480
ঢাকামঙ্গলবার , ২৮ অক্টোবর ২০২৫
  1. অনুসন্ধানী ও বিশেষ প্রতিবেদন
  2. অপরাধ-আইন ও আদালত
  3. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প
  4. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প-ব্যাংক-বীমা-নন ব্যাংক
  5. আইটি, টেলিকম ও ই-কমার্স
  6. আবাসন-ভূমি-রাজউক-রিহ্যাব
  7. উদ্যোক্তা-জীবনী
  8. করপোরেট ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
  9. কৃষি, খাদ্য ও পরিবেশ
  10. গণমাধ্যম
  11. গৃহায়ন ও গণপূর্ত
  12. জনশক্তি ও পর্যটন
  13. জনসংযোগ-পদোন্নতি ও সম্মাননা
  14. জাতীয়
  15. দুর্ঘটনা-শোক-দুর্যোগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাউথইস্ট ব্যাংক-নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০০ কোটির বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

https://www.uddoktabangladesh.com/wp-content/uploads/2024/03/aaaaaa.jpg
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ঢাকা:
অক্টোবর ২৮, ২০২৫ ১১:০৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

টিভি বিজ্ঞাপন ও নকশিকাঁথার ভুয়া বিলে ২৫ কোটি টাকা লোপাট,বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে বিলাসবহুল গাড়ি ক্রয় ও জমি কেনায় জালিয়াতির অভিযোগ এম এ কাসেমের বিরুদ্ধে, দুদকের তদন্তকারী দল গঠন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (এনএসইউ) জালিয়াতি ও অর্থ তছরুপের এক জটিল নেটওয়ার্কের খবর পাওয়া গেছে। টিভি বিজ্ঞাপন ও নকশিকাঁথা ক্রয়ের ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে প্রায় ২৫ কোটি টাকা তছরুপের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে ৩০০ কোটিরও বেশি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
ব্যাংক থেকে ২৫ কোটি টাকা তছরুপ: সাউথইস্ট ব্যাংকের অভিযোগ অনুযায়ী, টিভি বিজ্ঞাপনের নামে ২১ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহকদের উপহার হিসেবে ছয় হাজার ৩৫০টি নকশিকাঁথা ক্রয়ের নামে এক কোটি ৩৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা তোলা হয়েছে। লজিস্টিকস ক্রয়ের নামেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জনের নামে আদালতে মামলা করেছে ব্যাংক। পাশাপাশি চারটি অভিযোগ দুদকে পাঠানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় তহবিলে জালিয়াতি: দুদকে দায়ের করা অভিযোগপত্র অনুসারে, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাউথইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. এম এ কাসেমের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে ৩০৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ক্যাম্পাস উন্নয়নের নামে ৯,০৯৬.৮৮ শতাংশ জমি ক্রয়ের সময় ৩০৩ কোটি ৮২ লাখ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
জমি ক্রয়ে জালিয়াতির কৌশল: অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, এম এ কাসেম কম দামের জমি বেশি দামে দেখিয়ে ক্রয় দেখিয়েছেন এবং ডেভেলপার কোম্পানি থেকে কমিশন নিয়েছেন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বাচল সংলগ্ন এলাকায় ২৫০ বিঘা নিচু জমি ক্রয়ের সময় প্রায় ৪২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৪ সালে আশালয় হাউজিং অ্যান্ড ডেভেলপার্স লিমিটেডের কাছ থেকে ৮০ কোটি টাকার জমি ৫০০ কোটি টাকা দেখিয়ে অর্থ লোপাটের অভিযোগও যুক্ত হয়েছে।
বিলাসবহুল গাড়ি ও অতিরিক্ত ভাতা: অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ট্রাস্টি বোর্ডের ৯ সদস্যের জন্য ২৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে আটটি রেঞ্জ রোভার ও একটি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি কেনা হয়েছে। এসব গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, চালকের বেতন ও তেলের খরচও বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া অনলাইন মিটিং করেও সমপরিমাণ সিটিং অ্যালাউন্স নেওয়া, নিয়ম ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৮ কোটি টাকার তহবিল নিজ মালিকানাধীন সাউথইস্ট ব্যাংকে এফডিআর করা এবং ইউজিসির নির্দেশনা অমান্য করে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের তদন্ত: দুদক সূত্রে জানা গেছে, এসব অভিযোগ যাচাইয়ে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। টিমের সদস্যরা হলেন— উপপরিচালক আজিজুল হক, সহকারী পরিচালক মেহেদী মুসা জেবিন ও সহকারী পরিচালক আল-আমিন।
এ ঘটনায় বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তহবিল ব্যবস্থাপনায় তদারকির ঘাটতি আরও স্পষ্ট হয়েছে। সাউথইস্ট ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠিত ব্যাংক এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের অনিয়ম দেশের আর্থিক খাত ও শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
দুদকের তদন্ত কতটুকু স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয় এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায় কিনা, তা এখন দেখার বিষয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
এ ব্যাপারে তথ্য জানতে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাউথইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. এম এ কাসেম, সাউথইস্ট ব্যাংকের এমডি,  কোম্পানি সেক্রেটারি চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসারকে ফোনে, ইমেইলে ও হোয়াস্টঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।