে “আনমডিফায়েড অপিনিয়ন” বা অপরিবর্তিত মতামত দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান আর্থিক প্রতিবেদনে বড় কোনো অসঙ্গতি নেই বলে মত দিলেও পরবর্তী বিশেষ নিরীক্ষায় একাধিক গুরুতর অনিয়ম প্রকাশ পায়।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিএসইসির কমিশন সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় বিশেষ নিরীক্ষায় উদ্ঘাটিত লঙ্ঘনগুলো নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রতিফলিত না হওয়ায় এফআরসিতে বিষয়টি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিশনের মতে, নিরীক্ষকের এই ব্যর্থতার কারণে বিনিয়োগকারী, শেয়ারহোল্ডার এবং সাধারণ মানুষ কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে বিভ্রান্ত হয়েছেন।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ঘটনা শুধু একটি বিমা কোম্পানির আর্থিক অনিয়মের বিষয় নয়; বরং দেশের করপোরেট নিরীক্ষা ব্যবস্থার জবাবদিহিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করেই সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে নিরীক্ষকদের দায়িত্বহীনতা বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে পুঁজিবাজারে আর্থিক স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়বে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাও আরও দুর্বল হবে।

এ বিষয়েবিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক প্রতিবেদনে অসঙ্গতির পরিপ্রেক্ষিতে নিরীক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এফআরসিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এফআরসি কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, সেটা দেখে কমিশন পরবর্তীতে পদক্ষেপ নেবে।