480
ঢাকাশনিবার , ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  1. অনুসন্ধানী ও বিশেষ প্রতিবেদন
  2. অপরাধ-আইন ও আদালত
  3. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প
  4. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প-ব্যাংক-বীমা-নন ব্যাংক
  5. আইটি, টেলিকম ও ই-কমার্স
  6. আবাসন-ভূমি-রাজউক-রিহ্যাব
  7. উদ্যোক্তা-জীবনী
  8. করপোরেট ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
  9. কৃষি, খাদ্য ও পরিবেশ
  10. গণমাধ্যম
  11. গৃহায়ন ও গণপূর্ত
  12. জনশক্তি ও পর্যটন
  13. জনসংযোগ-পদোন্নতি ও সম্মাননা
  14. জাতীয়
  15. দুর্ঘটনা-শোক-দুর্যোগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থীর সাতজনই জয়ী

https://www.uddoktabangladesh.com/wp-content/uploads/2024/03/aaaaaa.jpg
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়া ১,৯৮১ প্রার্থীর মধ্যে ৯৬০ জন বা প্রায় সাড়ে ৪৮ শতাংশই ব্যবসায়ী। আর শতকোটি টাকার সম্পদ আছে—এমন প্রার্থী ২৭ জন। এদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী। বাকি ৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

নির্বাচনী হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছিল, এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত ২৬ জন শতকোটি টাকার মালিক। একই সঙ্গে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী কোটিপতি প্রার্থী রয়েছেন ৮৯১ জন।

এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৯৫টি আসনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যে ২০৯ আসন পেয়ে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি। তিনটি আসনে বিএনপি বিজয়ী হলেও আদালতের আদেশে দুটি এবং অনিয়মের কারণে একটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। আর প্রার্থী মারা যাওয়ায় একটি আসনের ভোটগ্রহণ আগেই স্থগিত ছিল। স্থগিত আসনগুলোয় বিএনপির জোট জয় পেয়েছে। ১১-দলীয় জোট পেয়েছে ৭৬টি আসন। স্বতন্ত্র ও অন্যান্য প্রার্থী জয়লাভ করেছে ৭টি আসনে।

টিআইবির প্রতিবেদন ও প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থীর মধ্যে ৭ জনই বিএনপির প্রার্থী এবং তাঁরা সবাই জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে এই তালিকায় থাকা তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীই পরাজিত হয়েছেন।

শীর্ষ ধনী প্রার্থীরা

ধনী প্রার্থীদের তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ফেনী-৩ (সোনাগাজী ও দাগনভূঞা) আসনের বিএনপির প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর ও তাঁর স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়ালের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য ৬০৭ কোটি টাকা।

বেসরকারি ফলাফলে আবদুল আউয়াল মিন্টু জয়ী হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪২৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ১৬০ ভোট।

ধনী প্রার্থীর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী। তাঁর, স্ত্রী জামিলা নাজনীল মাওলা এবং কন্যা মেহরীন আনহারের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ৪৭৪ কোটি টাকা। তবে আইনি জটিলতায় এ আসনের ফল ঘোষণা স্থগিত রয়েছে।

তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন ময়মনসিংহ-১১ আসনের বিএনপির প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তাঁর মোট সম্পদের মূল্য ২৯৯ কোটি টাকা। তিনিও জয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ১০ হাজার ২১৪।

চতুর্থ স্থানে থাকা কুমিল্লা-৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী জাকারিয়া তাহেরও জয়ী হয়েছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ১৭৮টি।

নির্বাচনে অংশ নেওয়া ২৫৬ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে তিনজন শীর্ষ ১০ ধনীর তালিকায় ছিলেন। তিনজনই পরাজিত হয়েছেন। পঞ্চম স্থানে থাকা টাঙ্গাইল-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর ৭৭ হাজার ১৩০ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। ষষ্ঠ স্থানে ছিলেন আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম। তিনি বাগেরহাট-১, ২ ও ৩ আসন থেকে নির্বাচন করলেও কোনো আসনেই জয়ী হতে পারেননি।

সপ্তম অবস্থানে থাকা চাঁদপুর-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী মো. জালাল উদ্দিন জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজার ৫০৬ ভোট। জয়ী হয়েছেন অষ্টম অবস্থানে থাকা বগুড়া-৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজও। ২০৪ কোটি টাকার সম্পদের মালিক এই প্রার্থী পেয়েছেন ২ লাখ ৪৮ হাজার ৮৪৮ ভোট।

নবম স্থানে থাকা নোয়াখালী-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম পরাজিত হয়েছেন। তবে জয়ী হয়েছেন শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থীর তালিকায় দশম অবস্থানে থাকা শরীয়তপুর-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী মো. সফিকুর রহমান। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৮১৪ ভোট।

আয় বিশ্লেষণ: সুজনের তথ্য

অপরদিকে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে অংশ নেওয়া ২,০২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪১ শতাংশ বা ৮৩২ জনের বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকার নিচে। অন্যদিকে, বার্ষিক কোটির বেশি আয় করেন—এমন প্রার্থীর সংখ্যা ৯৫ জন।

সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে আয়ের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী—

  • ৫ লাখ টাকার নিচে: ৮৩২ জন (৪১%)

  • ৫ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা: ৭৪১ জন

  • ২৫ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা: ১৩২ জন

  • ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা: ৭১ জন

  • ১ কোটির ওপরে: ৯৫ জন

  • তথ্য দেননি: ১৫৫ জন

সুজন জানায়, কোটিপতি প্রার্থীদের মধ্যে ৫১ জনই বিএনপির মনোনীত। এ ছাড়া ২৫ জন স্বতন্ত্র এবং ৫ জন জাতীয় পার্টির প্রার্থীও কোটিপতি।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবার কোটিপতি ও অতি স্বল্প আয়ের প্রার্থীর হার কিছুটা কমেছে। গত নির্বাচনে কোটিপতি প্রার্থী ছিলেন ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ, যা এবার কমে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশে। একইভাবে ৫ লাখ টাকার কম আয়ের প্রার্থীর হার ৪৫ শতাংশ থেকে কমে ৪১ শতাংশ হয়েছে।

সুজনের তথ্যে শীর্ষ ১০ আয়কারীর তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। এই তালিকার প্রথম ১০ জনের মধ্যে ৬ জনই বিএনপির প্রার্থী। শীর্ষ তিন আয়কারী হলেন—

১. জাকারিয়া তাহের (কুমিল্লা-৮, বিএনপি): বার্ষিক আয় প্রায় ৬০ কোটি টাকা।
২. মো. আসাদুল ইসলাম (টাঙ্গাইল-১, স্বতন্ত্র): বার্ষিক আয় প্রায় ৪০ কোটি টাকা।
৩. জাকির হোসেন পাটওয়ারী (লক্ষ্মীপুর-১, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ): বার্ষিক আয় প্রায় ১৯ কোটি টাকা।

তালিকায় পরবর্তী অবস্থানে রয়েছেন মির্জা আব্বাস (বিএনপি, ৯ কোটির বেশি), সালাউদ্দিন আলমগীর (স্বতন্ত্র, ৮ কোটির বেশি), সালাহউদ্দিন আহমদ (বিএনপি), মো. জসীম উদ্দিন (বিএনপি), কায়সার কামাল (বিএনপি), শফিকুল ইসলাম রাহী (স্বতন্ত্র) এবং রেদোয়ান আহমেদ (বিএনপি)। তাঁদের সবার আয় ৪ থেকে সাড়ে ৬ কোটি টাকার মধ্যে।