480
ঢাকাসোমবার , ২৪ নভেম্বর ২০২৫
  1. অনুসন্ধানী ও বিশেষ প্রতিবেদন
  2. অপরাধ-আইন ও আদালত
  3. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প
  4. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প-ব্যাংক-বীমা-নন ব্যাংক
  5. আইটি, টেলিকম ও ই-কমার্স
  6. আবাসন-ভূমি-রাজউক-রিহ্যাব
  7. উদ্যোক্তা-জীবনী
  8. করপোরেট ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
  9. কৃষি, খাদ্য ও পরিবেশ
  10. গণমাধ্যম
  11. গৃহায়ন ও গণপূর্ত
  12. জনশক্তি ও পর্যটন
  13. জনসংযোগ-পদোন্নতি ও সম্মাননা
  14. জাতীয়
  15. দুর্ঘটনা-শোক-দুর্যোগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘অ্যাডভান্স এ্যাটায়ার’ শুল্ককর ফাঁকি ৬৬ কোটি টাকা

https://www.uddoktabangladesh.com/wp-content/uploads/2024/03/aaaaaa.jpg
উদ্যোক্তা বাংলাদেশ ডেস্ক:
নভেম্বর ২৪, ২০২৫ ১:২৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বন্ড সুবিধায় আমদানি করেছে প্রায় ৩ হাজার ৪৭২ মেট্রিক টন কাপড়। যার মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৪৪৩ মেট্রিক টন কাপড়ের হদিস নেই। অর্থাৎ বন্ড সুবিধার এসব কাপড় আমদানি করে তা দিয়ে পোশাক তৈরি করা হয়নি। শুল্ককর ফাঁকি দিতে সরাসরি খোলাবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। মানিকগঞ্জ ঘিওর পুকুরিয়া এলাকার অ্যাডভান্স এ্যাটায়ার লিমিটেডের বিরুদ্ধে বন্ড সুবিধার এসব কাপড় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিপুল পরিমাণ বন্ড সুবিধার এই কাপড়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৬৬ কোটি টাকার শুল্ককর ফাঁকি দিয়েছে। সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের পরিদর্শনে এই কাপড় খোলাবাজারে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেছে। বন্ড সুবিধার কাপড় খোলাবাজারে বিক্রি করায় প্রতিষ্ঠানকে দাবিনামা সম্বলিত কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করা হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির খোলাবাজারে বিক্রি করা কাপড়ের পরিমাণ আরো বেশি হতে পারে বলে ধারণা করছেন বন্ড কর্মকর্তারা। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১ হাজার ৭১৪ কেজি যে পোশাক রপ্তানি দেখিয়েছে, তাতেও গরমিল রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আমদানি কাপড় বিক্রিতে যে জালিয়াতি করেছে, রপ্তানির ক্ষেত্রেও সেই জালিয়াতি থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বন্ড কমিশনারেট। উল্লেখ, এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার বন্ড সুবিধার কাপড় বিক্রির অভিযোগ পেয়েছে বন্ড কমিশনারেট।

