রাঙামাটির লংগদু কৃষি ব্যাংকে কৃষি ঋণ ও প্রণোদনা বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্তে ভুয়া নথির মাধ্যমে প্রায় ৬০ কোটি ১৯ লাখ টাকার অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দুদকের রাঙামাটি জেলা সমন্বিত কার্যালয়।
রোববার (২৩ নভেম্বর) সকালে দুদকের রাঙামাটি জেলা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আহামদ ফরহাদ হোসেন ও সহকারী পরিচালক রাজু আহমেদের নেতৃত্বে লংগদু কৃষি ব্যাংকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অভিযানে দুদকের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দীন, মোহাম্মদ আবু ছাদেকসহ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপকসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দুদকের সহকারী পরিচালক আহামদ ফরহাদ হোসেন জানান, ২০২১ থেকে ২০২৪–২৫ অর্থবছর পর্যন্ত লংগদু কৃষি ব্যাংকে কৃষি ঋণ ও প্রণোদনার নামে ভুয়া ঋণ প্রদানের অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় কৃষি ঋণ বিতরণে অনিয়মের বিষয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলা হয়। তিনি জানান, বিভিন্ন নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, কৃষকদের নামে ভুয়া ঋণ, প্রণোদনা এবং অন্য অনিয়মের স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। বিশেষ করে ব্যাংকের রেকর্ডে ভুয়া দলিল, জাল স্বাক্ষর ও জালিয়াতির মাধ্যমে একটি মাত্র চেক দিয়ে ৬০ কোটি ১৯ লাখ টাকার বেশি ভুয়া ঋণ বিতরণের তথ্য পাওয়া গেছে। ফরহাদ হোসেন আরও বলেন, তদন্ত শেষ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে কক্সবাজার-২ আসনের সাবেক এমপি ও মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আশেক উল্লাহ রফিকের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেনের অভিযোগে মামলা করেছে দুদক। রোববার দুদকের কক্সবাজার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এ মামলাটি করা হয়। দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসিফ আল মাহমুদ মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আশেক উল্লাহ বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ তিন কোটি ৮৮ লাখ ৭৭ হাজার ১৩৯ টাকার সম্পদ অর্জন ও দখলে রেখে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এজাহারে তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ছয় কোটি ২৩ লাখ ২৭ হাজার ৬৭৯ টাকা, যার মধ্যে বৈধ উৎস পাওয়া গেছে দুই কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার ৫৪০ টাকার। অর্থাৎ বৈধ আয়ের তুলনায় তার সম্পদ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এ ছাড়া সাবেক এই এমপির নামে পাঁচটি ব্যাংকের ১৪টি হিসাবে দীর্ঘ সময় ধরে ৪১ কোটি এক লাখ ১৩ হাজার ৬২৫ টাকা জমা এবং ৩৪ কোটি ১৫ লাখ ২৩ হাজার ৬৯৭ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে সন্দেহজনক লেনদেনের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৫ কোটি ৪৬ লাখ ৩৭ হাজার ৩২২ টাকা।





