
বিশেষ প্রতিনিধি : বীমা খাতকে নিরাপদ আর সুশৃঙ্খল রাখার জন্য কঠোর আইন–প্রবিধান থাকলেও, বাস্তবে অনেক কোম্পানিই ইচ্ছে মতো বিনিয়োগ করছে, আয়ের হিসাব গোপন করছে, আবার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পাওনাও বছরের পর বছর শোধ করছে না। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ঠিক তেমনই একটি উদাহরণ, যার বিরুদ্ধে সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ না করা থেকে শুরু করে বিশেষ নিরীক্ষায় অনিয়ম ও সাধারণ বীমা করপোরেশনের (এসবিসি) টাকা বকেয়া রাখার মতো একাধিক অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। সিকিউরিটিজ বন্ডে বিনিয়োগের বাধ্যবাধকতা, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের চোখ রাঙানি। নন-লাইফ বীমাকারীর সম্পদ বিনিয়োগ ও সংরক্ষণ প্রবিধানমালা, ২০১৯-এর ৪ নং ধারায় সোজা ভাষায় বলা আছে, নন-লাইফ বীমা কোম্পানিকে মোট বিনিয়োগযোগ্য সম্পদের কমপক্ষে ৭.৫০% সরকারি সিকিউরিটিজ বন্ডে বিনিয়োগ করতেই হবে। বাকি অংশ নির্ধারিত আরও ৯টি খাতে নির্দিষ্ট সীমার ভেতরে বিনিয়োগের সুযোগ আছে। কারণ সরকারি সিকিউরিটিজ বন্ড হলো-সবচেয়ে নিরাপদ, দীর্ঘমেয়াদে স্থিতি শীল রিটার্ন-দাতা, আর্থিক স্থিতিশীলতার এক ধরনের গ্যারান্টি। https://banglargourab.com/archives/7395
কিন্তু বাস্তব ছবিটা ঠিক উল্টো। এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সসহ একাধিক কোম্পানির আইন লঙ্ঘন, আইডিআরএ’র বিনিয়োগসংক্রান্ত তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, বেসরকারি খাতের বেশ কিছু নন-লাইফ কোম্পানি আইন মানেনি। সরকারি সিকিউরিটিজ বন্ডে বিনিয়োগের শর্ত ভেঙেছে যেসব কোম্পানি, তাদের মধ্যে রয়েছে-ইস্টার্ণ ইন্স্যুরেন্স, নর্দার্ন জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স, পিপলস ইন্স্যুরেন্স, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স, ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। কোনো কোম্পানি পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করেনি, কেউ বা একেবারেই করেনি। বিনিয়োগ ও সম্পদ সংরক্ষণ নিয়ে ২০২৩ সালের বিভিন্ন সময় মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই করে আইডিআরএ’র তদন্ত দল এসব প্রতিবেদন তৈরি করে।
এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স- কাগজে বিনিয়োগ, বাস্তবে ‘নিজের পকেটে’: এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের সরকারি সিকিউরিটিজ বিনিয়োগের কাগুজে হিসাব আরও উদ্বেগজনক। সরকারি সিকিউরিটিজ বন্ডে মোট বিনিয়োগ ৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধনই দেখানো হয়েছে বিনিয়োগ হিসেবে। অর্থাৎ আসল অর্থে প্রকৃত বিনিয়োগ মাত্র ৫০ লাখ টাকা। এই ৫০ লাখ টাকা কোম্পানির মোট বিনিয়োগযোগ্য সম্পদের মাত্র ০.৫৯%। অথচ আইন বলছে, এ হার হতে হবে কমপক্ষে ৭.৫%। তথ্য পাওয়া গেছে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এখানে প্রশ্নগুলো খুবই সরল, কিন্তু জবাব অত্যন্ত অস্বস্তিকরÑপরিশোধিত মূলধনের টাকা-ই যদি ‘বিনিয়োগ’ হিসেবে দেখানো হয়, তাহলে কোম্পানির ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কোথায়? গ্রাহকের প্রিমিয়াম থেকে সংগৃহীত অর্থকে কি নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগ না করে অন্যত্র বেশি ঝুঁকি ও লাভের লোভে ব্যবহার করা হচ্ছে? আর যদি তা-ই হয়, তবে ক্ষতির ঝুঁকি কে বহন করবে—গ্রাহক না শেয়ারহোল্ডার? আইন কী বলে, আর নিয়ন্ত্রক কতটা কঠোর? https://www.uddoktabangladesh.com/2025/12/09/6965/
