আশফাকুজ্জামান চৌধুরীর মৃত্যু
উদ্যোক্তা বাংলাদেশ ডেস্ক: রাজধানীর গুলশানে নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে রড পড়ে বেসরকারি কোম্পানির এক কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনায় কনকর্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় তদন্তে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার তিন দিন পর রোববার পুলিশ জানায়, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং রডটি কোথা থেকে ও কীভাবে পড়ে গেছে তা নির্ধারণে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
গুলশানের ১৪০ নম্বর সড়কের ২২ নম্বর ভবনের সামনের ফুটপাথে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলার সময় বেসরকারি কোম্পানির কর্মকর্তা আশফাকুজ্জামান চৌধুরী (৪৫) দুর্ঘটনার শিকার হন। হঠাৎ ওপর থেকে পড়ে আসা একটি রডের টুকরা তার মাথায় বিদ্ধ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত আশফাকুজ্জামান চৌধুরীর শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম তালুকদার ওই দিন মধ্যরাতে গুলশান থানায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ভবনটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কনকর্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার কামাল, চেয়ারম্যান এস এম কামাল উদ্দিন, প্রজেক্ট ইনচার্জ আল আমিনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০–১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গুলশান বিভাগের উপ কমিশনার রওনক আলম বলেন, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। রডটি কোথা থেকে এসে পড়েছে, কার দুর্বলতা আছে সেসব বিষয়সহ সিসি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। কনকর্ড গ্রুপ এ ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকার দাবি করে বলেছে, একটি পক্ষ তাদের প্রতিষ্ঠানের ওপর ‘মিথ্যা দায়’ চাপানোর চেষ্টা করছে।
নিহতের শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম এজাহারে উল্লেখ করেন, তার জামাতা আশফাকুজ্জামান চৌধুরী এক সহকর্মীর সঙ্গে গুলশানের ক্রিস্টাল প্লেস ভবনের সামনের ফুটপাথে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় রাস্তার অপর পাশে ১৪০ নম্বর সড়কের ১ নম্বর প্লটে কনকর্ড গ্রুপের নির্মাণাধীন ২৫ তলা ভবনের কাজ চলছিল। সেখানে যথাযথ ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে ওপর থেকে একটি রড পড়ে তার মাথায় বিদ্ধ হয় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।এজাহারে আরও বলা হয়, এটি চরম দায়িত্বে অবহেলা ও অপরাধমূলক গাফিলতির ঘটনা, যার দায় কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না এবং যা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য।
বাদীর অভিযোগ, মামলায় কনকর্ড গ্রুপের যে তিনজনের নাম দেওয়া হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ গত তিন দিনেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তিনি বলেন, আমার একমাত্র মেয়ের জামাতার মৃত্যুতে পুরো পরিবার হতভম্ব। অল্প বয়সে বিধবা হল। ১১ বছরের এক নাতনি আছে। লেখাপড়া করে। এখন এই পরিবারের দায়িত্ব কে নেবে? ভবন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের এমন অবহেলার ঘটনায় যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া দাবি জানান তিনি।
ঘটনার তদন্তে যুক্ত গুলশান থানার এসআই আজিজ মাহমুদ জানান, আশফাকুজ্জামান যে ভবনের নিচে দাঁড়িয়ে ছিলেন তার ঠিক বিপরীত পাশে সড়কের ধারে কনকর্ড গ্রুপের নির্মাণাধীন ভবনটি অবস্থিত, যেখানে তখন রডের কাজ চলছিল। প্রাথমিক তদন্তে আশপাশের অন্য কোনো ভবনে রডের কাজ চলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, যে ভবনের নিচে আশফাকুজ্জামান অবস্থান করছিলেন সেখানে কোনো রডের কাজ হচ্ছিল না; সেখানে শ্রমিকরা কেবল গ্লাস পরিষ্কারের কাজ করছিলেন।
এসআই আজিজ মাহমুদ জানান, রডটি ঠিক কোথা থেকে এসে আশফাকুজ্জামানের মাথায় পড়ে তা নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে কনকর্ড গ্রুপের ওই নির্মাণাধীন ভবনের প্রজেক্ট ইনচার্জ আল আমিনকে পাওয়া যাচ্ছে না এবং তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করছেন বলেও জানান তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: জোনায়েদ মানসুর, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫৬ পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। রেজিস্টার্ড : ২৯২ ভূইয়া পাড়া প্রধান সড়ক, খিলগাঁও, ঢাকা- ১২১৯। সম্পাদকীয়: ০১৭৮৯৪২১৪৪৪, বার্তাকক্ষ : ০১৯১৩৫৫৫৩৭১। ই-মেইল: inextpr@gmail.com , (বিজ্ঞাপন), newsuddokta@gmail.com (বার্তাকক্ষ)