নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে গতকাল সচিবালয়ে তার দপ্তরে ২০২১-২২ অর্থবছরের অডিট রিপোর্ট পেশ করেন মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলাম | ছবি : পিএমও
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ২০২১-২২ অর্থবছরের অডিট রিপোর্ট পেশ করেছেন মহাহিসাবনিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলাম। বুধবার বিকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এ অডিট রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ৩৮টি রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। এ রিপোর্টের (কমপ্লায়েন্স ও পারফরম্যান্স অডিট) ওপর প্রাপ্ত পর্যবেক্ষণ, সুপারিশ-সংক্রান্ত তথ্য প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করা ৩৮টি রিপোর্টের মধ্যে স্থান পেয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আলোচিত ‘বালিশকাণ্ডের’ দুর্নীতির প্রতিবেদন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, সংবিধানের অনুচ্ছেদ নম্বর ১২৮(১) এবং কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (অ্যাডিশনাল ফাংশন্স) অ্যাক্ট, ১৯৭৪-এর ধারা ৫ অনুযায়ী অডিট রিপোর্ট প্রণয়ন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন অধিদপ্তর, দপ্তর, প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের ওপর মোট ৩৮টি কমপ্লায়েন্স ও পারফরম্যান্স অডিট রিপোর্ট জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের আগে বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) পেশ করলেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে।
এ সময়ে সিএজিকে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে বিভিন্ন সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে এবং সরকার কর্তৃক বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্পগুলোর উদ্দেশ্য যথাযথভাবে অর্জিত হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কমপ্লায়েন্স অডিটের পাশাপাশি পারফরম্যান্স অডিট সম্পাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
রিপোর্ট পেশের সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পেশ করা সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ৩৮টি রিপোর্টের মধ্যে স্থান পেয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সেই আলোচিত ‘বালিশকাণ্ডের’ দুর্নীতির প্রতিবেদন।
২০১৯ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের ‘গ্রিন সিটি’ আবাসিক ভবনে আসবাব ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনাকাটায় অস্বাভাবিক মূল্য নিয়ে ‘বালিশকাণ্ড’ দুর্নীতি সামনে আসে। প্রতিটি বালিশ কেনায় ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং তা ওপরে তোলার খরচসহ অন্যান্য সামগ্রীতে কোটি টাকার জালিয়াতি হয়।
প্রধানমন্ত্রী প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার যে অডিট রিপোর্ট পেশ করেছেন, সেখানে বালিশকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদনও আছে।
প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী প্রতিবেদনে প্রতিটি বালিশের একরকম অবিশ্বাস্য দাম শুনে সিএজিকে বলেছেন, এ দামি বালিশের একটি জাদুঘরে রাখা উচিত।
‘বালিশকাণ্ড’ দুর্নীতির ওই প্রকল্পে আবাসিক ভবনের জন্য ১৬৯ কোটি টাকার কেনাকাটায় পদে পদে দুর্নীতি হয়। সেখানে প্রতিটি বালিশ কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। আর প্রতিটি বালিশ আবাসিক ভবনের খাটে তোলার মজুরি দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। কাভারসহ কমফোর্টারের (লেপ বা কম্বলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত) দাম ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৮০০ টাকা। যদিও এর বাজারমূল্য সাড়ে ৪ হাজার থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ১৩ হাজার টাকা। একইভাবে বিদেশী বিছানার চাদর কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৩৬ টাকায়। এর বাজারমূল্য অবশ্য ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা।
পিরোজপুরের সড়কগুলো দ্রুত যান চলাচলের উপযোগী করার নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পিরোজপুর জেলার সড়কগুলো দ্রুত মেরামত করে যান চলাচলের উপযোগী করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুম সাঈদী, পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলাল, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: জোনায়েদ মানসুর, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫৬ পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। রেজিস্টার্ড : ২৯২ ভূইয়া পাড়া প্রধান সড়ক, খিলগাঁও, ঢাকা- ১২১৯। সম্পাদকীয়: ০১৭৮৯৪২১৪৪৪, বার্তাকক্ষ : ০১৯১৩৫৫৫৩৭১। ই-মেইল: inextpr@gmail.com , (বিজ্ঞাপন), newsuddokta@gmail.com (বার্তাকক্ষ)