বীমা আইন ২০১০–এর ৪১ ধারা সম্পদ বিনিয়োগ নিয়ে স্পষ্ট। এই বিধান ভাঙলে—আইনের ১৩২ ধারা অনুযায়ী, কোম্পানিকে অনধিক ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা যায়। এছাড়া—১৩০ ধারা অনুযায়ী-সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানা, আর লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলে প্রতিদিন অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করা যেতে পারে। ১৩৪ ধারা অনুসারে, যারা এ বিধান ভাঙার সঙ্গে সরাসরি জড়িত, তাদের প্রত্যেককে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত পৃথক জরিমানা করা সম্ভব। প্রবিধানমালার এই অস্পষ্টতা নয়, বরং প্রয়োগের দুর্বলতা নিয়েই বেশি কথা বলছেন খাত-সংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষায়, “আইন আছে, ক্ষমতাও আছে, কিন্তু প্রয়োগ নেই। তাই কোম্পানিগুলো বছরের পর বছর সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ না করেই চলছে।” এর আগে সম্পদ বিনিয়োগ বিধি লঙ্ঘন করায় ৪টি নন-লাইফ কোম্পানিকে প্রতি কোম্পানি ৫ লাখ করে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে আইডিআরএ। কিন্তু পুনরাবৃত্ত অনিয়ম দেখে মনে হচ্ছে, এই জরিমানা কোম্পানির জন্য ‘খরচের একটি অংশ’ ছাড়া আর কিছুই নয়। বিশেষ নিরীক্ষায় ধরা পড়া অনিয়ম, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা। শুধু সিকিউরিটিজ বিনিয়োগ নয়, বিশেষ নিরীক্ষায়ও এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে উঠে এসেছে নানা অনিয়মের তথ্য। ২০২১ সালের বিশেষ নিরীক্ষা, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জরিমানা, আইডিআরএ ২০২১ সালে ১০টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানিতে বিশেষ নিরীক্ষক নিয়োগ করে। নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজ ছিল বীমা কোম্পানি পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৯টি বড় খাত খতিয়ে দেখা। এই বিশেষ নিরীক্ষার ভিত্তিতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নেওয়া হয় শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত। আইডিআরএ’র ওয়েবসাইটে ২০২৪ সালের ১৩ জুন প্রকাশিত ‘২০২৩-২৪ অর্থবছরে ধার্যকৃত জরিমানার বিস্তারিত’ নথি অনুযায়ী, ৮টি নন-লাইফ কোম্পানিকে মোট জরিমানা ধার্য করা হয় ৩৩ লাখ ৫১ হাজার ৪৩০ টাকা। এ তালিকায় থাকা কোম্পানিগুলো হলো-মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স। এর মধ্যে এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সকে এককভাবে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার তারিখ: ২৮ নভেম্বর ২০২৩। জরিমানা পরিশোধের তারিখ: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩। অর্থাৎ, অভিযোগ অস্বীকার না করে আইডিআরএ’র নিরীক্ষা ও শুনানির পর কোম্পানি টাকা পরিশোধ করেছে। কিন্তু, কী ধরনের অনিয়ম করেছে তারা। এসব অনিয়মের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শেয়ারহোল্ডার ও সাধারণ গ্রাহককে কি কিছু জানানো হয়েছে। এসব প্রশ্নের একটিতেও এখনো সন্তোষজনক জবাব মেলেনি।
এসবিসি’র ১৪ কোটি টাকা বকেয়া: রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পাওনা আটকে রাখার অভিযোগ : বীমা খাতে পুনঃবীমা (রিইনস্যুরেন্স) ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলোÑঝুঁকি ভাগাভাগি। বাংলাদেশে এই খাতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সাধারণ বীমা করপোরেশন (এসবিসি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়ম অনুযায়ী-নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোকে তাদের ঝুঁকির শতভাগ পুনঃবীমা করতে হয়। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ পুনঃবীমা বাধ্যতামূলকভাবে এসবিসি’র কাছে করতে হয়। বাকি ৫০ শতাংশ ইচ্ছা করলে বিদেশি বা অন্য পুনঃবীমাকারীর কাছে করা যায়। কিন্তু ঝুঁকি ভাগাভাগির এই ব্যবস্থার টাকা ফেরত দিতে খুব একটা আগ্রহী নয় অনেক কোম্পানি। সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও টাকা শোধ নয়। নিয়ম অনুযায়ী, পুনঃবীমা প্রিমিয়ামের টাকা ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এসবিসি’কে পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু ২০১৯ সালের ১৫ জুলাই পর্যন্তও তা পরিশোধ করেনি বেশ কিছু নন-লাইফ কোম্পানি। এই পাওনা আদায়ে এসবিসি অভিযোগ করে আইডিআরএ’র কাছে। কিন্তু তাতেও খুব একটা পরিবর্তন হয়নি পরিস্থিতিতে—এমন অভিযোগ উঠেছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটির ভেতর থেকেই। এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের বকেয়া ১৪ কোটি টাকার বেশি। ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের কাছে এসবিসি’র বকেয়া প্রিমিয়াম ১৪ কোটি ৫৩ লাখ ৩৮ হাজার ৯৯১ টাকা। অর্থাৎ-ঝুঁকি ভাগাভাগির সুবিধা নিয়ে ব্যবসা করেছে কোম্পানি, কিন্তু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পাওনা অর্থ সময়মতো পরিশোধ করেনি, এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে-এসবিসি’র নিজস্ব আর্থিক স্থিতি, সরকারি কোষাগার এবং পরোক্ষভাবে সাধারণ জনগণের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা। খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, এসবিসির পাওনা বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখা মানেÑরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি ইচ্ছাকৃত আর্থিক অবহেলা, পুনঃবীমা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ, ও খাতের নৈতিক মানদণ্ড ভেঙে ফেলা।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায় কোথায় দাঁড়ায়: এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে-সরকারি সিকিউরিটিজ বন্ডে বিনিয়োগ না করা বা কম করা, বিশেষ নিরীক্ষায় নানা অনিয়মে প্রমাণিত হয়ে জরিমানা গোনা, এসবিসি’র কাছে কোটি কোটি টাকার বকেয়া রেখে দেওয়া, এসবই কোনো গুঞ্জন নয়Ñআইডিআরএ’ই নিজেই প্রকাশ করেছে এই তথ্য ও জরিমানার প্রক্রিয়া। খাত বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন এখন পরিষ্কার-বারবার জরিমানা গুনে কোম্পানি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু গ্রাহকের সুরক্ষা কোথায়? বিনিয়োগকারীর আস্থা ফিরবে কীভাবে? আইডিআরএ আইন অনুযায়ী শুধু জরিমানা নয়-পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে, সিইও বদলাতে বলতে পারে, এমনকি লাইসেন্স স্থগিত পর্যন্ত করতে পারে। এসব কঠোর হাতিয়ার ব্যবহার হচ্ছে না কেন? একাধিক খাতে ধারাবাহিক অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ার পরও এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের মতো কোম্পানিগুলো বাজারে সাধারণ মানুষের টাকায় ব্যবসা করে যাচ্ছেÑএতে কি ‘নিয়ন্ত্রক নীরবতা’ও দায়মুক্ত থাকতে পারে?
গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীর জন্য বার্তা : এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের কাগজে-কলমে প্রিমিয়াম, বিনিয়োগ, জরিমানা আর বকেয়ার এই সব হিসাব শেষ পর্যন্ত গিয়ে ঠেকে এক জায়গায়Ñআপনার দেওয়া প্রিমিয়াম, আপনি ভেবে নিচ্ছেন নিরাপদÑবাস্তবে তা কতটা সুরক্ষিত? সরকারি সিকিউরিটিজ বন্ডে বাধ্যতামূলক বিনিয়োগ না করা, বিশেষ নিরীক্ষায় অনিয়ম প্রমাণিত হওয়া, এসবিসি’র কাছে কোটি টাকার বকেয়া রেখে দেওয়াÑসব মিলে এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক শৃঙ্খলা ও সুশাসন এখন বড় প্রশ্নের মুখে। এখন দরকারÑস্বচ্ছ তদন্তের ফলাফল জনসম্মুখে প্রকাশ, দায়িত্বশীলদের ব্যক্তিগত দায় নির্ধারণ, এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থাÑনা হলে বীমা খাতে আস্থা পুনর্গঠনের সব প্রচেষ্টাই থেকে যাবে কাগজের পাতায়, আর গ্রাহকের ‘বীমা’ হয়ে উঠবে তার নিজেরই আর্থিক ঝুঁকি।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বদিউজ্জামান লস্করের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা হয়। হোয়াটসঅ্যাপ ফোন ও বার্তা পাঠানো হয়। অবশেষে ফোনে সন্ধান মেলে হাসপাতালে, জানান হাসপাতালে আছি। পরে কথা বলব। পরে অনেক যোগোযোগ করলেও তিনি কথা কোনো মাধ্যমে যোগাযোগ করেননি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: জোনায়েদ মানসুর, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫৬ পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। রেজিস্টার্ড : ২৯২ ভূইয়া পাড়া প্রধান সড়ক, খিলগাঁও, ঢাকা- ১২১৯। সম্পাদকীয়: ০১৭৮৯৪২১৪৪৪, বার্তাকক্ষ : ০১৯১৩৫৫৫৩৭১। ই-মেইল: inextpr@gmail.com , (বিজ্ঞাপন), newsuddokta@gmail.com (বার্তাকক্ষ)