অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) ২০২৬–২৮ মেয়াদের নির্বাচন ঘিরে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। সংগঠনটির নির্বাচন বোর্ড ও আপিল বোর্ডের নেওয়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাতিল ঘোষণা করেছেন এফবিসিসিআই সালিশ ট্রাইব্যুনাল।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে আটাবের সদ্য সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম আরেফ, সদ্য সাবেক মহাসচিব আফসিয়া জান্নাত সালেহ, সাবেক সহসভাপতি জিয়াউর রহমান খান রেজোয়ান এবং সদ্য সাবেক উপমহাসচিব ইদ্রিস মিয়ার মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে গত ১২ জুন প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকাও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এফবিসিসিআই সালিশ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নাসরিন বেগম এবং সদস্য এ এস এম কামাল উদ্দিন ও ছায়েদ আহম্মেদের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় দেন। রায়ে আটাবের নির্বাচন বোর্ড ও আপিল বোর্ডের কিছু সিদ্ধান্তকে বেআইনি, এখতিয়ারবহির্ভূত এবং ‘Coram Non Judice’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়, ২০২৪–২৬ মেয়াদের আটাবের কার্যনির্বাহী কমিটি বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২–এর ১৭ ধারা অনুযায়ী বাতিল করে সরকার প্রশাসক নিয়োগ করেছিল। এরপর ২০২৬–২৮ মেয়াদের নির্বাচনে সদ্য সাবেক সভাপতি, মহাসচিবসহ কয়েকজন সাবেক নেতা মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা, ২০২৫–এর ১৮(৪) বিধি প্রয়োগ করে তাদের মনোনয়ন বাতিল করে নির্বাচন বোর্ড।
ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ, প্রশাসনিক আদেশে কমিটি বাতিল হওয়া ‘মেয়াদ পূর্তি’ হিসেবে গণ্য হবে না। কারণ, সংশ্লিষ্ট কমিটি ২৪ মাসের পূর্ণ মেয়াদ শেষ করেনি। ফলে সাবেক নেতাদের প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করার আইনগত ভিত্তি ছিল না
এদিকে, আপিল বোর্ডের শুনানি নিয়েও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। মামলার শুনানির সময় তিন সদস্যের আপিল বোর্ডের মধ্যে দুজন উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শুনানিতে অনুপস্থিত থাকা একজন সদস্যের স্বাক্ষরও পরবর্তী আদেশে নেওয়া হয়। এ ছাড়া আদেশের কপিতে দুজন সদস্যের পদবিও ভুলভাবে লেখা হয়েছিল।
ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা সিসিটিভি ফুটেজ ও ছবিতে এসব বিষয় উঠে আসে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল ‘He who hears must decide’— অর্থাৎ, যিনি শুনবেন, তিনিই সিদ্ধান্ত দেবেন— এই আইনি নীতির কথা উল্লেখ করে। শুনানিতে অনুপস্থিত কোনো সদস্যের আদেশে স্বাক্ষর করা প্রাকৃতিক ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার নীতির পরিপন্থি বলেও পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, মামলায় ভোটার তালিকা নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠে। ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়েছে, বাতিল হওয়া ট্রাভেল এজেন্সির লাইসেন্সধারী ব্যক্তি, একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক প্রতিনিধি এবং প্রতিষ্ঠানের সাধারণ কর্মচারীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। বিপরীতে ৪৬ জন বৈধ সদস্যকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এসব কারণে ১২ জুন প্রকাশিত আটাবের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বাতিল ও বেআইনি ঘোষণা করেছে এফবিসিসিআই সালিশ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের এই রায়ের পর আটাবের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে এবং বাতিল হওয়া সিদ্ধান্তগুলোর পরবর্তী কার্যক্রম কী হবে, তা নিয়ে এখন সংগঠনটির সদস্যদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: জোনায়েদ মানসুর, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫৬ পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। রেজিস্টার্ড : ২৯২ ভূইয়া পাড়া প্রধান সড়ক, খিলগাঁও, ঢাকা- ১২১৯। সম্পাদকীয়: ০১৭৮৯৪২১৪৪৪, বার্তাকক্ষ : ০১৯১৩৫৫৫৩৭১। ই-মেইল: inextpr@gmail.com , (বিজ্ঞাপন), newsuddokta@gmail.com (বার্তাকক্ষ)