480
ঢাকাশনিবার , ৩ মে ২০২৫
  1. অনুসন্ধানী ও বিশেষ প্রতিবেদন
  2. অপরাধ-আইন ও আদালত
  3. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প
  4. অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প-ব্যাংক-বীমা-নন ব্যাংক
  5. আইটি, টেলিকম ও ই-কমার্স
  6. আবাসন-ভূমি-রাজউক-রিহ্যাব
  7. উদ্যোক্তা-জীবনী
  8. করপোরেট ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
  9. কৃষি, খাদ্য ও পরিবেশ
  10. গণমাধ্যম
  11. গৃহায়ন ও গণপূর্ত
  12. জনশক্তি ও পর্যটন
  13. জনসংযোগ-পদোন্নতি ও সম্মাননা
  14. জাতীয়
  15. দুর্ঘটনা-শোক-দুর্যোগ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভেষজ দেশি গাব ক্যানসার ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর

https://www.uddoktabangladesh.com/wp-content/uploads/2024/03/aaaaaa.jpg
উদ্যোক্তা বাংলাদেশ
মে ৩, ২০২৫ ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ফিচার ডেস্ক : গ্রামাঞ্চলের ঝোপ-ঝাড়ে যে গাছটিকে ভয় ভূত-পিচাশের চেয়ে কম নয়- এর নাম দেশি গাব। বহু বর্ষজীবী দেশি গাব বাংলা ও হিন্দিতে গাব, সংস্কৃতে তিন্দুকা এবং তামিল ভাষায় তুম্বিকা নামে পরিচিত। দেশী গাব এবিনাসি পরিবারের ডিয়োসপিরস গণের একটি সপুষ্পক উদ্ভিদ। এদের বৈজ্ঞানিক নাম ডায়োস্পাইরস মালাবারিকা। আদি নিবাস ফিলিপাইন হলেও বাংলাদেশে গ্রামেগঞ্জে এই ফলের দেখা মেলে। বর্তমানে ফলের দোকানগুলোতেও দেখা যায় এই মৌসুমী ফলের। আমাশয় ও পেটের অসুখে এই গাছের ছাল বেশ উপকারী। বহুমূত্র, ক্যান্সার, একজিমা, চর্মরোগ, আমাশয়, মূত্ররোগে গাব একটি কার্যকর ভেষজ।

দেশি গাবের ফল গোলাকার। খেতে হালকা মিষ্টি ও কষযুক্ত। সবুজ ফল পাকলে হলুদ বর্ণ ধারণ করে। গাবের ফল থেকে ট্যানি জাতীয় আঠা তৈরি করা হয়। টেকসই করতে এর আঠা জালে, পশুর চামড়ায় এবং নৌকায় মাখানো হয়। লোকালয়ের ঝোপ-ঝাড় ধ্বংস করে আবাদি জমি তৈরির ফলে অন্যান্য মূল্যবান গাছের মতো দেশি গাবও হারিয়ে যেতে বসেছে।

প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যউপযোগী গাবে রয়েছে খাদ্যশক্তি ৫০৪ কিলোক্যালরি, জলীয় অংশ ৮৩.০ থেকে ৮৪.৩ গ্রাম, আমিষ ২.৮ গ্রাম, চর্বি ০.২ গ্রাম, শর্করা ১১.৮ গ্রাম, খাদ্যআঁশ ১.৮ গ্রাম, চিনি ১১.৪৭ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৪৬ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ ৩৫ আইইউ, ফসফরাস ১৮ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.৬ মিলিগ্রাম, থায়ামিন ০.০২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ১৮ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ১১০ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৩০৩ মিলিগ্রাম। গাবের এসব পুষ্টিগুণ আমাদের শরীরকে রক্ষা করে নানা রোগ থেকে। জেনে নিন দেশি গাবের স্বাস্থ্য উপকারিতা-

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে: উচ্চমাত্রায় খাদ্যশক্তি থাকায় আপনার শরীরের দূর্বলতা দূর হয়ে যায়। গাব ভেষজ চিকিৎসায় ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে গাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ক্যানসারের ঝুঁকি কমায় : গাবে প্রচুর আঁশ থাকায় কোষ্ঠ-কাঠিন্য দূর করে। এতে অন্ত্রের বিভিন্ন রোগ এবং কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমে।

হাইপারটেনশন কমায়: উচ্চ পটাসিয়াম উপাদান থাকায় রক্ত সঞ্চালনের উন্নতি ঘটায়। এটি শরীরে রক্তপ্রবাহ ঠিক রাখে, কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমের উপর চাপ কমায় এমনকি রক্তচাপ্ও কমাতে সাহায্য করে। এতে থাকা আঁশ শরীরে কোলেস্টেরল কমায়। এছাড়া্ও রক্ত চাপ, হার্টঅ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

রক্ত চলাচলের উন্নতি ঘটায়: গাবে থাকা আয়রন দেহে লোহিত কণিকার কোষের উন্নতি ঘটায়। দেহের গুরুত্বপূর্ণ টিস্যুগুলোতে অক্সিজেন প্রবাহ বৃদ্ধি করে। এছাড়া এটি পেশি গঠন, চুলের বৃদ্ধি এবং হজমক্রিয়ার উন্নতি ঘটায়।

হজমে সহায়ক: গাবে প্রচুর আঁশ থাকার কারণে এটি হজমক্রিয়া উন্নতিতে সাহায্য করে, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং অন্যান্য গ্যাস্ট্রিক জাতীয় সমস্যা দূর করে।

ত্বকের যত্ন: গাব খেলে বা এর তৈরি রূপচর্চার উপাদান ব্যবহার করলে ত্বকের প্রদাহ কমায়।

অ্যাজমা দূর : গাব খেলে সর্দি-কাশি থেকে মুক্তি পা্ওয়া যায়, বুকে রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না এবং অ্যাজমা দূর করে। এতে উচ্চমাত্রায় ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান থাকার কারণে রোগপ্রতিরোধ প্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটায়।

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি গাবে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ এবং ‘এ’ রয়েছে। এগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৃদ্ধি, ত্বকের জন্য ক্ষতিকর রেডিক্যাল কমিয়ে শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এই দুই ভিটামিন বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না, জটিল রোগ প্রতিরোধ এবং ত্বকের সুস্থতার জন্য বেশ কার‌্যকরী।