480
ঢাকাসোমবার , ২ মার্চ ২০২৬
  1. অনুসন্ধানী ও বিশেষ প্রতিবেদন
  2. অপরাধ-আইন ও আদালত
  3. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প
  4. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প-ব্যাংক-বীমা-নন ব্যাংক
  5. আইটি, টেলিকম ও ই-কমার্স
  6. আবাসন-ভূমি-রাজউক-রিহ্যাব
  7. উদ্যোক্তা-জীবনী
  8. করপোরেট ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
  9. কৃষি, খাদ্য ও পরিবেশ
  10. গণমাধ্যম
  11. গৃহায়ন ও গণপূর্ত
  12. জনশক্তি ও পর্যটন
  13. জনসংযোগ-পদোন্নতি ও সম্মাননা
  14. জাতীয়
  15. দুর্ঘটনা-শোক-দুর্যোগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পুলিশের নতুন ইউনিফর্ম: নোমান গ্রুপের সরবরাহ করা কাপড়ের মানের ঘাটতি

https://www.uddoktabangladesh.com/wp-content/uploads/2024/03/aaaaaa.jpg
উদ্যোক্তা বাংলাদেশ ডেস্ক:
মার্চ ২, ২০২৬ ১০:৫২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পুলিশের নতুন ইউনিফর্মের জন্য নোমান গ্রুপের সরবরাহ করা কাপড়ের ল্যাব টেস্টে প্রতিশ্রুত মানের ঘাটতি পেয়েছে পুলিশ। তবে কাপড় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নোমান গ্রুপের দাবি, যথাযথ মান পরীক্ষার পরেই কাপড় সরবরাহ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, কাপড়ের বেশ কয়েকটি উপাদানের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ময়েশ্চার ম্যানেজমেন্ট উইকিং বা আর্দ্রতা ব্যবস্থাপনা। শরীর থেকে নিঃসরিত ঘাম শুষে নেয়ার ক্ষমতার ওপর কাপড়ের মান নির্ভর করে। বিশেষ করে খেলাধুলাসংশ্লিষ্ট এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কর্মরত সদস্যদের ক্ষেত্রে কাপড়ের আর্দ্রতা ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য তাদের কাপড়ের দামও সাধারণ কাপড়ের চেয়ে বেশি। তবে সম্প্রতি পুলিশের জন্য কেনা কাপড়ের আর্দ্রতার মান এবং সুতার ঘনত্ব চুক্তির শর্তের চেয়ে কম পাওয়া গেছে। এ ধরনের কাপড় পুলিশের দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অস্বস্তি তৈরি করছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুলিশের নতুন ইউনিফর্ম নির্ধারণ হওয়ার পর এর কাপড় সরবাহের দায়িত্ব দেয়া হয় নোমান গ্রুপকে। কিন্তু শিল্প খাতের এ প্রতিষ্ঠান চুক্তির শর্ত মোতাবেক কাপড়ের মান রক্ষা করেনি। বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশ সদস্যরা কাপড়ের মান নিয়ে অভিযোগ পাঠাতে থাকে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুনরায় নোমান গ্রুপের সরবরাহ করা কাপড়ের মান পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়। সেখানে দেখা যায়, চুক্তি অনুযায়ী পুলিশ সদস্যদের নতুন ইউনিফর্মের শার্টের কাপড়ে সুতার ঘনত্ব থাকার কথা ছিল ২০৫ জিএসএম (কমবেশি ৫)। কিন্তু পরীক্ষায় দেখা গেছে শার্টের কাপড়ে সুতার ঘনত্ব রয়েছে ১৯৩ জিএসএম (গ্রাম পার স্কয়ার মিটার)। অর্থাৎ প্রতিটি পোশাকে ৭ জিএসএম করে কম রয়েছে কাপড়ের ঘনত্ব। এছাড়া পুলিশের পোশাকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর আর্দ্রতা শোষণক্ষমতা। চুক্তি অনুযায়ী পুলিশের শার্টে আর্দ্রতা শোষণক্ষমতা ৬ থেকে ১০ সিএম থাকার কথা। কিন্তু পরীক্ষায় দেখা গেছে শার্টের কাপড়ে আর্দ্রতা শোষণক্ষমতা রয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে এ পোশাক পুলিশের দীর্ঘক্ষণ দায়িত্বরত অবস্থায় পরে থাকা চরম অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, কাপড় উইকিং বা ভেজানোর নির্ধারিত পরিমাপ হলো ৫-১০ সিএম (সেন্টিমিটার)। কিন্তু সরবরাহ করা কাপড়ের যেকোনো একটি অংশ এক সিএম পানিতে ভিজিয়ে ঝুলিয়ে ১০ মিনিট রাখলে সেটা ওপরের দিকে শোষণ করে ৫-১০ সেন্টিমিটার যাওয়ার কথা। কিন্তু নোমান গ্রুপের সরবরাহ করা কাপড়ের ক্ষেত্রে তা যাচ্ছে ৪ দশমিক ৫ সিএম। বস্ত্র খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, যেকোনো কাপড়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এর সুতার ঘনত্ব এবং আর্দ্রতা শোষণক্ষমতা। কাপড়ে ৭ জিএসএম করে কম থাকা মানে এক কেজিতে আগে ১০টি শার্ট হলে জিএসএম কমানোর পরে এ সংখ্যা হবে ১৩টি। অর্থাৎ তিনটি শার্ট বেশি হবে। এতে আর্থিক অনিয়মের সুযোগ থাকে।

