#৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
বহুজাতিক কোম্পানির পরিবেশক। পরিবেশকের সঙ্গে চুক্তির শর্ত ছিলো, ওই বহুজাতিক কোম্পানির সব পণ্য বাজারজাত করবে। তবে নষ্ট, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ড্যামেজড হলে তা ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু প্রায় ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকার পণ্য নষ্ট, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ড্যামেজড হলেও তা ফেরত বা ক্ষতিপূরণ দেয়নি। ক্ষতিপূরণ চাইলে পরিবেশকের উল্টো ক্ষতি করতে বাজারে কোম্পানির কম বিক্রিত পণ্য বেশি কিনতে বাধ্য করা হয়। যাতে ওই পরিবেশকের উল্টো প্রায় এক কোটি ৬৭ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিপূরণ চাইলে ওই পরিবেশককে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। এই নিয়ে পরিবেশক আদালতে মামলা করে। আদালত সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
সিআইডির তদন্তে বহুজাতিক কোম্পানির শর্ত ভঙ্গ করে ওই পরিবেশকের প্রায় ৮ কোটি ৫৩ লাখ আর্থিক ক্ষতি, পরিবেশককে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর প্রমাণ পাওয়া যায়। আলোচিত এই বহুজাতিক কোম্পানি হলো ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড। আর পরিবেশক হলো ‘মাসুদ এন্ড ব্রাদার্স’। সিআইডির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রতারণা ও বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগে ইউনিলিভারের উর্ধ্বতন ৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত মামলার শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
পাঁচ কর্মকর্তা হলেন- ইউনিলিভার বাংলাদেশের সেন্ট্রাল সাউথ ক্লাস্টার প্রধান সৈয়দ জিকরুল বিন জমির, ওয়ারীর সিনিয়র টেরিটরি ম্যানেজার এম সোয়াইব কামাল, সেন্ট্রাল সাউথ রিজিওনের এরিয়া ম্যানেজার কাওসার মাহমুদ চৌধুরী, কনজুমার কেয়ারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ নাহারুল ইসলাম মোল্লা এবং ফাইন্যান্স ডিরেক্টর জিন্নিয়া হক।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জাহিদুল ইসলাম হিরণ জানিয়েছেন, প্রতারণা ও অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগে গত বছরের ৭ আগস্ট ইউনিলিভার বাংলাদেশের পরিবেশক ‘মাসুদ এন্ড ব্রাদার্স’এই মামলাটি দায়ের করে। আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্ত করে সিআইডি। তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম গত ৫ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন।
মামলা ও তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ৩ নভেম্বর ওয়ারী, মানিকনগর, সদরঘাট, নবাবপুর রোড, মালিবাগ, শ্যামপুর ও মতিঝিল এলাকায় ইউনিলিভারের পরিবেশক হিসেবে ‘মাসুদ এন্ড ব্রাদার্স’-এর সঙ্গে চুক্তি সই হয়। চুক্তিপত্রে বাদী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তৎকালীন মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এস এম মাসুদুর রহমান ও ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের পক্ষে কাস্টমার ডেভলপমেন্ট ডিরেক্টর মিজানুর রশিদ সই করেন। চুক্তি অনুযায়ী বাদী প্রতিষ্ঠান মাসুদ এন্ড বাদার্স লাক্স, ডাভ, সানসিল্ক, ফেয়ার অ্যান্ড লাভলিসহ ইউনিলিভারের ২৫০টির বেশি পণ্য নির্ধারিত এলাকায় বাজারজাত করত। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ২৮ জানুয়ারি চুক্তি নবায়ন করা হয়।
পরিবেশক হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাদী প্রতিষ্ঠান গোডাউন ভাড়া, পরিবহন ব্যবস্থা ও জনবল নিয়োগসহ বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে। অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে সরবরাহ করা পণ্যের মধ্যে বিপুল পরিমাণ নষ্ট, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ড্যামেজড পণ্য ইউনিলিভারের কাছে ফেরত দেওয়া হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, এসব পণ্যের পরিবর্তে নতুন পণ্য সরবরাহ বা অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও বারবার তাগাদা সত্ত্বেও তা করা হয়নি। এতে বাদী প্রতিষ্ঠান বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। পাশাপাশি অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অবাস্তব বিক্রয় লক্ষ্য নির্ধারণ এবং বাজারে কম বিক্রিত পণ্যের অতিরিক্ত সরবরাহের মাধ্যমে বিক্রয় কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা হয়, যার ফলে ২০২০ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৬৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নষ্ট ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যের মূল্য পরিশোধ না করে নতুন পরিবেশক নিয়োগের মাধ্যমে আসামিরা মোট ৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধন করেছেন। এ ছাড়া বাদী প্রতিষ্ঠানকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট পাঁচ কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা, অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ ও ভয়ভীতির মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেছেন— এমন প্রমাণ পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের সুপারিশ করা হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: জোনায়েদ মানসুর, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫৬ পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। রেজিস্টার্ড : ২৯২ ভূইয়া পাড়া প্রধান সড়ক, খিলগাঁও, ঢাকা- ১২১৯। সম্পাদকীয়: ০১৭৮৯৪২১৪৪৪, বার্তাকক্ষ : ০১৯১৩৫৫৫৩৭১। ই-মেইল: inextpr@gmail.com , (বিজ্ঞাপন), newsuddokta@gmail.com (বার্তাকক্ষ)