
উদ্যোক্তা বাংলাদেশ: আপনাকে স্বাগত জানিয়ে বলছি। বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে যোগদানের পর থেকে ব্যাংকের কোন কোন সূচকে বিশেষ অগ্রগতি হয়েছে?
মহসিন মিয়া: ধন্যবাদ। আমাদের আমানত ও হিসাবধারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রাহক আস্থা বাড়ায় গত আট মাসে আমানত ৭৭১ কোটি টাকারও বেশি বেড়েছে এবং গ্রাহকের সংখ্যা ৬০ হাজারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আমানত বৃদ্ধি মানেই গ্রাহকদের আস্থা এবং নিরাপত্তা রয়েছে বলেই আমি মনে করি। খেলাপি ঋণ আদায়েও গুরুত্ব অধিক রেখেছি। যা ব্যাংকের আর্থিক সুস্থতার জন্য জরুরি। আমরা এটাও জোর দিয়ে বলি, খেলাপি ঋণ বর্তমান বোর্ড আসার পর থেকে বাড়েনি, সবই পুরানো ঋণ ছিল।
উদ্যোক্তা বাংলাদেশ: দেশের ব্যাংক খাত নানা চ্যালেঞ্জে রয়েছে। বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?
মহসিন মিয়া: আমরা ব্যাংকের দুর্বলতা চিহ্নিত করে খুঁজে বের করছি এবং গ্রাহকের সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য কাজ করছি। বিশেষ করে ট্রেড অপারেশন অটোমেশন এবং কর্পোরেট ব্যাংকিংয়ে নতুন সেবা চালু করা হয়েছে। নিরাপদ ও নির্ভুল সেবা নিশ্চিত করতে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক ব্যাংকে রূপান্তরিত করার কাজ চলছে।
উদ্যোক্তা বাংলাদেশ: ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বেশী ব্যাংক গ্রাহকের অর্থ ফেরত দিতে পারেনি, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের সাফল্যের রহস্য কী?
মহসিন মিয়া: অন্য ব্যাংকের তুলনায় আমাদের অবশ্যই নিরাপত্তা ও লিকুইডিটির ভালো অবস্থান রয়েছে। গ্রাহকের টাকা ফিরিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে আমরা কোনো ছুঁতোয়ড়া ছাড়িনি। এই কারণে আমাদের প্রতি গ্রাহকের আস্থা বেড়েছে এবং আমানতও বেড়েছে।
উদ্যোক্তা বাংলাদেশ: খেলাপি ঋণ আদায়ে আইনের জটিলতার কথা শুনেছি, এখানে ব্যাংক কীভাবে এগোচ্ছেন?
মহসিন মিয়া: আইনি জটিলতা রয়েছে, যা কিছু সময় নেবে ভাঙতে। তবুও আমরা খেলাপি ঋণ আদায়ে যথাসম্ভব কঠোর উদ্যোগ নিয়েছি। নতুন বোর্ড আসার পর খেলাপির পরিমাণ বাড়েনি, আমরা পুরানো ঋণ আদায়ে নজর দিচ্ছি।
উদ্যোক্তা বাংলাদেশ: ডিজিটাল ব্যাংকিং আর কর্পোরেট সেবায় ব্যাংক কী ধরনের পরিবর্তন এনেছে?
মহসিন মিয়া: আমরা ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ আজকের গ্রাহক ঘরে বসে ব্যাংকিং করতে পছন্দ করেন। ডিজিটাল দক্ষতার ওপর ব্যাংকের অগ্রগতি অনেকটাই নির্ভর করছে।
উদ্যোক্তা বাংলাদেশ:সিএমএসএমই খাতে ব্যাংকের ভূমিকা ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে বলুন।
মহসিন মিয়া: ছোট ও মাঝারি উদ্যোগগুলো দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। আমরা সুত্রধরিত ঋণ প্রদান করছি, প্রান্তিক ও ভালো ব্যবসায়ীদের গুরুত্ব দিচ্ছি এবং বুঝে-শুনে ঋণ দিচ্ছি। ঝুঁকি বিবেচনায় সাবধানে কাজ করছি।
উদ্যোক্তা বাংলাদেশ:লোকসান করছেন এমন শাখাগুলোর অবস্থার বিষয়ে কী পরিকল্পনা?
মহসিন মিয়া: আমরা লোকসান শাখাগুলোকে লাভবান করার পরিকল্পনা নিচ্ছি এবং আশা করি আগামী ৬ মাসের মধ্যে এসব শাখা লাভে ফরতে পারবে।
উদ্যোক্তা বাংলাদেশ: বর্তমানে পরিচালনা পর্ষদ ও কর্পোরেট সুশাসনের অবস্থা কেমন?
মহসিন মিয়া: আমাদের পর্ষদ খুবই দক্ষ, সবাই শতভাগ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছে। সুশাসন বজায় রাখা আমাদের মূল লক্ষ্য।
উদ্যোক্তা বাংলাদেশ:সরকারি অংশীদারিত্বের কারণে গ্রাহকদের জন্য কী নিরাপত্তা রয়েছে?
মহসিন মিয়া: সরকার তথা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ৫১% মালিকানা রয়েছে, তাই গ্রাহকদের আমানত শতভাগ নিরাপদ।
উদ্যোক্তা বাংলাদেশ:ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও দেশের অর্থনীতিতে ব্যাংকের অবদান কী হবে?
মহসিন মিয়া: আমরা গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডে ব্যাংকিং সেবা উন্নত করছি। ডিজিটাল ব্যাংকিং, রেমিট্যান্স, আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি সহ সিএমএসএমই ও কর্পোরেট খাতকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছি। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর প্রত্যয়ে কাজ চালিয়ে যাব।
উদ্যোক্তা বাংলাদেশ:এফবিসিসিআইয়ের নেতৃত্বশূন্যতা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হয়, আপনার মতামত কী?
মহসিন মিয়া: দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন। ব্যবসায়িক পরিবেশ সচল রাখতে সক্রিয় নেতৃত্ব অত্যন্ত জরুরি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: জোনায়েদ মানসুর, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫৬ পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। রেজিস্টার্ড : ২৯২ ভূইয়া পাড়া প্রধান সড়ক, খিলগাঁও, ঢাকা- ১২১৯। সম্পাদকীয়: ০১৭৮৯৪২১৪৪৪, বার্তাকক্ষ : ০১৯১৩৫৫৫৩৭১। ই-মেইল: inextpr@gmail.com , (বিজ্ঞাপন), newsuddokta@gmail.com (বার্তাকক্ষ)