কোম্পানি আইন লঙ্ঘন, কোরাম ছাড়াই বোর্ড পরিচালনা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ভয়াবহ অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক : ২৩৫ কোটি টাকার অর্থনৈতিক অপরাধ মামলায় পলাতক ঘোষিত বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের বর্তমান চেয়ারম্যান ফাতেমা জহির মজুমদার–এর বিরুদ্ধে কোম্পানি আইন লঙ্ঘন, ক্ষমতার অপব্যবহার, বেআইনি বোর্ড পরিচালনা এবং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যক্রম অচল করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে।
হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য, জামিন বাতিল ও পলাতক ঘোষণা
জানা গেছে, জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ১৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে নির্ধারিত শুনানিতে উপস্থিত না হওয়ায় আদালত তাকে পলাতক আসামি ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন বাতিল করে তার গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট আমলি আদালতকে।
হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন তিনি আদালতে হাজির না হয়ে মামলার শুনানি এড়িয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
কোম্পানি আইন লঙ্ঘন: কোরামবিহীন বোর্ড পরিচালনার অভিযোগ
কোম্পানি আইন অনুযায়ী একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে ন্যূনতম তিনজন পরিচালক থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড দীর্ঘদিন ধরে মাত্র একজন স্পন্সর ডিরেক্টর ও একজন ইনডিপেনডেন্ট ডিরেক্টর নিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে।
তার মধ্যেও ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বোর্ড সেক্রেটারি শারমিনের সহায়তায় কোরাম না থাকা সত্ত্বেও নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন ফাতেমা জহির মজুমদার। কোম্পানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সরাসরি কোম্পানি আইন লঙ্ঘন এবং বোর্ডের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে বেআইনি করে তোলে।
ঋণ, তফসিল ও আর্থিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির
অভিযোগ পাওয়া গেছে—আগস্ট ২০২৫ থেকে কোরাম না থাকায় প্রতিষ্ঠানের সব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ পড়ে আছে:
-
ঋণ নবায়ন
-
পুনঃতফসিল
-
পুনঃঅর্থায়ন
-
ফান্ড ডিসবার্সমেন্ট
ফলে গ্রাহকদের ঋণ ব্যবস্থাপনা স্থবির হয়ে পড়ে। বহু গ্রাহক মাসের পর মাস ভোগান্তিতে আছেন।
বোর্ডকে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রভাববলয়ে আনার চেষ্টা দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে।
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে কোরাম না থাকা সত্ত্বেও তিনি নতুন এমডি নিয়োগের জন্য একজন ব্যাংকারের ইন্টারভিউ নেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বেলিজিংয়ের সাবেক এমডি রোকনুজ্জামান, যার পুনঃনিয়োগ আবেদন পূর্বেই বাংলাদেশ ব্যাংক বাতিল করেছিল।
বাতিল হওয়া সত্ত্বেও রোকনুজ্জামান বেআইনিভাবে ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ করছেন—এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে। তার সঙ্গে বোর্ড সেক্রেটারি শারমিন ও চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ যোগসূত্রের কথাও উঠে এসেছে।
চরম আর্থিক সংকট: কর্মীদের বেতন দিতেও অক্ষম
প্রতিষ্ঠানটি গত দুই বছর ধরে কর্মীদের নিয়মিত বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
এ অবস্থায় যোগ্যতা যাচাই ছাড়াই ব্যক্তিগত পছন্দের অযোগ্য ও অনভিজ্ঞ লোকবল নিয়োগ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে বর্তমান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
যোগ্য পরিচালককে বোর্ডে ঢুকতে দিচ্ছেন না?
একজন স্পন্সর শেয়ারহোল্ডারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় শেয়ার ক্রয়পূর্বক পরিচালক হওয়ার আবেদন দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে,
-
প্রতিষ্ঠানের স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি ও আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিপ্রায়ে
-
বোর্ড সেক্রেটারি শারমিন ও ফাতেমা জহির মজুমদার ইচ্ছাকৃতভাবে কোরাম না ঘটিয়ে বোর্ড অচল করে রেখেছেন।
এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছে।
গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষোভ বাড়ছে
ঋণ ব্যবস্থাপনা বন্ধ, আমানত পুনরায় ডিসবার্স না হওয়া এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের অক্ষমতার কারণে গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডাররা মারাত্মক আর্থিক ঝুঁকিতে পড়েছেন। অনেকেই অভিযোগ করেছেন—“বেলিজিং আজ কার্যত পরিচালনাহীন”।
যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ
এ বিষয়ে জানতে ফাতেমা জহির মজুমদারের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।





