টানা লোকসানে থাকা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক হিসাবে সুদ ব্যয়ের অঙ্কে গড়মিল রেখে লোকসান কম দেখিয়েছে। ইসলাম কাজী শফিক এন্ড কো. চার্টার্ড একাউন্টস ফার্মের করা নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে
নিরীক্ষকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের বিপরীতে ৩৩ কোটি ২৮ লাখ টাকার সুদ ব্যয় কোম্পানি আয় বিবরণীতে (ইনকাম স্টেটমেন্ট) অন্তর্ভুক্ত না করে সংরক্ষিত মুনাফার (রিটেইনড আর্নিংস) সঙ্গে সমন্বয় করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বরের এক নির্দেশনা অনুযায়ী, এ ধরনের সমন্বয়ের সুযোগ নেই।
এর ফলে কোম্পানিটি একই সঙ্গে সংরক্ষিত মুনাফা ৩৩.২৮ কোটি টাকা বেশি এবং সমপরিমাণ ঋণ কম দেখিয়েছে। সুদ ব্যয় আয় বিবরণীতে না দেখানোয় লোকসানের অঙ্কও কমে গেছে।
কোম্পানির হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান দেখানো হয়েছে ১৮ পয়সা। কিন্তু নিরীক্ষকের হিসাবে প্রকৃত লোকসান শেয়ারপ্রতি ৬ টাকা ১৩ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি ৫ টাকা ৯৫ পয়সা কম লোকসান দেখানো হয়েছে। একই কারণে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদও ৫.৯৫ টাকা বেশি দেখানো হয়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ জুন শেষে কোম্পানি শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ দেখিয়েছে ২৪ টাকা ৭৭ পয়সা।
প্রাইম ব্যাংকের কাছে কোম্পানি ১৭ কোটি ২০ লাখ টাকার ঋণ দেখালেও নিরীক্ষকের চিঠির জবাবে ব্যাংক জানিয়েছে, তাদের পাওনা ৯৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। অর্থাৎ ৬৮ কোটি ২৭ লাখ টাকার পার্থক্য রয়েছে। এ অর্থের বিপরীতে কোনো সঞ্চিতি গঠন করা হয়নি। এতে শেয়ারপ্রতি ১২ টাকা ২০ পয়সা সম্পদ বেশি দেখানো হয়েছে।
একইভাবে ওয়ান ব্যাংকের ক্ষেত্রে কোম্পানি ৬২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ঋণ দেখালেও ব্যাংকের হিসাবে পাওনা ৬৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার এই পার্থক্যের বিপরীতেও কোনো সঞ্চিতি রাখা হয়নি। এতে শেয়ারপ্রতি ২৮ পয়সা সম্পদ বেশি দেখানো হয়েছে।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানি গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩২ কোটি ৫১ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ২০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, অর্থাৎ ৬৪ শতাংশই নগদে আদায় করা হয়েছে। এত বেশি নগদ লেনদেন ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন নিরীক্ষক।
কারখানা ভবন নির্মাণে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান কিউব ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডকে ৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা নগদ পরিশোধের বিষয়টিও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া তিতাস গ্যাসের কাছে কোম্পানির ৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকার দায় রয়েছে, যা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকার পণ্য বিক্রির বিপরীতে মাত্র ৮ কোটি ১৪ লাখ টাকার (২১ শতাংশ) গ্রে ফেব্রিক ব্যবহার করা হয়েছে। ওই বছরে কোম্পানিটির কোনো রপ্তানি হয়নি।
এ বিষয়ে বালাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, নিরীক্ষকের মতামতসহ তালিকাভুক্ত কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদন কমিশনে জমা পড়ে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ তা পর্যালোচনা করে। কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ১৯৯৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে কোম্পানিটি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৫৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৩৬ দশমিক ২৫ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ১৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ আর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৪৮ দশমিক ২২ শতাংশ শেয়ার। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) শেয়ারটি ১৪ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: জোনায়েদ মানসুর, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫৬ পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। রেজিস্টার্ড : ২৯২ ভূইয়া পাড়া প্রধান সড়ক, খিলগাঁও, ঢাকা- ১২১৯। সম্পাদকীয়: ০১৭৮৯৪২১৪৪৪, বার্তাকক্ষ : ০১৯১৩৫৫৫৩৭১। ই-মেইল: inextpr@gmail.com , (বিজ্ঞাপন), newsuddokta@gmail.com (বার্তাকক্ষ)