সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, কর আদায়ের ক্ষেত্রে ন্যায্যতার প্রশ্ন আসে। বাংলাদেশের অনেক আয় পবিত্র আয় না। যারা কর দেয় না, টাকা পাচার করে তারা রাজনৈতিক ও আর্থিকভাবে শক্তিশালী। কর আহরণে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে। সামাজিক বিপ্লব ঘটাতে হবে। গতকাল রবিবার রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মানীত অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, কর আহরণে করদাতাদের আকৃষ্ট করতে হবে। সেবার মান বাড়িয়ে করদাতা ও কর গ্রহীতার মধ্যে মানুসিক সম্পর্ক কমিয়ে নিয়ে আসতে হবে। শুধু কর আহরণের ক্ষেত্রে নয়, সব ক্ষেত্রেই ডিজিটালাইজেশন হতে হবে।
‘ডিজিটালাইজেশন অব দ্যা ট্যাক্সজেশন সিস্টেম ইন বাংলাদেশ: দ্য নেক্সট ফ্রন্টিয়ার ফর হায়ার রিসোর্স মবিলাইজেশন’ শীর্ষক ডায়লগে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান। বিশেষ অতিথি সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ ও সম্মানিত অতিথি হিসেবে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রতিনিধি মি. এনরিকো লরেঞ্জো, বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি সৈয়দ খালেদ আহসান, বিজিএমই’র পরিচালক শামস মাহমুদ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ, সাবেক সদস্য (কর নীতি) মো. আলমগীর হোসেনসহ প্যানেলিস্ট ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
কর আদায়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ডিজিটালাইজেশন হলেও এর সুফল আদায় করা যাচ্ছে না। কাস্টমস, ভ্যাট, ট্যাক্স ও পেমেন্টে ডিজিটালাইজেশন হলেও খাতগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা নেই। যার কারণে ট্যাক্স লিকেজ বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না এসব বিষয় মুল প্রবন্ধে উঠে আসে। অনুষ্ঠানে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সম্মানিয় ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি তার প্রবন্ধে বলেন, কাস্টমস, ভ্যাট ও ট্যাক্সে প্রচুর ডিজিটালাইজেশন হচ্ছে কিন্তু তা বিক্ষিপ্তভাবে হচ্ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কর জালের সম্প্রসারণ হচ্ছে না। কর সংগ্রহে তথ্য প্রযুক্তি বড় একটা হাতিয়ার হতে পারে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বাড়াতে না পারলে দেশ বিপজ্জনক ও বাধ্যতামূলকমূলক পরনির্ভরশীলতার দিকে ধাবিত হবে জানিয়ে অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ডিজিটালাইজেশন করতে এনবিআর নানান উদ্যোগ নিয়েছে, পুরোপুরিভাবে ডিজিটালাইজেশন সম্ভব হলে কর জিডিপি অনুপাত ১৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।ডাটাবেজ সফটওয়্যারের ধারাবাহিকতা রাখা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত ইএফডি যন্ত্র বসানোর পরামর্শ দেন মোস্তাফিজুর।
অনুষ্ঠানে অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান বলেন, রাজস্ব বৃদ্ধি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ডিজিটালাইজেশনে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা রয়েছে। রাজস্ব আহরণের পরিকল্পনা স্মার্ট হতে হবে, তাহলেই সেটি অর্জন সম্ভব হবে। রাজস্ব আহরণের জন্য করদাতাকে সেবার মাধ্যমে পুরস্কৃত করতে হবে উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকের আলোচনায় ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ার কথা উঠে এসেছে। যদি বড় ব্যবসায়িরা ক্যাশে ট্রানজেকশন করতে চাই, তবে আমরা কিভাবে ক্যাশলেস ইকোনোমিতে পরিণত হবো। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহার ২০২৪ এর অগ্রাধিকারসমূহ বাস্তবায়নের প্রথম বাজেট এটা। এ বাজেটে রাজস্ব আদায়ে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অনুষ্ঠানে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়শা খান বলেন, জাতির পিতা দেশের উন্নয়নে খাতভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ এবং দেশীয় সম্পদের পূর্ণ ব্যবহারে গুরুত্ব দেন। রাজস্ব আহরণের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল দেশ গড়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুরদর্শী ও রুপান্তরকারী নেতৃত্বে বাংলাদেশ সকল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অভিঘাত মোকাবেলা করে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
এতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, রাজস্ব বোর্ড কর দাতাদের করভার কমিয়ে বেশি সংখ্যক মানুষকে করের আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
আলোচনায় সভায় এনবিআরোর সাবেক সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, অটোমেশন বাস্তবায়ন করতে যে পরিকল্পনা করা দরকার সেটা নেই। কেন আমরা সফল হলাম না, সেটা যাচাই করে দেখেছি? আর একটি বিষয় হচ্ছে রাজনৈতিক কমিটমেন্টের অভাব। তিনি বলেন, সিভিল সার্জনে লোকবল নিয়ে প্রযুক্তিগত কাজ করানো যাবে না। সেজন্য দরকার নিজস্ব দক্ষ জনবল। এনবিআর ডিজিটালাইজেশন করতে হলে ব্যবসায়ী মহলে সাপোর্ট ও রাজনৈতিক কমিটমেন্ট প্রয়োজন।