এনবিআর সূত্রমতে, ঢাকার অদূরে অ্যাডভান্স এ্যাটায়ার লিমিটেড ২০১০ সালে বন্ড লাইসেন্স পায়। লাইসেন্স পাওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি বন্ড সুবিধায় কাপড় আমদানি করে বেশিরভাগ খোলাবাজারে বিক্রি করে দিয়ে আসছে। যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। যদিও প্রতিবার মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে পার পেয়ে যায়। খোলাবাজারে বিক্রি করায় প্রতিষ্ঠানটিকে ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রাখে এনবিআর। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাপড় ঢাকার একাধিক জায়গায় বিক্রি করে আসছে বলে অভিযোগ উঠে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি খোলাবাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে এলসি বিক্রি করে আসছে বলেও অভিযোগ পায় এনবিআর। যার প্রেক্ষিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেয় ঢাকা দক্ষিণ কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। চলতি বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর বন্ড কমিশনারেটের কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটি ওয়্যারহাউস পরিদর্শন করেন। এসময় ওয়্যারহাউসে আমদানি করা কাপড় খুব বেশি পায়নি কর্মকর্তারা। পরে প্রতিষ্ঠানটির কাগজপত্র যাচাই ও ইনভেন্ট্রি করা হয়। এতে ব্যাপক গরমিল পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটির আমদানি করা বিপুল পরিমাণ কাপড় খোলাবাজারে বিক্রি করে দিয়েছে বলে প্রমাণ পান বন্ড কর্মকর্তারা। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. মশিউর রহমান বিষয়টি স্বীকারও করেছেন। পরে ৬ অক্টোবর পরিদর্শন প্রতিবেদন জমা দেন কর্মকর্তারা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাডভান্স এ্যাটায়ার লিমিটেড ২০২৪ সালের ৪ মার্চ থেকে চলতি বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৪ লাখ ৭২ হাজার ৬৫৩ কেজি কাপড় আমদানি করেছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে আগের কাপড় মজুদ রয়েছে ৯৩ হাজার ৪৫৪ কেজি। আগের মজুদসহ প্রতিষ্ঠানটিতে কাপড় থাকার কথা ৩৫ লাখ ৬৬ হাজার ২০৭ কেজি। প্রতিষ্ঠানের দেওয়া কাগজপত্র অনুযায়ী, ১৭ লাখ ১৪ হাজার ৩২৮ কেজি বা ১ হাজার ৭১৪ মেট্রিক টন কাপড় দিয়ে পোশাক তৈরি করে তা রপ্তানি করা হয়েছে। তবে রপ্তানি সত্যি হয়েছে কিনা-তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রপ্তানির পোশাক তৈরি বাদে প্রতিষ্ঠানটির ওয়্যারহাউসে আমদানি করা বাকি ১৪ লাখ ৭৩ হাজার ৪৬৭ কেজি বা ১ হাজার ৪৪৩ দশমিক ৪৬৭ মেট্রিক টন কাপড় থাকার কথা, কিন্তু ওয়্যারহাউসে এই বিপুল পরিমাণ কাপড় নেই। এই কাপড় ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করেনি, বন্দর থেকে সরাসরি খোলাবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অবৈধভাবে শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে বিক্রি করা এই কাপড়ের মূল্য প্রায় ৮০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, যাতে প্রযোজ্য শুল্ককর প্রায় ৬৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা। পরিদর্শন প্রতিবেদনে কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটি রাজস্ব ঝুঁকি থাকায় ফাঁকি দেওয়া শুল্ককর আদায়ে দাবিনামা সম্বলিত কারণ দর্শানো নোটিশ ও অনিয়ম, জালিয়াতির ঝুঁকি থাকায় প্রতিষ্ঠানটির বন্ড লাইসেন্স সাময়িক স্থগিত করার সুপারিশ করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী ১২ নভেম্বর ঢাকা দক্ষিণ কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট থেকে প্রতিষ্ঠানকে অবৈধভাবে বিক্রি করে ১ হাজার ৪৪৩ মেট্রিক টন কাপড়ের উপর প্রযোজ্য শুল্ককর ৬৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা পরিশোধে দাবিনামা সম্বলিত কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করেছে।

একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লাইসেন্স পাওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি আমদানি করা কাপড় খোলাবাজারে বিক্রি করে আসছে। বহুবার প্রতিষ্ঠানকে মামলা, জরিমানা করা হলেও অদৃশ্য কারণে প্রতিষ্ঠানটি বেঁচে যায়। একটি প্রভাবশালী মহলের কারণে লাইসেন্স বাতিল করা হয়নি। এখন ১ হাজার ৪৪৩ মেট্রিক টন বিক্রি করে দিয়েছে। যেসব রপ্তানি দেখিয়েছে, তা রপ্তানি হয়েছে কিনা-সন্দেহ রয়েছে। বিষয়টি অনৈতিকভাবে সমাধা করতে প্রতিষ্ঠানটি নানান জনকে দিয়ে সুপারিশ করাচ্ছে। নোটিশের জবাব দেওয়ার পরপরই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে অ্যাডভান্স এ্যাটায়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান সালাম হোসেন চৌধুরীর ব্যক্তিগত নাম্বারে ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বক্তব্যের বিষয় লিখে দিলে তিনি সিন করেন। কিন্তু কোন জবাব দেননি। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আওলাদ চৌধুরীকে ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। বক্তব্যের বিষয় হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া হলে তিনি জানান প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ইমরান সুমন বক্তব্য দেবেন। ইমরান সুমন অবৈধ অপসারণ, খোলাবাজারে বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, সব কাপড় দিয়ে পোশাক তৈরি করে রপ্তানি হয়েছে, তার প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। তবে তিনি তা দেখাতে পারেননি।