480
ঢাকারবিবার , ১০ মে ২০২৬
  1. অনুসন্ধানী ও বিশেষ প্রতিবেদন
  2. অপরাধ-আইন ও আদালত
  3. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প
  4. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প-ব্যাংক-বীমা-নন ব্যাংক
  5. আইটি, টেলিকম ও ই-কমার্স
  6. আবাসন-ভূমি-রাজউক-রিহ্যাব
  7. উদ্যোক্তা-জীবনী
  8. করপোরেট ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
  9. কৃষি, খাদ্য ও পরিবেশ
  10. গণমাধ্যম
  11. গৃহায়ন ও গণপূর্ত
  12. জনশক্তি ও পর্যটন
  13. জনসংযোগ-পদোন্নতি ও সম্মাননা
  14. জাতীয়
  15. দুর্ঘটনা-শোক-দুর্যোগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গ্রাহক আস্থা ও সুশাসনেই এগিয়ে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক : মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ

https://www.uddoktabangladesh.com/wp-content/uploads/2024/03/aaaaaa.jpg
জোনায়েদ মানসুর, ঢাকা
মে ১০, ২০২৬ ১:১৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দেশের ব্যাংক খাত এখন নানা জটিলতা, ঋণখেলাপি সংকট ও সুশাসনহীনতার চরম বাস্তবতার মুখোমুখি। বিশেষ করে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। ঠিক এমন এক সময়ে, যখন একটি ব্যাংক আফটার আরেকটি ব্যাংক চ্যালেঞ্জের নাম লিখছে, সেখানে সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে আলোর দিশা দেখাচ্ছে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি (এসজেআইবিপিএলসি)। ২০০১ সালের ১০ মে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করা এই ব্যাংকটি বর্তমানে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রথম অবস্থানে এবং ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে শীর্ষ পাঁচ থেকে ছয়টির ভেতরে রয়েছে। গত বছর ১৬২ কোটি টাকা থেকে মুনাফা দ্বিগুণ করে ৩৬৮ কোটি টাকায় উন্নীত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গত ৬-৭ বছরে কোনো নতুন ঋণখেলাপি হয়নি তাদের। আমানত প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ, যেখানে গোটা খাতের প্রবৃদ্ধি মাত্র ৬ শতাংশ। রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ৬০ শতাংশ—এসব সূচকই বলছে ভিন্নতার গল্প। ব্যাংকটির ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উদ্যোক্তা বাংলাদেশের বিশেষ প্রতিনিধি কথা বলেছেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদের সাথে। ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে ব্যাপক জোর দেওয়া, সাইবার নিরাপত্তা, এসএমই ও কৃষি খাতে ঋণ পরিকল্পনা, শরিয়াহ পর্ষদের ভূমিকা এবং ব্যাংক খাতের সামগ্রিক সংকট ও উত্তরণের পথ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই শীর্ষ নির্বাহী। যা পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো সেই সাক্ষাতকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

উদ্যোক্তা বাংলাদেশ : ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ঋণখেলাপি। এই প্রসঙ্গে আপনার ব্যাংকের অবস্থান কেমন?

মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: সঠিক কথা বলেছেন। ঋণখেলাপি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। কিন্তু শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের জন্য আশার কথা হলো—গত ৬-৭ বছরে আমাদের কোনো নতুন লোন ক্লাসিফাইড হয়নি। আগে যেটুকু ছিল সেটুকুই আছে। আমরা ঋণ দেওয়ার আগে গ্রাহকের সার্বিক আর্থিক পরিস্থিতি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করি, ঝুঁকিটাকে আগে মোকাবিলা করি। ফলে আমাদের খেলাপি ঋণের মাত্রা অনেক কম।

উদ্যোক্তা বাংলাদেশ : গোটা দেশের ব্যাংক খাত নানা জটিলতা সমালোচনার মুখে। বিশেষ করে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো তীব্র সংকটে। অবস্থায় শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান অবস্থান কী?

মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: আমাদের ব্যাংকের অবস্থা খুবই ভালো। গত বছরের তুলনায় আমরা দ্বিগুণ মুনাফা করেছি—৩৬৮ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ১৬২ কোটি টাকা। বর্তমানে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে আমরা প্রথম অবস্থানে এবং ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ৫ম থেকে ৬ষ্ঠ স্থানে আছি। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের কোনো তারল্য সংকট নেই—কখনো ছিল না।

উদ্যোক্তা বাংলাদেশ : গ্রাহকসেবা ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে কী কী উদ্যোগ নিয়েছেন?

মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ:  ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে আমরা ব্যাপক জোর দিচ্ছি। গ্রাহকরা এখন ঘরে বসে অ্যাপের মাধ্যমে সব ধরনের লেনদেন করতে পারছেন। আমাদের ১৪২টি শাখা, ৫টি উপ-শাখা, ১৫২টি এটিএম বুথ, ১৩০টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট, অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট ও প্রাইওরিটি সেন্টার রয়েছে। আমরা চালু করেছি ইসলামী ক্রেডিট কার্ড (ওয়াকালাহ্ ধারণায়), ২৪ ঘণ্টা এটিএম সার্ভিস, রিয়েল টাইম অনলাইন ব্যাংকিং এবং এসএমএস পুশ-পুল সার্ভিস।

উদ্যোক্তা বাংলাদেশ : আপনার ব্যাংকের আমানত বিনিয়োগের বর্তমান চিত্র কেমন?

মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: আমাদের আমানতের পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা এবং বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২৯ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা। আমদানি প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা ও রপ্তানি প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা। আমানত প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশের কাছাকাছি, যেখানে পুরো ব্যাংক খাতে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি মাত্র ৬ শতাংশ, সেখানে আমাদের প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৯ শতাংশ। মুনাফার প্রবৃদ্ধি ১৩.৪ শতাংশ। আমদানি প্রবৃদ্ধি ২৪ শতাংশ আর রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ৬০ শতাংশ।

উদ্যোক্তা বাংলাদেশ : এসএমই কৃষি খাতে ঋণ পরিকল্পনা কী?

মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: আমরা বৃহৎ ঋণের চেয়ে ছোট ঋণে গুরুত্ব দিচ্ছি। রিটেইল, এসএমই, কৃষি, গবাদি পশু, মসলা ও ফলজ খাতে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই বাধ্যবাধকতা ২৫ শতাংশ—আমরা তার চেয়ে অনেক বেশি অবস্থানে আছি। মহিলাদের বিনা জামানতে ঋণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য—প্রকৃত গ্রাহক যেন কোনো হয়রানির শিকার না হন।

উদ্যোক্তা বাংলাদেশ : করপোরেট গভর্নেন্স শরিয়াহ পর্ষদ প্রসঙ্গে আপনার বক্তব্য কী?

মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: সুশাসন চাইলে সবার আগে ব্যাংকের পর্ষদকে এগিয়ে আসতে হবে। শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকে দুটি পর্ষদ থাকে—মালিকদের পর্ষদ ও শরিয়াহ পর্ষদ। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে মালিকদের পর্ষদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হয়। আমি মনে করি, আইনের কাঠামোতে এই দুই পর্ষদই সমান শক্তিশালী হওয়া উচিত। আমাদের ব্যাংকে বোর্ডের কোনো চাপ নেই, স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারি। কোনো একক কর্তৃত্ব নেই, কোনো ব্যক্তির নামে ব্যাংক চলে না।

 উদ্যোক্তা বাংলাদেশ : সাইবার নিরাপত্তায় কী ব্যবস্থা নিয়েছেন?

মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: সাইবার ঝুঁকি থেকে গ্রাহকদের নিরাপদ রাখতে আমরা ইক্যুইপমেন্ট আপডেট করেছি, ডিজাস্টার রিকভারি পুনর্বিন্যাস করেছি, সফটওয়্যার আপডেট করেছি। যত ব্যয়বহুল হোক না কেন, এটাকে গুরুত্ব দিচ্ছি। ভালো দিক হচ্ছে, এ পর্যন্ত শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকে কোনো সাইবার ইস্যু হয়নি।

 উদ্যোক্তা বাংলাদেশ : সম্প্রতি প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) কেমন হয়েছে?

মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি’২৬-মার্চ’২৬) আমাদের শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ১২ পয়সা, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৪ পয়সা। শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ২৪ টাকা ৯ পয়সা। এ রেটিং দ্বারা প্রমাণিত হয়—শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক দেশের শীর্ষস্থানীয় আর্থিকভাবে শক্তিশালী ব্যাংকগুলোর একটি।

উদ্যোক্তা বাংলাদেশ : রেমিট্যান্স বৈদেশিক লেনদেন সেবা কেমন?

মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন, মানিগ্রাম, এক্সপ্রেস মানি, রিয়া, ট্রান্সফাস্ট, ব্র্যাক স্যাজন, ন্যাশনাল মানি ও আল জামানসহ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য রেমিট্যান্স কোম্পানির সঙ্গে আমাদের চুক্তি আছে। প্রবাসীরা দ্রুত ও নিরাপদে টাকা পাঠাতে পারেন।

উদ্যোক্তা বাংলাদেশ : ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: তিনটি লক্ষ্যে কাজ করছি—প্রথমত, ওভারডিউ, ক্লাসিফায়েড ও অবলোপনকৃত বিনিয়োগ থেকে আদায় জোরদার করা; দ্বিতীয়ত, সিএমএসএমই খাতে ঋণের পরিমাণ বাড়ানো (যেখানে দেশের ৯০ শতাংশ ব্যবসা ও ৮৫ শতাংশ কর্মসংস্থান); তৃতীয়ত, ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে আরও জোর দেওয়া। আমরা চাই, ব্যাংকিং সেবা হোক খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থান-চিকিৎসা-শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকার।