480
ঢাকারবিবার , ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  1. অনুসন্ধানী ও বিশেষ প্রতিবেদন
  2. অপরাধ-আইন ও আদালত
  3. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প
  4. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প-ব্যাংক-বীমা-নন ব্যাংক
  5. আইটি, টেলিকম ও ই-কমার্স
  6. আবাসন-ভূমি-রাজউক-রিহ্যাব
  7. উদ্যোক্তা-জীবনী
  8. করপোরেট ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
  9. কৃষি, খাদ্য ও পরিবেশ
  10. গণমাধ্যম
  11. গৃহায়ন ও গণপূর্ত
  12. জনশক্তি ও পর্যটন
  13. জনসংযোগ-পদোন্নতি ও সম্মাননা
  14. জাতীয়
  15. দুর্ঘটনা-শোক-দুর্যোগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দেশের পোশাক রপ্তানির ৮০ শতাংশই যায় মাত্র ১১টি দেশে: নতুন বাজার অনুসন্ধানের তাগিদ

https://www.uddoktabangladesh.com/wp-content/uploads/2024/03/aaaaaa.jpg
বিশেষ প্রতিনিধি
ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬ ১০:৫৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিশেষ প্রতিনিধি:বাংলাদেশের রেডিমেড গার্মেন্টস (আরএমজি) রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই মাত্র ১১টি দেশের ওপর নির্ভরশীল—এমন চিত্র উঠে এসেছে ২০২৫ সালের রপ্তানি উপাত্তে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অতিরিক্ত নির্ভরতা একদিকে যেমন ঐতিহ্যবাহী বাজারগুলোর গুরুত্ব নির্দেশ করে, অন্যদিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের ঝুঁকির ইঙ্গিতও দিচ্ছে। ফলে নতুন ও অ-ঐতিহ্যবাহী বাজার অনুসন্ধান এখন সময়ের দাবি।

২০২৫ সালে বাংলাদেশের মোট আরএমজি রপ্তানি আয় দাঁড়ায় ৩৮,৮২৪.৭০ মিলিয়ন ডলারে। এর মধ্যে শীর্ষ ১১টি দেশ থেকে এসেছে ৩১,০৩০.২২ মিলিয়ন ডলার, যা মোট রপ্তানির ৭৯.৯২ শতাংশ। রপ্তানি আয়ের ভিত্তিতে দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র—৭,৫৪১.৯৮ মিলিয়ন ডলার। এরপর রয়েছে জার্মানি (৪,৬৬৯.৬০ মিলিয়ন), যুক্তরাজ্য (৪,৩৯৫.২১ মিলিয়ন), স্পেন (৩,৫০৩.০৮ মিলিয়ন), নেদারল্যান্ডস (২,১০৮.১২ মিলিয়ন), ফ্রান্স (২,০৩৭.৯৯ মিলিয়ন), পোল্যান্ড (১,৭৭৪.৩৪ মিলিয়ন), ইতালি (১,৫০০.৯২ মিলিয়ন), কানাডা (১,৩৩২.১৫ মিলিয়ন), জাপান (১,১৮০.৯৩ মিলিয়ন) এবং ডেনমার্ক (৯৮৫.৯১ মিলিয়ন ডলার)।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ১১টি দেশের মধ্যে ১০টিই বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রপ্তানি বাজার। জাপান একমাত্র দেশ, যাকে অ-ঐতিহ্যবাহী বা নন-ট্র্যাডিশনাল মার্কেট হিসেবে ধরা হয়। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি এখনও ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকান বাজারকেন্দ্রিক।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক, বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন,

“এই পরিসংখ্যান একদিকে আমাদের জন্য ঐতিহ্যবাহী বাজারগুলোর অপরিসীম গুরুত্ব তুলে ধরে, অন্যদিকে রপ্তানি আয়ের অতিরিক্ত ঘনত্বের ঝুঁকিকেও সামনে আনে। দীর্ঘমেয়াদে খাতটির স্থিতিস্থাপকতা নিশ্চিত করতে নতুন ও বৈচিত্র্যময় বাজার তৈরি করা জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের কৌশল কেবল বিদ্যমান বাজার ধরে রাখায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার মতো অ-ঐতিহ্যবাহী বাজারে পরিকল্পিতভাবে প্রবেশ করতে হবে। জাপানের বাজারে বাংলাদেশের অগ্রগতি প্রমাণ করে, সঠিক নীতি ও প্রস্তুতিতে নতুন বাজারেও সফল হওয়া সম্ভব।”

খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতি, যুদ্ধ-সংঘাত, মুদ্রাস্ফীতি কিংবা ভোক্তা চাহিদার পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো একচেটিয়া বাজারনির্ভর রপ্তানিকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তাই বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উৎপাদন, নকশায় বৈচিত্র্য আনা এবং সরবরাহ শৃঙ্খল আরও দক্ষ করা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ টেকসই করতে হলে বাজার বৈচিত্র্যকরণকে আর বিকল্প নয়, বরং একটি কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।