জিএসএমের পাশাপাশি যেকোনো কাপড়ের জন্য অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি উপাদন হলো আর্দ্রতা শোষণক্ষমতা। এ উপাদানের ওপরই মূলত কাপড়ের ব্যবহার উপযোগিতা নির্ভর করে। যেসব কাপড়ে আর্দ্রতা শোষণক্ষমতা ৬ সিএমের নিচে, সেই কাপড় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়বে। শরীরের ঘাম শুষে নিতে ব্যর্থ হবে। ফলে এ কাপড় পরে দীর্ঘক্ষণ দায়িত্ব পালন করতে গেলে অস্বস্তিতে পড়বেন পুলিশ সদস্যরা।

অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশের কাপড় সরবরাহের আগে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ল্যাবে মান যাচাই করে নেয়া হয়েছে। যাচাই করা মান দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী হওয়ার পরেই পুলিশ কাপড় বুঝে নিয়েছে। এখানে বেশকিছু ঠিকাদার রয়েছেন, যারা কাজ পাননি। তারাই এখন নানা ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।’

পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, নোমান গ্রুপ থেকে মেট্রোপলিটন ও বিশেষায়িত পুলিশ সদস্যদের জন্য সাত লাখ মিটার আয়রন টিসি প্লেইন ফ্যাব্রিক কিনতে খরচ হয়েছে ৩০ কোটি ৭৯ লাখ ৯৯ হাজার ৩০০ টাকা। ১ লাখ ৭৫ হাজার মিটার টিসি টুইল কমব্যাট ফ্যাব্রিক কিনতে পুলিশের খরচ হয়েছে ৮ কোটি ৩৯ লাখ ৯৯ হাজার ৮০০ টাকা। জেলা পুলিশের জন্য ১০ লাখ ২০ হাজার মিটার কফি টিসি টুইল কাপড়ের দাম পড়েছে ৩৯ কোটি ৩৭ লাখ ১৯ হাজার টাকা। পাশাপাশি মেট্রোপলিটন ও বিশেষায়িত পুলিশ সদস্যদের জন্য পাঁচ লাখ মিটার কফি টিসি টুইল ফ্যাব্রিক কেনা হয়েছে ১৯ কোটি ২৯ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ টাকায়।

পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা জানান, অনেক বেশি দামে কেনা এবং অস্বস্তিকর হওয়ায় এ পোশাক নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে অনেক পুলিশ সদস্যের মধ্যে। এরই মধ্যে পুলিশ সদস্যরা এ বিষয়ে অভিযোগ জানাতে শুরু করেছেন। এমনকি পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও বিবৃতি দিয়ে পুলিশের এ পোশাক পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট থেকেও মতামত সংগ্রহ করছে পুলিশ সদর দপ্তর। এ মতামত সরকারের কাছে উপস্থাপন করে পোশাকসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত চাইবে পুলিশ।

পুলিশের পোশাকসংক্রান্ত জটিলতা সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সমাধান হবে বলে জানান পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন। তিনি বলেন, ‘পুলিশের পোশাক সরকার নির্ধারণ করে থাকে। এখানে কোনো অভিযোগ বা দাবি থাকলে সেটাও যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সরকারের কাছে উত্থাপিত হবে। পরবর্তী সময়ে সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যে ধরনের বৈশিষ্ট্য ও মানদণ্ড থাকা দরকার তা অনুসরণ করা হয়নি। পোশাকের বৈশিষ্ট্য ও রঙের বিষয়টি প্রাধান্য দেয়া গেলে সমস্যার সমাধান হবে বলে বিশ্বাস করি।’