ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা পর্যালোচনার জন্য বহিঃনিরীক্ষক নিয়োগে নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো ব্যাংক পাওয়ানাদের টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তাদের বিষয়ে বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করবে বহিঃনিরীক্ষা বিভাগ। এছাড়াও কোনো ব্যাংকের সংরক্ষিত মূলধন আবশ্যক মূলধনের অর্ধেকের নিচের নামার সম্ভাবনা দেখা দিলে কোনো গুরুতর অনিয়ম হলে ব্যাংক-কোম্পানীর সম্পদ যথেষ্ট কি না সে বিষয়ে সন্দেহ হলে বহিঃনিরীক্ষা বিভাগ সেটা বিশেষ প্রতিবেদনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অবহিত করবে।
গতকাল মঙ্গলবার ‘ব্যাংক-কোম্পানী বহিঃ নিরীক্ষণ বিধিমালা, ২০২৪’ শীর্ষক এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়- সকল তফসিলি ব্যাংক আইন অনুসারে বার্ষিক সাধারণ সভার মাধ্যমে তিন বছরের জন্য বাৎসরিকভাবে বহিঃনিরীক্ষক নির্বাচন করবে। নিরীক্ষা কার্যক্রম যথাসময়ে সম্পন্ন করতে ব্যাংক বহিঃনিরীক্ষককে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য ও দলিলাদি সরবরাহ নিশ্চিত করবে। প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহে বিলম্বের কারণে নিরীক্ষা কার্যক্রম বিলম্ব হলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংকে নিয়োজিত নিরীক্ষা বিভাগ বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানোর জন্য রিরীক্ষা বছরের নবম মাসভিত্তিক একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন তৈরি করবে। ওই প্রতিবেদনে খেলাপি ঋণ ও ঋণের অনিয়ম, অন্যান্য সম্পদ, ব্যাংক কর্তৃক বাংলাদেশ ব্যাংকে দাখিলকৃত তথ্য-বিবরণীতে প্রাপ্ত অনিয়ম, খেলাপী ঋণের তথ্য এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোতে (সিআইবি) তা যথাসময়ে দাখিল করা হয়েছে কি না ইত্যাদি বিষয় অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করবে।
এছাড়াও খেলাপি ঋণের বিপরীতে রাখা সংস্থান ও মুনাফা হিসাবের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নীতিমালা যথাযথভাবে পরিপালন; ব্যাংকের শাখাগুলোর অবলোপনকৃত, পুনঃ তফসিলকৃত ঋণ হিসাব, মওকুফকৃত সুদ সংক্রান্ত তথ্য সম্পর্কে পর্যালোচনা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী রেজিস্টার বার লেজার সংরক্ষণ; নিরীক্ষাধীন বছরের মোট অবলোপনকৃত ঋণের পরিমাণ, আদায়ের পরিমাণ এবং আদায়ের জন্য ব্যাংকের পদক্ষেপের বিষয়ে ব্যাবস্থাপনা প্রতিবেদন তৈরি করে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাবে নিরীক্ষা বিভাগ।
রপ্তানি প্রণোদনা, রপ্তানি ভর্তুকি, নগদ সহায়তার আবেদনপত্র নিরীক্ষণে অনিয়ম; দেশের প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান অনুসারে সকল ধরনের প্রযোজ্য রাজস্ব সংগ্রহ করে সরকারি কোষাগারে জমা; কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী নস্ট্রো হিসাব যথাযথভাবে সমন্বয়; ব্যাংকের সুশাসন ব্যবস্থায় ত্রুটি-বিচ্যুতির বিষয়েও নিরীক্ষা বিভাগ ব্যাবস্থাপনা প্রতিবেদন প্রতিবেদন পাঠাবে।
এছাড়াও মূলধন, সঞ্চিতি, নীট সঙ্গতি, নগদ অর্থ ও তরল সম্পদ, খেলাপি ঋণের বিপরীতে রক্ষিতব্য সংস্থান, সুদ মওকুফ ও স্থগিত সুদ নিরূপণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধি-বিধান পালন; ব্যাংকের ঝুঁকি, কর্মকৌশল বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন, পরিচালন ব্যয় ও সম্পদ ক্রয় ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ে নিরীক্ষা বিভাগ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে। ব্যাংক কোম্পানী আইনের কোনো ধারা লঙ্ঘন হলে, কোনো অসততা ও প্রতারণা সংক্রান্ত ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হলে বা ব্যাংকের সংরক্ষিত মূলধন আবশ্যক মূলধনের ৫০ শতাংশের নিচে নামলে বা নামার সম্ভাবনা তৈরি হলে, পাওনাদারদের পাওনা প্রদানের নিশ্চয়তা বিঘ্নিত হলে, গুরুতর অনিয়ম হলে নিরিক্ষা বিভাগ বাংলাদেশ ব্যাংককে বিশেষ প্রতিবেদনের মাধ্যমে অবহিত করবে।





