জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ের কার্যক্রম যাচাইয়ে নতুন অডিট শুরুর আগেই গ্রামীণফোনের স্থগিতের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। একই সঙ্গে সংস্থাটি গ্রামীণফোনকে চলমান অডিটে পূর্ণ সহযোগিতা, প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত, নথিপত্র এবং সিস্টেমে প্রবেশাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বিটিআরসি জানিয়েছে, এ অডিট ১৯৯৭ থেকে ২০১৪ সময়ের আগের অডিট থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ও স্বতন্ত্র, তাই এটি কোনো বিচারাধীন বিষয়ের আওতায় পড়ে না। গত রোববার বিটিআরসির উপপরিচালক মো. মঈদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং তা গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
এ কারণে চলমান অডিট কোনো বিচারাধীন (সাব-জুডিস) বিষয়ের আওতায় পড়ে না বলে মনে করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। ফলে অডিট কার্যক্রম স্থগিত রাখার পক্ষে গ্রামীণফোনের যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। বিটিআরসি জানিয়েছে, অডিটের পরিধি (স্কোপ অব অডিট), কার্যপরিধি (টার্মস অব রেফারেন্স-টিওআর) এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া এরই মধ্যে গ্রামীণফোনকে অবহিত করা হয়েছে। টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১ এবং মোবাইল অপারেটর লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী কমিশন যে কোনো সময় লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রক, আর্থিক ও কমপ্লায়েন্স অডিট পরিচালনা এবং অপারেটরদের কাছ থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্য চাওয়ার এবং বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারির ক্ষমতা রাখে, একজন লাইসেন্সধারী হিসেবে গ্রামীণফোন এ বিষয়ে অবগত।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বলেছে, অডিটের অংশ হিসেবে অপারেটরটির মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, শ্রম আইন পরিপালন এবং কর্মীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা প্রদানের বিষয়ও যাচাই করা হবে। বিশেষ করে মানবসম্পদ নীতিমালা বাংলাদেশের শ্রম আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, কর্মচারীদের প্রকৃতপক্ষে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কি না এবং তাদের প্রাপ্য সুবিধা যথাযথভাবে প্রদান করা হয়েছে কি না—এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হবে। বিটিআরসি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লাইসেন্সের শর্ত এবং বিদ্যমান আইন অনুসারে এ ধরনের তথ্য যাচাই করার পূর্ণ ক্ষমতা কমিশনের রয়েছে। এ অবস্থায় গ্রামীণফোনের আপত্তি নাকচ করে অডিট কার্যক্রমে পূর্ণ সহযোগিতা করতে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য, নথিপত্র ও সিস্টেম অ্যাকসেস জমা দিতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন এ নিরীক্ষা কার্যক্রমকে ঘিরে গত কয়েক মাস ধরে গ্রামীণফোন ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের মধ্যে চিঠি চালাচালি চলছিল। অপারেটরটির পক্ষ থেকে নিরীক্ষার পরিধি ও কিছু বিষয় নিয়ে আপত্তি জানিয়ে কার্যক্রম স্থগিতের আবেদন করা হলেও সর্বশেষ চিঠিতে কমিশন স্পষ্ট করেছে, আইন ও লাইসেন্সের বিধান অনুযায়ী নিরীক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং এ বিষয়ে অপারেটরকে সহযোগিতা করতেই হবে। এর আগে ১৮ মে তারিখে একটি সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সময়ের জন্য কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা নিরীক্ষা শুরুর আগেই এর পরিধি, আইনগত ভিত্তি, তথ্য যাচাইয়ের পদ্ধতি এবং নিরীক্ষকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে গ্রামীণফোন। চিঠিতে অপারেটরটি দাবি করে, কর ব্যবস্থা, বৈদেশিক মুদ্রা স্থানান্তর, শ্রম আইন, শেয়ার লেনদেন এবং মানবসম্পদ নীতিমালার মতো বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রক সংস্থার এখতিয়ারের বাইরে। একই সঙ্গে তারা নিরীক্ষা স্থগিত রেখে আলোচনায় বসার আহ্বান জানায়।
তবে বিটিআরসি শুরু থেকে বলে আসছিল, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন ও লাইসেন্স শর্ত অনুযায়ী যে কোনো সময় লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রক, আর্থিক ও কমপ্লায়েন্স অডিট করার পূর্ণ ক্ষমতা কমিশনের রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন অডিট নিয়ে গ্রামীণফোনের আপত্তির পেছনে পুরোনো অডিটের অভিজ্ঞতাও কাজ করছে। ১৯৯৭ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়ের ওপর পরিচালিত ইনফরমেশন সিস্টেম অডিটে গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি, আর্থিক অসংগতি ও লাইসেন্স শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে বিটিআরসি।
উক্ত অডিটের ভিত্তিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মিলিয়ে অপারেটরটির কাছে প্রায় ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা দাবি করা হয়। এর মধ্যে শুধু বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের দাবির পরিমাণই প্রায় ৮ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা। এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি এবং দীর্ঘদিন ধরে আইনি ও প্রশাসনিক বিরোধ চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অডিট প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতেই বিভিন্ন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। তাদের মতে, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন যে কোনো সময় লাইসেন্সধারীদের নিয়ন্ত্রক, আর্থিক ও পরিপালন অডিট পরিচালনার ক্ষমতা রাখে, যা গ্রামীণফোনের অজানা নয়। এ ছাড়া অডিটের সার্বিক কার্যপ্রণালি আগেই অপারেটরটিকে জানানো হয়েছে। তারপরও স্থগিতের আবেদনকে অডিট প্রক্রিয়া বিলম্বিত ও বাধাগ্রস্ত করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে কমিশন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: জোনায়েদ মানসুর, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫৬ পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। রেজিস্টার্ড : ২৯২ ভূইয়া পাড়া প্রধান সড়ক, খিলগাঁও, ঢাকা- ১২১৯। সম্পাদকীয়: ০১৭৮৯৪২১৪৪৪, বার্তাকক্ষ : ০১৯১৩৫৫৫৩৭১। ই-মেইল: inextpr@gmail.com , (বিজ্ঞাপন), newsuddokta@gmail.com (বার্তাকক্ষ)