480
ঢাকামঙ্গলবার , ২০ জানুয়ারি ২০২৬
  1. অনুসন্ধানী ও বিশেষ প্রতিবেদন
  2. অপরাধ-আইন ও আদালত
  3. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প
  4. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প-ব্যাংক-বীমা-নন ব্যাংক
  5. আইটি, টেলিকম ও ই-কমার্স
  6. আবাসন-ভূমি-রাজউক-রিহ্যাব
  7. উদ্যোক্তা-জীবনী
  8. করপোরেট ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
  9. কৃষি, খাদ্য ও পরিবেশ
  10. গণমাধ্যম
  11. গৃহায়ন ও গণপূর্ত
  12. জনশক্তি ও পর্যটন
  13. জনসংযোগ-পদোন্নতি ও সম্মাননা
  14. জাতীয়
  15. দুর্ঘটনা-শোক-দুর্যোগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিতর্কিত এমডিকে পুনর্বহালের ষড়যন্ত্র? আদালত–গভর্নর–বোর্ড ত্রিমুখী চাপে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক

https://www.uddoktabangladesh.com/wp-content/uploads/2024/03/aaaaaa.jpg
বিশেষ প্রতিনিধি:, ঢাকা:
জানুয়ারি ২০, ২০২৬ ২:৫১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বিশেষ প্রতিনিধি: দেশের বেসরকারি খাতের একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি গভীর প্রশাসনিক সংকটে পড়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. হাবিবুর রহমানের পুনর্নিয়োগকে কেন্দ্র করে পরিচালনা পর্ষদে চরম বিভক্তি দেখা দিয়েছে। একদিকে বোর্ডের একাংশ আদালতের শরণাপন্ন, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়া নজরদারি—সব মিলিয়ে ব্যাংকটির শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

এমডি পুনর্নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পরিচালনা পর্ষদের একটি অংশ আদালতে অভিযোগ দায়ের করলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর সেকশন ২৩৩-এর অধীন ধারা ৮৫(৩) এবং কোম্পানি আইন, ২০০৯-এর ধারা ৮ ও ২৬৩ অনুসারে গত ৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন। এতে জানতে চাওয়া হয়—ব্যবস্থাপনা পরিচালক পুনর্নিয়োগসংক্রান্ত প্রস্তাব এবং বোর্ড সভায় উত্থাপিত প্রস্তাব কেন আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়াই জারি করা হয়েছে বলে ঘোষণা করা হবে না।

বোর্ডরুমে প্রকাশ্য বিভাজন: স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কার্যত দুই শিবিরে বিভক্ত। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ। অপর পক্ষের নেতৃত্বে তারই ছেলে এবং সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান এ কে এম আব্দুল আলীম। আলীমের নেতৃত্বাধীন অংশটি বর্তমান এমডি মো. হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ঋণ অনিয়মের অভিযোগ এনে পুনর্নিয়োগের বিরোধিতা করে আসছেন।

বোর্ডের বিরোধী অংশের দাবি, মো. হাবিবুর রহমান পূর্ববর্তী কর্মস্থল ইউনিয়ন ব্যাংক ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকে দায়িত্ব পালনকালে গুরুতর ঋণ অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত ছিলেন। বিশেষ করে ইউনিয়ন ব্যাংকে এস আলম গ্রুপের অনুকূলে আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি অনিয়মিত ঋণ অনুমোদনের অভিযোগ রয়েছে, যা বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমেও উঠে এসেছে।

বোর্ড সভা ছাড়াই ‘পুনর্নিয়োগ’ : ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এমডি পুনর্নিয়োগ (কার্যবিধির ১৫ নম্বর এজেন্ডা) নিয়ে কোনো আলোচনা ছাড়াই সভা শেষ হয়। কিন্তু পরে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে আলাদা বৈঠকে এমডি পুনর্নিয়োগের সিদ্ধান্ত কার্যবিবরণীতে যুক্ত করে তা বাংলাদেশ ব্যাংকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) চেয়ে পাঠানো হয়।
ওই একই সভায় ভাইস-চেয়ারম্যান এ কে এম আব্দুল আলীমকে সরিয়ে বোর্ড সদস্য গুলজার আহমেদকে ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগের এভিপি মো. সোহেল রহমানী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বোর্ড মিটিং থেকেই একজন উঠে গিয়েছিলেন। আলাদা করে কোনো বৈঠক হয়নি।” অন্যদিকে সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান এ কে এম আব্দুল আলীম বলেন, “বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করবো না।”

বিতর্কিত অতীত, অস্বস্তিকর বর্তমান: মো. হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলায় স্থগিতাদেশ থাকলেও বিষয়টি ব্যাংকের ভেতরে-বাইরে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে তাকে এমডি হিসেবে নিয়োগের সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনপত্রেই উল্লেখ ছিল—দুদকের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে এমডি হিসেবে তার অনুমোদন বাতিল হতে পারে।
তবে এ বিষয়ে ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগ জানায়, “যেহেতু তিনি কোনো মামলায় সাজাপ্রাপ্ত নন এবং অপরাধী হিসেবে প্রমাণিত হননি, তাই বিষয়টি আলোচনার যোগ্য নয়।”

গভর্নরের প্রকাশ্য ক্ষোভ: ব্যাংকটির পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর। গত ১৫ জানুয়ারি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানত পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের বোর্ড কোন্দল ও এমডি পুনর্নিয়োগ প্রসঙ্গে বলেন, “স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ব্যাপারে আমরা খুবই বিরক্ত। আজকেও তাদের বলেছি—বোর্ডের কোন্দল মীমাংসা কর। এমডি পুনর্নিয়োগের বিষয়ে তো সিদ্ধান্ত হবেই না, বরং প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংক আরও কঠোর ব্যবস্থা নেবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা বারবার শুদ্ধ হতে বলছি। যদি তারা শুদ্ধ না হয়, তাহলে আমরা আরও কঠোর হবো।”

ঝুঁকিতে আস্থা ও ভবিষ্যৎ: বর্তমান পরিস্থিতিতে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের প্রশাসনিক অচলাবস্থা দিন দিন গভীরতর হচ্ছে। পরিচালনা পর্ষদের দ্বন্দ্ব, আদালতের আইনি জটিলতা এবং শীর্ষ নির্বাহীর বিতর্কিত ভূমিকা ব্যাংকটির আর্থিক স্থিতিশীলতা, গ্রাহকের আস্থা ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত আইনসম্মত, স্বচ্ছ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত না এলে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক আরও বড় সংকটে পড়তে পারে—যার দায় শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়বে আমানতকারী ও সাধারণ গ্রাহকদের ওপরই।