480
ঢাকামঙ্গলবার , ২০ জানুয়ারি ২০২৬
  1. অনুসন্ধানী ও বিশেষ প্রতিবেদন
  2. অপরাধ-আইন ও আদালত
  3. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প
  4. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প-ব্যাংক-বীমা-নন ব্যাংক
  5. আইটি, টেলিকম ও ই-কমার্স
  6. আবাসন-ভূমি-রাজউক-রিহ্যাব
  7. উদ্যোক্তা-জীবনী
  8. করপোরেট ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
  9. কৃষি, খাদ্য ও পরিবেশ
  10. গণমাধ্যম
  11. গৃহায়ন ও গণপূর্ত
  12. জনশক্তি ও পর্যটন
  13. জনসংযোগ-পদোন্নতি ও সম্মাননা
  14. জাতীয়
  15. দুর্ঘটনা-শোক-দুর্যোগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নয় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: সোনালী লাইফের সাবেক সিইও রাশেদ বিন আমানসহ সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

https://www.uddoktabangladesh.com/wp-content/uploads/2024/03/aaaaaa.jpg
উদ্যোক্তা বাংলাদেশ
জানুয়ারি ২০, ২০২৬ ২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বিশেষ প্রতিনিধি: বীমা খাতে আরেকটি বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ সামনে এসেছে। সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মীর রাশেদ বিন আমানসহ সাতজনের বিরুদ্ধে প্রায় নয় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার পর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গত বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) কোম্পানির এক্সিকিউটিভ মোস্তফা গোলাম এমরান রামপুরা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় কর্মচারী কর্তৃক প্রতারণামূলক বিশ্বাসভঙ্গ, অর্থ আত্মসাৎ ও হুমকি প্রদানের অভিযোগ আনা হয়েছে। দণ্ডবিধি ১৮৬০ অনুযায়ী ৪০৮, ৪২০ ও ৫০৬ ধারায় মামলা রুজু করা হয়। মামলা নম্বর-৪, তারিখ: ১১/০১/২০২৪।

কারা অভিযুক্ত: মামলায় অজ্ঞাতনামাসহ মোট সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। নামীয় আসামিরা হলেন—মীর রাশেদ বিন আমান (৩৯), সাবেক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, ফাতেমা তামান্না সুইটি (২৮), সাবেক এইচআর অফিসার, সুমি শেন (৩৪), হিসাব বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা, রাজেশ আইস (৩৯), সাবেক হেড অব পারচেজ, মো. বোরহান উদ্দিন মজুমদার (৩৮), সাবেক হেড অব ফাইন্যান্স, মো. শিপন ভূঁইয়া (৩৮), হিসাব বিভাগের সাবেক ম্যানেজার সুজন তালুকদার (৪০), সাবেক হেড অব ইনভেস্টমেন্ট।

হিসাব গড়মিল থেকে আত্মসাতের অভিযোগ: মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মীর রাশেদ বিন আমান মাসিক ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বেতনে সোনালী লাইফে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে যোগদান করেন। অন্যান্য আসামিরাও বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। দায়িত্ব পালনকালে অডিট প্রতিষ্ঠান ম্যাবস অ্যান্ড জে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস মৌখিকভাবে সোনালী লাইফের হিসাবের গড়মিলের বিষয়টি জানালেও তৎকালীন সিইও রাশেদ বিন আমানসহ সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি গোপন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তীতে কোম্পানির একাউন্টস ডিভিশনের নিজস্ব অনুসন্ধানে রাশেদ বিন আমানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের তথ্য বেরিয়ে আসে। তদন্তে দেখা যায়, তিনি কোম্পানির একাউন্ট থেকে নিজের ব্যক্তিগত একাউন্টে ৫০ লাখ টাকা স্থানান্তর করেন। একইভাবে পরে কোম্পানির একাউন্ট থেকে ২০ লাখ টাকা নগদ উত্তোলন করে নিজের একাউন্টে জমা করেন।

১১ বছরে ৯ কোটি টাকার লেনদেন: ব্যাংক স্টেটমেন্ট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৩ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মীর রাশেদ বিন আমান তার মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের একাউন্টে আনুমানিক ৯ কোটি টাকা লেনদেন করেছেন। অথচ তার বেতন ছাড়া অন্য কোনো বৈধ আয় উৎস নেই বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে কোম্পানির চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস কর্মকর্তাদের নিয়ে কাগজপত্র ও হিসাব পর্যালোচনা করে দেখতে পান—২০১৩ সালের ২ আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত রাশেদ বিন আমান ও অন্যান্য আসামিদের যোগসাজশে প্রায় নয় কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

হিসাব চাইতেই হুমকি, এরপর গা ঢাকা। এজাহারে আরও বলা হয়, রাশেদ বিন আমানের কাছে সঠিক হিসাব চাইলে তিনি কোনো তথ্য না দিয়ে উল্টো কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে হুমকি দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি অফিসে আসা বন্ধ করে দেন এবং চেয়ারম্যান ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে ক্যাশ ডিপোজিট করিয়ে সেই অর্থ কোম্পানির একাউন্টে না দিয়ে অনুমোদনহীনভাবে নিজের একাউন্টে জমা করা হয়। আত্মসাৎ করা অর্থ দিয়ে তিনি একাধিক গাড়ি ক্রয় করেছেন বলেও মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
পুলিশ যা বলছে, রামপুরা থানার ওসি (তদন্ত) গোলাম মাওলার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাবেক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সাতজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামীরা সবাই পলাতক থাকায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।”

অভিযুক্তের বক্তব্য : এ বিষয়ে মীর রাশেদ বিন আমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মামলার বিষয়ে কথা বলেন। তিনি স্বীকার করেন যে এখনো তিনি জামিন নেননি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয়। আমাকে হয়রানি করার জন্যই এসব করা হচ্ছে।”

বীমা খাতে ফের প্রশ্ন : নয় কোটি টাকা আত্মসাতের এই অভিযোগ নতুন করে বীমা খাতে করপোরেট গভর্ন্যান্স, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কার্যকর তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে সাধারণ গ্রাহক ও পলিসিধারীদের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।