রাষ্ট্র মালিকানাধীন দুই সার কারখানা — আশুগঞ্জ ও শাহজালাল ফার্টিলাইজার — প্রতি বছর ৩৫০ কোটি টাকা লোকসান করছে। এছাড়া তিনটি সরকারি চিনিকল — মোবারকগঞ্জ, রাজশাহী ও নর্থ বেঙ্গল — মিলের বার্ষিক লোকসান ২১৩ কোটি টাকা। ফলে এই পাঁচ প্রতিষ্ঠান মিলে প্রতি বছর ৫৬৩ কোটি টাকা লোকসান করছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এই তথ্যের ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠান অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বেসরকারীকরণের সুপারিশ করেছে। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় বিডা, বেজা ও পিপিএ এ সুপারিশ উপস্থাপন করে। সূত্র জানাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বৈঠক করবেন। বৈঠকে লোকসানে চলা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বেসরকারীকরণের বিষয়টি আলোচনা হতে পারে।
বাংলাদেশের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। দেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পথে, ফলে লোকসানি প্রতিষ্ঠান ভর্তুকি দিয়ে দীর্ঘদিন চালানো সম্ভব নয়। দাতা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকেও ভর্তুকি প্রত্যাহারের চাপ রয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ১৮টি প্রতিষ্ঠানের লোকসান দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা। দেশে ১৩১টি আর্থিক এবং ৪৯টি অ-আর্থিক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার বেশির ভাগই বছরের পর বছর লোকসানে পরিচালিত হচ্ছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৪৯টির মধ্যে ১২টি প্রতিষ্ঠান ১৫ হাজার ৬২৮ কোটি টাকার লোকসান করেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে ১৯ হাজার ১৮০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
সার, বস্ত্র, চিনিকল, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, পরিবহন ও কৃষি খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে চলছে। এসবের মধ্যে আছে বিজেএমসি, বিটিএমসি, বিএডিসি, বিটিবি, বিএসএফআইসি, বিপিডিবি, বিপিসি, বিসিআইসি, বিআরটিসি, খুলনা ওয়াসা, বিআইডব্লিউটিসি, অ্যাটলাস বাংলাদেশ লিমিটেড, পর্যটন করপোরেশন ও বাংলাদেশ ব্লেড ফ্যাক্টরি লিমিটেড।
গত অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩০টি প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাংক ঋণ ও পাওনা ছিল ৬৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। বিশ্বব্যাংকের সাবেক চিফ ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেছেন, দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো বাজেটে উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করছে। কিছু প্রতিষ্ঠান করপোরেটাইজেশন বা স্বায়ত্তশাসিত হলেও তারা এখনও লোকসান থেকে বেরোয়নি। এর ফলে মেশিনপত্র ও জমি অব্যবহৃত থাকে। পরিস্থিতি অনুযায়ী, সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো এসব প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া, যাতে সম্পদের ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়।





